বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলাদেশ-পাকিস্তান ‘নলেজ করিডোর’ শীর্ষক সেমিনার ও শিক্ষা মেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার পাকিস্তান হাইকমিশনের উদ্যোগে বিশ্ববিদ্যালয়ের কীর্তনখোলা হলে এ আয়োজন করা হয়। সেমিনারে দুই দেশের উচ্চশিক্ষা, গবেষণা সহযোগিতা ও শিক্ষার্থী বিনিময়ের সম্ভাবনা তুলে ধরা হয়।
অনুষ্ঠান শেষে প্রশাসনিক ভবন-১ এর নিচে পাকিস্তানের ২০টি বিশ্ববিদ্যালয়ের অংশগ্রহণে এক শিক্ষা মেলার আয়োজন করা হয়। সেখানে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর প্রতিনিধিরা শিক্ষার্থীদের স্কলারশিপ, ভর্তি প্রক্রিয়া, আবাসন সুবিধা এবং উচ্চশিক্ষা সংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য তুলে ধরেন।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বাংলাদেশি মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য মোট ৫০০টি পূর্ণাঙ্গ স্কলারশিপের সুযোগ রাখা হয়েছে। এর মধ্যে চলতি বছরেই ১৩০টি স্কলারশিপ প্রদান করা হবে। পাশাপাশি অংশগ্রহণকারী বিশ্ববিদ্যালয়গুলো নিজস্ব ব্যবস্থাপনাতেও অতিরিক্ত কয়েকশ বৃত্তির সুযোগ রাখছে।
সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে পাকিস্তান হায়ার এডুকেশন কমিশন (এইচইসি)-এর হিউম্যান রিসোর্স ডেভেলপমেন্ট ডিভিশনের প্রজেক্ট ডিরেক্টর জেহানজেব খান বলেন, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় একটি সম্ভাবনাময় ও মনোরম শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এখানকার শিক্ষার্থীদের জন্য পাকিস্তানের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় উচ্চশিক্ষার সুযোগ নিয়ে অপেক্ষা করছে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের সংস্কৃতি ও খাদ্যাভ্যাসে অনেক মিল রয়েছে। পাকিস্তানের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো থেকে পড়াশোনা সম্পন্ন করলে বিশ্বের উন্নত দেশগুলোতে উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন সুযোগ পেয়ে থাকে। বর্তমানে পাকিস্তানের অন্তত ৩৫টি বিশ্ববিদ্যালয় কিউএস র্যাঙ্কিংয়ে স্থান পেয়েছে বলেও জানান তিনি।
এ সময় তথ্যপ্রযুক্তি (আইটি), কৃষি এবং আধুনিক বিজ্ঞানভিত্তিক বিষয়ে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের আগ্রহী হওয়ার আহ্বান জানান জেহানজেব খান।
সেমিনারে আরও বক্তব্য দেন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষক মো. সাখাওয়াত হোসেন এবং উপ-পুলিশ কমিশনার মো. আব্দুল হান্নান। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পাকিস্তান হাইকমিশন, ঢাকার সহকারী কমিশনার মাসুমা আক্তার, ডেপুটি হাইকমিশনার মোহাম্মদ ওয়াসিফ এবং বরিশালের ডেপুটি কমিশনার খাইরুল আলমসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মো. রবিউল হাসান বলেন, পাকিস্তানে উচ্চশিক্ষার স্কলারশিপ বিষয়ে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের অবহিত করতেই এই আয়োজন করা হয়েছে। এখানে শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা, শিক্ষাব্যবস্থা ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর একাডেমিক কার্যক্রম সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হচ্ছে। ২০টি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিরা সরাসরি তথ্য দেওয়ায় এটি উচ্চশিক্ষায় আগ্রহী শিক্ষার্থীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

