শুধু সনদ প্রদানের জন্য বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় (বাউবি) প্রতিষ্ঠা করা হয়নি, বরং সবার জন্য শিক্ষার সুযোগ সৃষ্টি করা এবং তাদের দক্ষ করে তোলার লক্ষ্যেই এ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে আধুনিক করে তোলার ধারাবাহিকতায় বাউবিকে আরো যুগোপযোগী করা হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী এহছানুল হক মিলন।
বুধবার বাউবির ৩৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, অনেকের শিক্ষাজীবন শুরু হয়, কিন্তু নানা কারণে তা শেষ করতে পারেন না। তাদের লেখাপড়ায় উদ্বুদ্ধ করতে হবে এবং সুযোগ সৃষ্টি করে দিতে হবে। আর এটাই উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল দায়িত্ব।
তিনি বলেন, শিক্ষাকে আরো সহজলভ্য ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করতে বিএনপির সাবেক চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া বাউবি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। এর ফলে শিক্ষাজীবনে অনিয়মিত শিক্ষার্থীরাও বয়সের বাধা পেরিয়ে শিক্ষার সুযোগ পাচ্ছেন। উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়কে কীভাবে আরও আধুনিক ও উন্নত করা যায়, সে বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
দেশের জনসংখ্যাকে দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তর করতে সরকার কারিগরি ও বৃত্তিমূলক (টিভেট) শিক্ষায় গুরুত্বারোপ করেছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ‘সে লক্ষ্যে সম্প্রতি আমরা “বেইজিং এগ্রিমেন্ট” স্বাক্ষর করেছি। এর ফলে চীনের সঙ্গে দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা বিনিময় করে এ খাতে আমরা আরও এগিয়ে যেতে পারব।
অনুষ্ঠান শেষে মন্ত্রী বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালিত ‘ইনস্টিটিউট অব টেকনিক্যাল অ্যান্ড ভেকেশনাল এডুকেশন অ্যান্ড ট্রেনিং (আইটিভেট)’-এর শিক্ষা কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ছিদ্দিকুর রহমান খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ ও গাজীপুরের জেলা প্রশাসক মো. নুরুল করিম ভূঁইয়া।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ও ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. আনোয়ারউল্লাহ চৌধুরী অনুষ্ঠানে মূল আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে পরীক্ষায় কৃতিত্বপূর্ণ ফলাফলের জন্য ৯ জন শিক্ষার্থীকে ডিনস অ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হয়। মন্ত্রী তাদের হাতে সনদ ও ক্রেস্ট তুলে দেন।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


