জবির ছাত্র সংগঠনগুলোর ঐক্য ও সাংবাদিকদের ভূমিকা অনস্বীকার্য: উপাচার্য

জবির ছাত্র সংগঠনগুলোর ঐক্য ও সাংবাদিকদের ভূমিকা অনস্বীকার্য: উপাচার্য

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) উপাচার্য অধ্যাপক রেজাউল করিম বলেছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্রিয়াশীল ছাত্র সংগঠনগুলোর মধ্যে যে ঐক্য বিদ্যমান, তা ‘ইউনিক’। এ ঐক্য ধরে রাখতে সাংবাদিকদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

বিজ্ঞাপন

শুক্রবার (১৫ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কনফারেন্স কক্ষে জবি প্রেসক্লাবের ২০২৫-২৬ কার্যনির্বাহী পরিষদের দায়িত্ব হস্তান্তর অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

উপাচার্য বলেন, জবি গুচ্ছ থেকে বের হয়ে সবার আগে ভর্তি কার্যক্রম শেষ করে ক্লাস শুরু করেছে—এটাও একটি অনন্য দিক। সাংবাদিকদের একমাত্র ভূমিকা বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ ও সত্য তথ্য প্রচার করা। বাংলাদেশের বিভিন্ন আন্দোলনে সাংবাদিকদের ভূমিকা অনস্বীকার্য, জবির আন্দোলনেও সেই ভূমিকা ছিল।

তিনি আরো বলেন, আমরা ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলো সংস্কার শুরু করেছি। অবকাশ ভবনের বয়স খুব বেশি নয়, তবে সীমাবদ্ধতার মধ্যেও আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।

অনুষ্ঠানে ইউনাইটেড পিপলস (আপ) বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় সংগঠক মাসুদ রানা বলেন, সাংবাদিকতা শুধু পেশা নয়, বাংলাদেশ যখনই সংকটে পড়েছে, সাংবাদিকরা সাহসী ভূমিকা পালন করেছে। আর প্রেসক্লাব যে যুগান্তকারী ভূমিকা পালন করেছে, তারা শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়ে যে ত্যাগ করেছে, তা সামনেও ধরে রাখবে

ছাত্র অধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রায়হান হাসান রাব্বি বলেন, আমাদের যৌক্তিক আন্দোলনে প্রেসক্লাবে ছিলো, সাংবাদিক ও শিক্ষার্থী হিসেবে। সামনের কমিটিও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশের মাধ্যমে অতীতের সেই ধারা বহাল রাখবে। আশা রাখি শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়ের তারাও ভূমিকা রাখবে।’

বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি রিয়াজুল ইসলাম বলেন, ‘প্রেসক্লাবের সাংবাদিকরা ক্ষমতার মুখোমুখি দাড়িয়েছে। ক্ষমতাকে প্রশ্ন করেছে। তারা অতীতে যেভাবে অন্যায়ের সাথে যে আপোষ করেনি, আগামী কমিটির কাছেও এ প্রত্যাশাই আমরা করি।’

তিনি আরো বলেন, অবকাশ ভবনের দিকে প্রশাসনের নজর দিতে হবে। কোন বড় দুর্ঘটনা ঘটার আগেই যেন প্রশাসন ভবন সংস্কারে দ্রুত পদক্ষেপ নেয়।

বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদি হাসান হিমেল বলেন, ‘সাংবাদিকতা ভূমিকা গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠায় অনস্বীকার্য। বিগত কমিটি বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার মাধ্যমে জবির পাশেই ছিল, সামনের কমিটির থেকেও তা প্রত্যাশা রাখি। জবি প্রেসক্লাব যেমন অতীতে সাদাকে সাদা আর কালাকে কালা বলেছিলো বর্তমান কমিটিও সেটা করবে।’

সদ্য সাবেক সভাপতি সুবর্ণ আসসাইফ বলেন, দীর্ঘ আন্দোলন সংগ্রামে জবি প্রেসক্লাবের সাংবাদিকরা জবিয়ানদের সাথে ছিলো, ভবিষ্যতেও থাকবে। আমাদের নতুন নেতৃত্ব ভবিষ্যতে জগন্নাথকে আরও অনেক দূর এগিয়ে নিয়ে যাবে এই প্রত্যাশা করি।

সদ্য সাবেক সাধারণ সম্পাদক আহনাফ তাহমিদ ফাইয়াজ সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, আমরা আমাদের সর্বোচ্চ দিয়ে দায়িত্ব পালনের চেষ্টা করেছি। বস্তুনিষ্ঠতা ও সততার সাথে সাংবাদিকতা করার চেষ্টা করেছি। আশা করি নতুন নেতৃত্ব সেই ধারাবাহিকতা বজায় রাখবে।

ইউনিভার্সিটি টিচার্স লিংক (ইউটিএল) এর সদস্য সচিব ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক বেলাল হোসেন বলেন, ‘বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা অনেক গুরুত্বপূর্ণ। সাংবাদিকতার পেছনে অনেক কিছু চলে। বিগত সময়গুলোতে প্রেসক্লাব যেমন বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার মাধ্যমে বিশবিদ্যালয়ের পাশে ছিলো, সামনের কমিটিও সেই ধারা বহাল রাখবে। বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার মাধ্যামে বিশ্ববিদ্যালয়কে দেশের সামনে তুলে ধরবে। কোন ঘটনার আসল ঘটনা তুলে ধরার মধ্যমে সত্য প্রতিষ্ঠা করবে’।

প্রেসক্লাবের প্রধান উপদেষ্টা রাকিবুল ইসলাম রাকিব বলেন, ‘প্রেসক্লাবের একমাত্র লক্ষ্যই হলো সত্য প্রচার করা। আর এই বিষয়ে আপোষহীন ছিলো, অতীতেও থাকবে। আমরা ১৭ বছর একটা অন্ধকার জগতে ছিলাম। প্রেসক্লাবের আমাদের একটা গ্রহণ যোগ্য ও দৃষ্টান্ত স্থাপনকারী নির্বাচন উপহার দিয়েছেন। তারা অতীতে যেমন বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা করেছেন, সামনেও সে ধারা বহাল রাখবেন।’

প্রধান নির্বাচন কমিশনার জাহিদুল ইসলাম সাদেক বলেন, একটি স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রেসক্লাব এর নতুন কার্যনির্বাহী পরিষদ গঠিত হয়েছে। আশা করি বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার মাধ্যমে নতুন নেতৃত্ব শিক্ষার্থী, বিশ্ববিদ্যালয় এবং দেশের কল্যাণে কাজ করে যাবে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন