গণভবনের বৈঠকে অংশ নেওয়া বিতর্কিত শিক্ষক এবার জবির ডিন

লিমন ইসলাম, জবি

গণভবনের বৈঠকে অংশ নেওয়া বিতর্কিত শিক্ষক এবার জবির ডিন
ড. আইনুল ইসলাম

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) বিতর্কিত শিক্ষক ও নীল দলনেতা অধ্যাপক ড. আইনুল ইসলামকে সামাজিকবিজ্ঞান অনুষদের নতুন ডিন হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। চব্বিশের জুলাই বিপ্লবের সময় যখন সারা দেশে ছাত্র-জনতার ওপর নির্বিচারে গণহত্যামূলক দমন-পীড়ন চলছিল, ঠিক সেই সময়ে গণভবনে গিয়ে খুনি শেখ হাসিনাকে সমর্থন ও পরামর্শ দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। ফ্যাসিবাদের দোসর হিসেবে অভিযুক্ত এই শিক্ষককে বিচারের আওতায় আনার পরিবর্তে এমন গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানোর জেরে জবি ক্যাম্পাসজুড়ে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে।

বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, ২০২৪ সালের ৩ আগস্ট ছাত্র আন্দোলন চলাকালে গণভবনে আওয়ামীপন্থি শিক্ষকদের একটি বৈঠকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের আওয়ামীপন্থি শিক্ষকদের সংগঠন ‘নীল দল’-এর একাংশের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন ড. আইনুল ইসলাম। বৈঠকে তিনি তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং শিক্ষার্থীদের আন্দোলন দমনে তাদের ওপর গুলি চালানোর পরামর্শ দিয়েছিলেন। জবির সাবেক উপাচার্য মীজানুর রহমান ও সাদেকা হালিমও সেখানে উপস্থিত ছিলেন।

বিজ্ঞাপন

ড. আইনুল ইসলামের বিরুদ্ধে শুধু ফ্যাসিবাদের তোষামোদিই নয়, অতীতেও একাধিক গুরুতর নৈতিক স্খলন ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের রেকর্ড রয়েছে। ২০১০ সালে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে এক সহকারী শিক্ষকের সঙ্গে অনৈতিক আচরণের অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। সে সময় তদন্ত শেষে তাকে প্রক্টরের পদ থেকে অপসারণ করা হয়।

২০২২ সালে অধ্যাপক ড. আইনুল ইসলাম ডিবেটিং সোসাইটির উপদেষ্টা হিসেবে নির্বাচনে ছাত্রলীগের পুরো প্যানেলকে জেতানোর লক্ষ্যে অফিস সেক্রেটারি পদপ্রার্থী মেহেদী হাসান খানকে শিবির হিসেবে ধরিয়ে দেন। পুলিশ মেহেদীর বাসার ১১ জনকে শিবির হিসেবে আটক করে। এর পরপরই তৎকালীন প্রশাসনের রেজিস্ট্রার দপ্তর ওই ১১ শিক্ষার্থীকে সাময়িক বহিষ্কার করে। পরবর্তী সময়ে মামলাটি মিথ্যা প্রমাণিত হয় এবং ওই শিক্ষার্থীরা খালাস পান। কিন্তু এর আগে দীর্ঘদিন ওই শিক্ষার্থীদের জেল খাটতে হয়।

এছাড়া আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের ঠিক পরপরই ২০২৪ সালের ১১ আগস্ট জবি ক্যাম্পাস থেকে বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র ও ফাইল গায়েব করার চেষ্টা চালান ড. আইনুল ইসলাম। সে সময় তিনি ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রারের দায়িত্বে ছিলেন। তবে সাধারণ শিক্ষার্থীরা বিষয়টি টের পেয়ে তার এই প্রচেষ্টা নস্যাৎ করে দেন।

এদিকে ড. আইনুল ইসলামকে ডিন বানানোর ঘটনায় তীব্র ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ও আলটিমেটাম দিয়েছেন ক্যাম্পাসের শীর্ষ ছাত্রনেতারা। জবি ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেল বলেন, ৩ আগস্ট যখন আমাদের ভাইদের রক্তে রাজপথ রঞ্জিত হচ্ছিল, তখন যারা গণভবনে গিয়ে খুনি হাসিনাকে টিকিয়ে রাখার বুদ্ধি দিচ্ছিল, তারা সরাসরি অপরাধী। আমরা অবিলম্বে এই বিতর্কিত নিয়োগ বাতিলের দাবি জানাচ্ছি, অন্যথায় শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিয়ে কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে।

জকসুর ভিপি রিয়াজুল ইসলাম বলেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কোনো ফ্যাসিবাদের পুনর্বাসন কেন্দ্র হতে পারে না। বর্তমান উপাচার্য মুখে বড় বড় কথা বললেও কাজে তার উল্টোটা দেখা যাচ্ছে। আমরা শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধি হিসেবে স্পষ্ট বলতে চাই, স্বৈরাচারের এই দোসরকে ডিন পদ থেকে অপসারণ করতে হবে।

জবি ছাত্রশিবিরের সভাপতি ও জকসুর জিএস আব্দুল আলিম আরিফ বলেন, বর্তমান প্রশাসন একদিকে ফ্যাসিবাদের বিচারের কথা বলে, অন্যদিকে গোপনে আইনুল ইসলামদের মতো কুখ্যাত স্বৈরাচারের দোসরদের পুনর্বাসন করে দ্বিমুখী নীতি দেখাচ্ছে। আমরা জবি ছাত্রশিবিরের পক্ষ থেকে পরিষ্কার ঘোষণা করছি—ক্যাম্পাসে কোনো স্বৈরাচারের দালালদের রাজত্ব আর চলতে দেওয়া হবে না।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...