কাঁদতে আসিনি, বিচারের দাবি নিয়ে এসেছি: মাসুমা হাদি

প্রতিনিধি, ববি

কাঁদতে আসিনি, বিচারের দাবি নিয়ে এসেছি: মাসুমা হাদি

‘আমরা এখানে কাঁদতে আসিনি, বিচারের দাবি নিয়ে এসেছি। শুধু দাবি নয়, বিচার নিয়েই ঘরে ফিরবো’—এমন মন্তব্য করেছেন জুলাই যোদ্ধা ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরীফ ওসমান হাদির ছোট বোন শরীফ মাসুমা হাদি।

বৃহস্পতিবার (৭মে) দুপুরে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) প্রধান ফটকের সামনে শহীদ ওসমান হাদি হত্যার বিচারহীনতার প্রতিবাদে আয়োজিত সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিলে তিনি এসব কথা বলেন।

বিজ্ঞাপন

সমাবেশে মাসুমা হাদি বলেন, যে ওসমান হাদি বাংলাদেশের ৫৬ হাজার বর্গমাইল হাঁটতে চেয়েছিলেন, ইনসাফের জাল বুনতে চেয়েছিলেন, এমনকি শত্রুকেও ইনসাফ দিতে চেয়েছিলেন—সেই ওসমান হাদির ইনসাফ আজ কোথায়? ভারতের সহযোগিতায় বাংলাদেশের মীরজাফরদের হাত ধরে হাদিকে হত্যা করে খুনিরা কীভাবে ভারতে পালিয়ে যায়, সেটি রাষ্ট্রকে স্পষ্ট করতে হবে।’

তিনি আরো বলেন, খুনি ফয়সাল একজন ভাড়াটে খুনি। টাকার বিনিময়ে সে হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। কিন্তু তাকে নির্দেশদাতারা কারা? কারা পরিকল্পিতভাবে হত্যার পর তাকে নিরাপদে ভারতে পৌঁছে দিয়েছে— সেটি জাতির সামনে প্রকাশ করতে হবে। ওসমান হাদি শুধু আমার ভাই নন, তিনি সমগ্র বাংলাদেশের ভাই। দেশের ১৬ কোটি মানুষ হাদি হত্যার বিচার চায়।

তিনি বলেন, ওসমান হাদি কোনো দল-মতের ছিলেন না। তিনি ছিলেন সকল ইনসাফ ও মুক্তিকামী মানুষের কণ্ঠস্বর। আজকের এই কর্মসূচি হাদির মাতৃভূমি বরিশাল থেকে শুরু হলো, যা সারা বাংলাদেশে ছড়িয়ে পড়বে বলে আমরা আশা করি। বিচার না পেয়ে আজ আমরা রাজপথে নামতে বাধ্য হয়েছি, বিচার নিয়েই ঘরে ফিরবো, ইনশাআল্লাহ।

সমাবেশে ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব ইফতেখার সায়েম বলেন, আধিপত্যবাদবিরোধী নেতা হাদিকে দিনের আলোয় গুলি করে হত্যা করা হয়েছে, এরপর খুনিরা ভারতে পালিয়ে গেছে। তাকে ভালোবেসে তার জানাজায় মানুষের ঢল নেমেছিল, যা প্রমাণ করে মানুষ বিচার চায়। কিন্তু সেই বিচার আজও হয়নি।

তিনি আরো বলেন, সাগর-রুনি হত্যা মামলার প্রতিবেদন জমার তারিখ ১১৩ বার পেছানো হয়েছে, আর হাদি হত্যার প্রতিবেদন পেছানো হয়েছে ১৩ বার। যে মানুষ ইনসাফের কথা বলেছে, তার হত্যার বিচারেই রাষ্ট্র ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করতে পারেনি। আমরা এই বিচারহীনতার সংস্কৃতির অবসান চাই।

সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যানারে আয়োজিত এ সমাবেশে আরো বক্তব্য দেন হাদির ভগ্নীপতি মো. আমির হোসেন হাওলাদার, ববি জাতীয় ছাত্র শক্তির আহ্বায়ক মো. বেলাল হোসেন, সদস্য সচিব মো. রাশেদুল ইসলাম শিকদার এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা সিরাজুল ইসলাম। এছাড়া হাদির পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের সাধারণ শিক্ষার্থীরাও এই কর্মসূচিতে অংশ নেন।

সমাবেশ শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি ভোলা রোড প্রদক্ষিণ করে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক ঘুরে পুনরায় প্রধান ফটকে এসে শেষ হয়। এসময় বিক্ষোভকারীরা হাদি হত্যার বিচারের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন।

উল্লেখ্য, গত ১২ ডিসেম্বর দুপুরে রাজধানীর বিজয়নগর পানির ট্যাংকির সামনে গুলিবিদ্ধ হন ওসমান হাদি। পরে সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর তিনি মারা যান।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন