হামে মৃত্যুর জবাবদিহিতা নিশ্চিতের দাবি ছাত্র মৈত্রীর

প্রতিনিধি, ঢাবি

হামে মৃত্যুর জবাবদিহিতা নিশ্চিতের দাবি ছাত্র মৈত্রীর

হামে আক্রান্ত হয়ে তিন শতাধিক শিশুর মৃত্যুর প্রতিবাদে এবং সংশ্লিষ্টদের বিচার দাবিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ করেছে বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রী। তারা হামকে মহামারি ঘোষণা করে দ্রুত সর্বাত্মক প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে। পাশাপাশি অব্যবস্থাপনার জন্য দায়ীদের জবাবদিহিতার আওতায় এনে শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।

বুধবার বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সন্ত্রাসবিরোধী রাজু ভাস্কর্যের সামনে আয়োজিত এক বিক্ষোভ সমাবেশে সংগঠনটির নেতা-কর্মীরা এসব দাবি জানান। কর্মসূচিতে শিশুদের প্রতীকী মরদেহ প্রদর্শনের মাধ্যমে প্রতিবাদ জানানো হয়।

বিজ্ঞাপন

সমাবেশে তারা অভিযোগ করে বলেন, হামের প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে সাবেক অন্তর্বর্তীকালীন সরকার চরম ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। তারা বলেন, সারাদেশের ৬৪ জেলার মধ্যে অন্তত ৫৮ জেলায় হামের প্রকোপ ছড়িয়ে পড়েছে এবং এতে তিন শতাধিক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এই ঘটনায় সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও তৎকালীন স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগমের দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করে বিচার করতে হবে।

বিপ্লবী ছাত্রমৈত্রীর সাধারণ সম্পাদক জাবির আহমেদ জুবেল বলেন, “সরকারের অবহেলা ও ভুল নীতির কারণে শিশুদের জীবন ঝুঁকির মুখে পড়েছে। হামকে মহামারি ঘোষণা করে জরুরি ভিত্তিতে কার্যকর প্রতিরোধ ব্যবস্থা নিতে হবে।” তিনি আরও অভিযোগ করেন, অতীত ও বর্তমান—উভয় সময়েই হামের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কার্যকর পদক্ষেপের অভাব রয়েছে।

একই সঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে হামের অস্থায়ী মেডিকেল ক্যাম্প স্থাপনে আপত্তি জানানোর ঘটনায় ডাকসু নেতাদের সমালোচনা করেন তিনি।

ঢাবি শাখার সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম রিয়াদ বলেন, “হামে আক্রান্ত হয়ে তিন শতাধিক শিশু হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেছে। দেশের বিভিন্ন হাসপাতালের সামনে এখন অভিভাবকদের আহাজারি চলছে।” তিনি অভিযোগ করেন, সতর্কবার্তা থাকা সত্ত্বেও তৎকালীন সরকার সঠিক সময়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি।

তিনি আরও বলেন, টিকা ক্রয়ের ক্ষেত্রে মান নিশ্চিতের পরিবর্তে কম খরচকে অগ্রাধিকার দেওয়ার প্রবণতা ছিল, যা পরিস্থিতি আরও জটিল করেছে।

সংগঠনটির সভাপতি দিলীপ রায় বলেন, “হামের এই সংকট প্রাকৃতিক নয়, এটি মানবসৃষ্ট। শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হওয়া রাষ্ট্রের জন্য লজ্জাজনক।” তিনি অভিযোগ করেন, গুরুত্বপূর্ণ জনস্বাস্থ্য ইস্যুতে রাজনৈতিক দলগুলোর নীরবতা উদ্বেগজনক।

হামে আক্রান্তদের দ্রুত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে এবং সংক্রমণ রোধে কার্যকর প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিতে সমাবেশ থেকে দাবি জানানো হয়।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন