ক্যাম্পাসের জুলাই-গ্রাফিতি সংরক্ষণে পুনর্লিখন শুরু করছে ঢাবি প্রশাসন

ক্যাম্পাসের জুলাই-গ্রাফিতি সংরক্ষণে পুনর্লিখন শুরু করছে ঢাবি প্রশাসন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ক্যাম্পাসের বিভিন্ন দেয়ালে আঁকা জুলাই-গ্রাফিতি সংরক্ষণে পুনরায় রংকরণ ও পুনর্লিখন কার্যক্রম শুরু করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। গ্রাফিতিগুলোর মূল বৈশিষ্ট্য, চেতনা ও তাৎপর্য অক্ষুণ্ন রেখে সেগুলো সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

শনিবার সকালে উপাচার্যের বাসভবনের প্রধান ফটকে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম।

বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তর জানিয়েছে, ১, ২ ও ৩ আগস্ট তিন দিনব্যাপী এ কার্যক্রম চলবে। উপাচার্য ভবন থেকে রোকেয়া হল পর্যন্ত ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে থাকা জুলাই-গ্রাফিতিগুলো রংকরণ ও পুনর্লিখন করা হবে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম বলেন, জুলাইয়ের গ্রাফিতিগুলো পতিত ফ্যাসিস্ট সরকারের দুঃশাসনের স্মৃতি বহন করছে। জনমনে তৎকালীন সরকারের নির্যাতন-নিপীড়নের স্মৃতি জাগিয়ে রাখতে এসব গ্রাফিতি সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, ফ্যাসিস্ট সরকারের অন্যায়-অত্যাচারের বিরুদ্ধে জুলাই অভ্যুত্থানে দেশের তরুণ সমাজ ও সাধারণ মানুষ রাজপথে নেমে এসেছিল। তাদের কণ্ঠ স্তব্ধ করতে তৎকালীন সরকার সাধারণ মানুষের ওপর হামলা চালিয়েছিল। অন্যায় ও নির্যাতনের প্রতিবাদে মানুষ সন্তানের লাশ কাঁধে নিয়ে রাজপথে অবস্থান নিয়েছিল। এতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, শ্রেণি-পেশার মানুষও অংশ নিয়েছিল।

উপাচার্য বলেন, এর আগে সহস্রাধিক নিরীহ মানুষের জীবন কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। জুলাই-আগস্টে ছাত্র-ছাত্রীরা দেয়ালে দেয়ালে গ্রাফিতির মাধ্যমে শেখ হাসিনার জুলুম, নির্যাতন ও আক্রোশের চিহ্ন এঁকেছিল। এসব গ্রাফিতি এখন দেশের জীবন্ত ইতিহাস হয়ে রয়েছে।

অধ্যাপক ওবায়দুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা হয়তো থাকব না, কিন্তু বাংলাদেশ শতাব্দীর পর শতাব্দী বেঁচে থাকবে। এই গ্রাফিতির মাধ্যমেই সাধারণ মানুষ সেই রক্তমাখা ভয়াল দিনগুলো চিরদিন স্মরণ করবে এবং জুলাইয়ের ফ্যাসিবাদবিরোধী চেতনা অন্তরে ধারণ করবে।’

ভবিষ্যতে দেশে যেন ফ্যাসিবাদের উত্থান না ঘটে, সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বৈষম্যহীন সমাজ গঠনে বর্তমান সরকারের কার্যক্রমে নিজ নিজ অবস্থান থেকে সহযোগিতা করতে হবে। একই সঙ্গে গ্রাফিতি অঙ্কন ও পুনর্লিখনের সঙ্গে সম্পৃক্ত সবাইকে ধন্যবাদ জানান তিনি।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. আবদুস সালাম, প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. এম. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, চারুকলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. আজহারুল ইসলাম শেখ, প্রক্টর মো. ইসরাফিল প্রাং এবং আরবরি কালচার সেন্টারের পরিচালক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জসীম উদ্দিনসহ শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন