নরসিংদীতে ধর্ষণের পর কিশোরী হত্যাসহ সারা দেশে এ ধরনের ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়েছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু)। এসব ঘটনার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছেন রাকসু নেতারা।
শুক্রবার জুমার নামাজের পর বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের সামনে থেকে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করেন তারা। এ সময় তারা দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে জড়িতদের গ্রেপ্তার করে সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানান।
মিছিলে বিক্ষোভকারীরা ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’, ‘ধর্ষকের ঠিকানা, এই বাংলায় হবে না’, ‘ধর্ষকের শাস্তি হোক, ইনসাফের জয় হোক’, ‘নির্বাচনের ১৫ দিনে, প্রশাসনকে নিল কিনে’, ‘তারেক রহমান জানেন নাকি, ধর্ষকের নেতা আপনি’ স্লোগান দেন।
সমাবেশে রাকসু ভিপি মোস্তাকুর রহমান জাহিদ বলেন, সারা দেশে একটি বিশেষ দলের নেতাকর্মীরা যেভাবে হত্যা ও ধর্ষণ করছে; এগুলো দেখার পর প্রশাসন ও বিচার বিভাগ যেভাবে নীরব হয়ে আছে। আমরা বলতে চাই, এরকম অন্যায়-অবিচার নিজের দলের লোক করলেও যদি এর বিচার করেন; তাহলে মনে করব আপনি ইনসাফের পক্ষে রয়েছেন। আর যদি নিজের দলের লোক মনে করে বিচার বিভাগকে হাতে নিয়ে বিচারকে দমিত করে ধর্ষককে নিরাপত্তা দেন; তাহলে আমরা মনে করব- আপনি স্বৈরাচার হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন।
বিক্ষোভে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী হল সংসদের ভিপি কাউসার হাবিব বলেন, সরকার গঠনের পরপরই নোয়াখালীর হাতিয়া থেকে নরসিংদী পর্যন্ত যে নৃশংসতা ঘটেছে—বিশেষ করে কন্যাশিশুকে বাবার কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়ে সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণ ও হত্যা; এটি মানবতার বিরুদ্ধে ঘৃণ্যতম অপরাধ। এমন বর্বরতা কোনো সভ্য সমাজে মেনে নেওয়া যায় না।
নারীদের সম্মান, নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর একটি গণতান্ত্রিক নির্বাচনের মধ্যদিয়ে দেশে নতুন সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। অন্যথায়, অন্যায়ের বিরুদ্ধে দেশের ছাত্রসমাজ ও সচেতন জনতা সব সময়ই ঐক্যবদ্ধভাবে রুখে দাঁড়াতে প্রস্তুত—এ কথা সংশ্লিষ্ট সবাইকে স্মরণ রাখতে হবে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

