বিশিষ্ট লেখক, গবেষক, প্রাবন্ধিক, রাষ্ট্রচিন্তাবিদ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সাবেক অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।
রোববার দুপুরে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তিনি বাংলা ভাষা, সাহিত্য, সংস্কৃতি ও রাষ্ট্রচিন্তায় অসামান্য অবদান রেখে গেছেন।
বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ আজম তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, দুপুর আড়াইটা থেকে তিনটার মধ্যে অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হকের মৃত্যু হয়। একই তথ্য নিশ্চিত করেছেন তার পুত্রবধূ রাজিয়া রহমান।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, রোববার দুপুরে মিরপুরের একটি রেস্তোরাঁয় খাবার খেতে গেলে তিনি হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে দ্রুত তাকে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
মৃত্যুর খবর জানিয়ে বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ আজম বলেন, “স্যার দুপুরে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে মিরপুরের একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। আড়াইটা থেকে তিনটার মধ্যে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। বাংলা একাডেমি থেকে আমরা স্যারের বাসায় যাচ্ছি। দাফন ও শ্রদ্ধা নিবেদনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হলে পরে জানানো হবে।”
অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক ছিলেন বাংলাদেশের অন্যতম বিশিষ্ট প্রাবন্ধিক ও রাষ্ট্রচিন্তাবিদ। নিরপেক্ষ রাজনৈতিক বিশ্লেষণ, সমাজ-রাষ্ট্র ভাবনা এবং সাহিত্য-সংস্কৃতি বিষয়ে তার মৌলিক চিন্তা তাকে দেশের বুদ্ধিবৃত্তিক পরিসরে বিশেষ মর্যাদা এনে দেয়।
দীর্ঘদিন তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে অধ্যাপনা করেছেন। শিক্ষকতা জীবনের পাশাপাশি বাংলা ভাষার সর্বস্তরে ব্যবহার নিশ্চিত করার আন্দোলনেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
সাহিত্য ও গবেষণার ক্ষেত্রেও ছিল তাঁর উজ্জ্বল অবদান। তিনি ‘সুন্দরম’ ও ‘লোকায়ত’ নামে দুটি সাময়িকপত্র সম্পাদনা করেন। তার রচিত উল্লেখযোগ্য গ্রন্থগুলোর মধ্যে রয়েছে একুশে ফেব্রুয়ারি আন্দোলন, রাজনীতি দর্শন, সাহিত্য চিন্তা এবং সংস্কৃতির সহজ কথা। এছাড়া তার প্রকাশিত গ্রন্থের সংখ্যা ২০টিরও বেশি।
সম্পাদক হিসেবেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে গেছেন। তার সম্পাদনায় প্রকাশিত উল্লেখযোগ্য গ্রন্থগুলোর মধ্যে রয়েছে ইতিহাসের আলোকে বাংলাদেশের সংস্কৃতি এবং স্বদেশচিন্তা।
সাহিত্য ও গবেষণায় অনন্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৮১ সালে তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কারে ভূষিত হন।
এএস
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

