আমার দেশ জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পেপার

তারুণ্যের ভাবনায় ঈদ

আনন্দ, স্মৃতি ও সম্প্রীতির মেলবন্ধন

উম্মে কায়নাত আফরাহ

আনন্দ, স্মৃতি ও সম্প্রীতির মেলবন্ধন

ঈদ শুধু ধর্মীয় উৎসব নয়; এটি ভালোবাসা, সম্প্রীতি ও মানবিকতার এক অনন্য উপলক্ষ। এই উৎসব মানুষকে মানুষের কাছাকাছি নিয়ে আসে, ভেদাভেদ ভুলে একসঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করার শিক্ষা দেয়। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্ম ও শিক্ষার্থীদের কাছে ঈদ মানে শুধু নতুন পোশাক বা উৎসবের আনন্দ নয়—এটি সমাজে সহমর্মিতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সম্প্রীতির বার্তা ছড়িয়ে দেওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়। তারুণ্যের চিন্তা ও প্রত্যাশায় তাই ঈদ হয়ে ওঠে আরো মানবিক, আরো অন্তর্ভুক্তিমূলক এক উৎসব, যেখানে সবাই মিলেই গড়ে তুলতে চায় শান্তি ও সৌহার্দ্যের সমাজ।

ভয়মুক্ত ঈদের আনন্দই হোক আমাদের প্রাপ্তি

বিজ্ঞাপন

ঈদের আনন্দ তখনই পূর্ণতা পায়, যখন তা হয় ভয়হীন ও সর্বজনীন। কিন্তু গত দেড় দশকে আওয়ামী লীগের শাসনামলে বাংলাদেশের মানুষের অভিজ্ঞতায় ছিল ভিন্ন এক চিত্র। রাজনৈতিক প্রতিহিংসা আর ধরপাকড়ের ভয়ে বিরোধীদলীয় নেতা-কর্মী থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের একটি বড় অংশকে উৎসবের দিনেও থাকতে হতো আতঙ্কিত।

তবে বর্তমানে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী সরকারের সময়ে সেই পরিস্থিতির আমূল পরিবর্তন ঘটেছে। এখন আর উৎসবের মাঝে রাজনৈতিক শঙ্কার ছায়া নেই। দেশের মানুষ এখন নির্বিঘ্নে, স্বচ্ছন্দে এবং নির্ভয়ে নিজ নিজ পরিবার ও প্রিয়জনদের সঙ্গে ঈদ উদ্‌যাপন করতে পারছে।

অতীতের সেই তিক্ত স্মৃতি ধীরে ধীরে মুছে যাক, আর বর্তমানের এই স্বস্তি ও সম্প্রীতি অটুট থাকুক প্রতিটি ঘরে। ঈদের আসল শিক্ষা হলো ভালোবাসা, ভ্রাতৃত্ব এবং একে অপরের পাশে থাকার অঙ্গীকার। পুরোনো দিনের স্মৃতি আর বর্তমানের বাস্তবতা মিলিয়েই ঈদ আমাদের জীবনে আনন্দ, সহমর্মিতা এবং নতুন করে ভাবার এক বিশেষ উপলক্ষ হয়ে থাকুক।

আব্দুল্লাহ আল নোমান

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়

আমার মতো অনেকের ঈদ ছিল ভয় আর অনিশ্চয়তায় ভরা

একসময় ঈদ মানেই ছিল আনন্দ, আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে দেখাসাক্ষাৎ এবং বন্ধুদের সঙ্গে হাসি-আড্ডা। কিন্তু ছাত্ররাজনীতির এক কঠিন সময়ে আমার মতো অনেক ছাত্রদল কর্মীর জন্য ঈদ ছিল ভিন্ন এক অভিজ্ঞতা—উৎকণ্ঠা, ভয় আর অনিশ্চয়তায় ভরা।

আমি এখনো স্পষ্টভাবে মনে করতে পারি ২০১৮ সালের ঈদুল ফিতরের সেই দিনটির কথা। সকালে ঈদের নামাজ শেষ করে মানুষ যখন আনন্দে একে অপরকে আলিঙ্গন করছিল, তখন আমার মনে ছিল এক অদ্ভুত চাপা দুশ্চিন্তা। নামাজ শেষে সবাই যখন বন্ধুদের সঙ্গে দেখা করতে বা আত্মীয়দের বাড়িতে যেতে ব্যস্ত, তখন আমি দ্বিধায় দাঁড়িয়ে ছিলাম—বাড়ির বাইরে বের হব কি হব না; কারণ চারদিকে তখন গ্রেপ্তারের আতঙ্ক।

সেদিন ঈদের দিনেও বাড়ির গণ্ডি থেকে বের হয়ে বন্ধুদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করার সাহস পাচ্ছিলাম না। জানতাম না, বাইরে বের হলে ঈদের কোলাকুলি হবে, নাকি পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হতে হবে। এমনকি ফোনেও কথা বলতে হতো সতর্ক হয়ে। এই ভয়টাই ছিল তখনকার বাস্তবতা।

এটা ছিল কেবল একটি দিনের গল্প। এমন আরো অনেক ঈদ, অনেক উৎসব আমাদের কাটাতে হয়েছে অস্বস্তি আর অজানা আশঙ্কার মধ্যে। তবুও এই সময়গুলো আমাদের জন্য কেবল ভয় বা সংকটের স্মৃতি নয়; বরং বন্ধুত্ব, সহমর্মিতা আর রাজনৈতিক বিশ্বাসেরও এক অনন্য অধ্যায়।

দ্বীন ইসলাম খান

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

এবারের ঈদ শূন্যতার

আজকের এই ঈদের প্রাক্কালে কিছু কথা বলতে গিয়ে বুকটা ভারী হয়ে আসে। কারণ গত বছর এই সময় আমাদের প্রিয় দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া আমাদের মাঝেই ছিলেন। তার সাহসী নেতৃত্ব, আপসহীন অবস্থান এবং মাতৃসুলভ স্নেহ আমাদের রাজপথের সংগ্রামে সবসময় শক্তি জুগিয়েছে।

কিন্তু ইতিহাসের নির্মম বাস্তবতা—প্রায় তিন মাস আগে তিনি আমাদের ছেড়ে না ফেরার দেশে পাড়ি জমিয়েছেন। তাই এবারের ঈদ আমাদের জন্য শুধু আনন্দের উৎসব নয়; বরং এটি এক গভীর বেদনা, শূন্যতা ও স্মৃতির ঈদ।

একজন ছাত্রদলের নেতা হিসেবে আজ মনে হয়, যেন আমাদের মাথার ওপর থেকে একজন রাজনৈতিক অভিভাবকের ছায়া সরে গেছে। যিনি বছরের পর বছর অন্যায়-অত্যাচার, মামলা-হামলা ও কারাবরণের মধ্যেও গণতন্ত্রের প্রশ্নে কখনো আপস করেননি—সেই আপসহীন নেত্রী আজ আর আমাদের মাঝে নেই।

এই ঈদের দিনে আমরা মহান আল্লাহর কাছে দোয়া করি—তিনি যেন আমাদের প্রিয় দেশনেত্রীকে জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করেন এবং তার সব ত্যাগ ও সংগ্রাম কবুল করেন।

শেষে শুধু এটুকুই বলতে চাই—নেত্রী হয়তো আজ আমাদের মাঝে নেই, কিন্তু তার আদর্শ কখনো হারিয়ে যাবে না। আমরা তার দেখানো পথেই এগিয়ে যাব; গণতন্ত্র ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াই রাজপথে অব্যাহত রাখব।

এটাই হবে তার প্রতি আমাদের অটল অঙ্গীকার এবং সত্যিকারের শ্রদ্ধা।

ওয়াসিম আহমেদ অনীক

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়

শৈশবের ঈদ : সরল আনন্দের অমলিন স্মৃতি

শৈশবের ঈদ মানেই ছিল নিখুঁত আনন্দ আর সরল উচ্ছ্বাস। রমজানের শুরু থেকেই মনে জন্ম নিত অধীর অপেক্ষা—কবে আসবে সেই বিশেষ দিন। ছোটবেলায় রোজা রাখার অনুমতি পাওয়া ছিল গৌরবময় এক প্রাপ্তি। সাহরির সময় ঘুমজড়ানো চোখে উঠে বসা, দিনের ক্ষুধার সঙ্গে ছোট্ট লড়াই—এসব অভিজ্ঞতাই তখন ঈদের মধুর স্মৃতি হয়ে উঠত।

ঈদ আসার আগের দিনগুলো ছিল উত্তেজনায় ভরা। নতুন জামা হাতে পেলে তা বারবার লুকিয়ে রাখা—যেন কেউ আগে দেখে ফেলতে না পারে—এই শিশুসুলভ সতর্কতাও ছিল আনন্দেরই অংশ। ঈদের সকাল শুরু হতো নতুন পোশাকে ঈদের নামাজ আদায়ের মধ্য দিয়ে। নামাজ শেষে কোলাকুলি, বড়দের সালামি গ্রহণ, আত্মীয়দের বাড়িতে বেড়ানো—সেমাই, পায়েস, মিষ্টি আর গল্পের আড্ডায় দিনটি হয়ে উঠত আনন্দঘন।

সময়ের সঙ্গে অনেক কিছু বদলে গেলেও একটি সত্য আজও অপরিবর্তিত—ঈদের কেন্দ্রবিন্দু পরিবার। পরিবারের সঙ্গে মিলন, ভালোবাসা এবং আত্মীয়তার উষ্ণতাই ঈদের প্রকৃত সৌন্দর্য। তাই ঈদ শুধু একটি উৎসব নয়—এটি স্মৃতি, ভালোবাসা, সম্প্রীতি এবং পারিবারিক বন্ধনের এক গভীর মানবিক উপলক্ষ।

আসিফ রহমান সৌরভ

আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি-বাংলাদেশ

ঈদের আনন্দের ধরন বদলে গেছে

ঈদ মুসলমানদের জন্য শুধু একটি ধর্মীয় উৎসব নয়, এটি আনন্দ, ভালোবাসা এবং পারিবারিক মিলনের এক অনন্য উপলক্ষ। একজন শিক্ষার্থী হিসেবে আমার কাছে ঈদ মানেই ছিল ভিন্নরকম উত্তেজনা আর অগণিত ছোট ছোট আনন্দের মুহূর্ত।

রমজান মাস শুরু হলেই মনে এক ধরনের আনন্দ কাজ করত। মনে হতো—আর কিছুদিন পরেই ঈদ। ঈদের আগের দিন, অর্থাৎ চাঁদ রাত ছিল সবচেয়ে আকর্ষণীয় সময়। পরিবারের সবাই মিলে টেলিভিশন বা আকাশের দিকে তাকিয়ে চাঁদ দেখার অপেক্ষা করতাম। চাঁদ দেখা গেলেই যেন পুরো ঘরে আনন্দের ঢেউ বয়ে যেত। নতুন জামা বের করে বারবার দেখতাম, আবার যত্ন করে রেখে দিতাম—যেন ঈদের সকালেই প্রথম পরা হয়।

ঈদের দিন সকালে খুব ভোরেই ঘুম থেকে উঠে গোসল করে নতুন পোশাক পরার আনন্দ ছিল অন্যরকম। বাবার সঙ্গে ঈদের নামাজে যাওয়ার মুহূর্তটা আজও আমার কাছে বিশেষ অনুভূতি। নামাজ শেষে সবার সঙ্গে কোলাকুলি করা, বড়দের সালাম করা আর তাদের কাছ থেকে সালামি পাওয়া—এসব ছিল ঈদের সবচেয়ে আনন্দের অংশ।

সময় বদলেছে, আমরা বড় হয়েছি। পড়াশোনা, দায়িত্ব আর ব্যস্ততার কারণে হয়তো ঈদের আনন্দের ধরন বদলে গেছে। কিন্তু শৈশবের সেই সরল আনন্দ, বন্ধুদের সঙ্গে কাটানো মুহূর্ত আর পরিবারের উষ্ণতা—এই স্মৃতিগুলো আজও হৃদয়ে অমলিন হয়ে আছে।

হামদে রাব্বি আকরাম

সরকারি তিতুমীর কলেজ, ঢাকা

স্মৃতির ভাঁজে ঈদ : আনন্দ, ভালোবাসা ও না-ফেরা মানুষ

ঈদ মুসলমানদের সবচেয়ে আনন্দের ও পবিত্র উৎসবগুলোর একটি। ঈদ মানেই খুশি, ভালোবাসা আর একে অপরের সঙ্গে মিলেমিশে থাকার সুন্দর মুহূর্ত। ছোটবেলার ঈদের স্মৃতি মনে পড়লে আজও মন ভরে যায় আনন্দে। ঈদের আগের দিন থেকেই ঘর পরিষ্কার করা, নতুন কাপড় গুছিয়ে রাখা আর ঈদের সকালে তাড়াতাড়ি ঘুম থেকে ওঠার উত্তেজনা—সবকিছুই ছিল এক অনন্য আনন্দের অংশ।

সময়ের সঙ্গে সঙ্গে মানুষ বড় হয়ে যায়, আর অনেক কিছুই বদলে যায়। এখন ঈদ এলেও সেই আগের মতো আনন্দ আর অনুভূত হয় না। কারণ আমার জীবনের সবচেয়ে বড় আনন্দের একটি অংশ ছিলেন আমার বাবা। এখন তিনি আর পৃথিবীতে নেই। তাই ঈদের দিনগুলোতে বাবার সঙ্গে কাটানো সেই মুহূর্তগুলোই সবচেয়ে বেশি মনে পড়ে। আজও যখন ঈদের সকাল আসে, তখন মনে পড়ে বাবার সেই সাদা পাঞ্জাবি আর সাদা টুপি পরে নামাজে যাওয়ার দৃশ্য। নামাজ শেষে বাসায় ফিরে আমাদের সঙ্গে বসে সেমাই খাওয়ার মুহূর্তগুলো যেন চোখের সামনে ভেসে ওঠে। তার সেই হাসিমুখে সালামি দেওয়ার দৃশ্যগুলো আজ শুধু স্মৃতির মধ্যেই রয়ে গেছে। আমি জানি, বাবাকে নিয়ে সেই ঈদের আনন্দ আর কখনোই আমার জীবনে ফিরে আসবে না।

তবুও এই স্মৃতিগুলোই আমার হৃদয়ে চিরদিন বেঁচে থাকবে। কারণ ঈদ শুধু একটি উৎসব নয়—এটি ভালোবাসা, পরিবার এবং অমূল্য স্মৃতির আরেক নাম। সেই স্মৃতিগুলোই আমাদের জীবনের সবচেয়ে বড় সম্পদ হয়ে থেকে যায়।

উম্মে আয়মান লিমা

উত্তরা ইউনিভার্সিটি

শৈশবের ঈদের স্মৃতিগুলো সবসময়ই এক টুকরো শান্তি

শৈশবের ঈদের স্মৃতিগুলো সব সময়ই একটু আলাদা। ঈদের আগের দিন সন্ধ্যায় আকাশে চাঁদ দেখার জন্য অপেক্ষা করাটা ছিল অন্যতম প্রধান আকর্ষণ। কে আগে চাঁদ দেখবে, আর কার নতুন জামা কেমন হলো—এসব নিয়েই বন্ধুদের মাঝে চলত নির্দোষ এক প্রতিযোগিতা। ‘কাল সকালে নতুন জামা পরব’—এই ভাবনাতেই ঈদের আগের রাতে উত্তেজনায় ঠিকমতো ঘুমই আসতে চাইত না।

ঈদের দিন সকালে নতুন পোশাক পরে বড়দের সঙ্গে ঈদগাহে যাওয়ার দৃশ্য আজও মনে পড়ে। নামাজ শেষে সবার সঙ্গে কোলাকুলি, আর তার পরেই শুরু হতো আরেক আনন্দের অপেক্ষা—বড়দের কাছ থেকে ‘সালামি’ বা ঈদি আদায় করা। নতুন টাকার কড়কড়ে নোট হাতে পাওয়ার সেই আনন্দ সত্যিই ছিল অন্যরকম।

সময়ের সঙ্গে সঙ্গে জীবনের ব্যস্ততা বেড়েছে, তাই ঈদের উদ্‌যাপনেও কিছু পরিবর্তন এসেছে। এখন আর আগের মতো দল বেঁধে পাড়া ঘোরা হয় না, কিংবা সেই ছেলেবেলার সরল আনন্দগুলোও ততটা ফিরে পাওয়া যায় না।

তবুও শৈশবের সেই সাধারণ কিন্তু আনন্দময় ঈদের দিনগুলোর কথা মনে পড়লে আজও মন ভালো হয়ে যায়। জীবনের নানা ব্যস্ততার মাঝেও শৈশবের ঈদের এই স্মৃতিগুলো সবসময়ই এক টুকরো শান্তি আর আনন্দের জায়গা হয়ে থাকবে।

মো. তানজিদুল ইসলাম তানজিদ

আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি-বাংলাদেশ

শৈশবের সম্প্রীতি বন্ধনের ঈদ চির-অম্লান

ঈদ শুধু একটি ধর্মীয় উৎসব নয়, এটি হৃদয়ের আনন্দ ও ভালোবাসার প্রকাশ। দীর্ঘ এক মাস রোজার পর পবিত্র ঈদুল ফিতর মুসলমানদের জীবনে সম্প্রীতির সওগাত নিয়ে আসে। ধনী-নির্ধন কেউ এই আনন্দ থেকে বঞ্চিত থাকে না।

শৈশবে ঈদের আনন্দ অন্যরকম ছিল। হাতে লিখে প্রিয় বন্ধুদের ঈদ কার্ড পাঠানো বা পাওয়ার মুহূর্তগুলো ছিল অসাধারণ। ঈদের নতুন জামা পরার উত্তেজনা পাড়া-মহল্লা জুড়ে চলত—কারো জামা আগে দেখে ফেললে খেপে যেতাম—‘তোর ঈদ চলে গেছে’ বলে খ্যাপাতাম। চাঁদ দেখা, ঈদের সকালে বাবার হাত ধরে ঈদগাহে যাওয়া, নামাজ শেষে কোলাকুলি এবং বাড়ি বাড়ি গিয়ে সালামি নেওয়া আর সেমাই-পায়েস খাওয়ার মুহূর্তগুলো ছিল অকৃত্রিম আনন্দের উদাহরণ।

বর্তমানে ঈদ অনেকটাই ডিজিটাল হয়ে গেছে। শুভেচ্ছা পাঠানো হয় মেসেজ, হোয়াটসঅ্যাপ বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে, নতুন জামার আনন্দ কমে গেছে, আর স্বাভাবিক বন্ধুত্বপূর্ণ মিলনও ভার্চুয়াল হয়ে গেছে। যত বড় হচ্ছি, উৎসবের আনন্দ মলিন হয়ে আসছে এবং দায়িত্বের সঙ্গে ব্যস্ততা বেশি অনুভূত হয়।

তবুও শৈশবের সেই চাঁদ দেখা, নতুন জামা, সালামি ও দলবেঁধে ঘোরার স্মৃতি চিরকাল হৃদয়ে অম্লান। এই স্মৃতিই শিখিয়েছে, ঈদ শুধু আনন্দ নয়—এটি ভালোবাসা, সম্প্রীতি ও একসঙ্গে থাকার অমূল্য শিক্ষা।

মিজান আহমেদ

প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন