গাজা উপত্যকা থেকে ফিলিস্তিনিদের সরিয়ে অন্য দেশে পাঠানোর পরিকল্পনা প্রকাশ করেছেন ইসরাইলের উগ্র ডানপন্থি জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন গভির।
তার প্রস্তাব অনুযায়ী, আগামী সাত বছরে গাজা থেকে প্রায় ১৮ লাখ ৬০ হাজার ফিলিস্তিনিকে সরিয়ে নেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার তিনি পরিকল্পনাটি প্রকাশ করেন।
বেন গভিরের প্রস্তাবের নাম ‘ডিসএনগেজমেন্ট ৭১০’। তিনি উগ্র ডানপন্থি ও ইহুদি শ্রেষ্ঠত্ববাদী দল ওতজমা ইয়েহুদিতের (জিউইশ পাওয়ার) নেতা। গাজা থেকে ফিলিস্তিনিদের সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনাটি তার নির্বাচনী প্রচারের অন্যতম প্রধান বিষয়। ভবিষ্যতে কোনো জোট সরকারে যোগ দেওয়ার ক্ষেত্রেও তিনি এটিকে শর্ত হিসেবে রাখতে চান।
ইসরাইলি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, কয়েক মাস ধরে এই পরিকল্পনা তৈরি করেছেন বেন গভির। এতে প্রথম বছরে ২ লাখ ৫০ হাজার ফিলিস্তিনিকে গাজা থেকে সরিয়ে নেওয়ার লক্ষ্য রাখা হয়েছে। তিন বছরের মধ্যে এই সংখ্যা ১১ লাখ ১০ হাজারে এবং সাত বছরের মধ্যে প্রায় ১৮ লাখ ৬০ হাজারে উন্নীত করার কথা বলা হয়েছে।
গাজায় ইতোমধ্যে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালানো হয়েছে। ইসরাইলি হামলায় ৮০ শতাংশের বেশি ঘরবাড়ি, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, স্কুল, বিশ্ববিদ্যালয় ও হাসপাতাল ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একই সঙ্গে খাদ্য ও পানির সরবরাহ সীমিত করা হয়েছে। এসব পরিস্থিতির মধ্যেও ইসরাইলি বাহিনী গাজায় প্রতিদিন ফিলিস্তিনিদের হত্যা করে চলেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
বেন গভিরের পরিকল্পনায় ফিলিস্তিনিদের ‘স্বেচ্ছায়’ গাজা ছাড়ার বিষয়টিকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তাদের তুরস্ক, ইথিওপিয়া, কঙ্গো এবং কয়েকটি আরব দেশে পাঠানোর কথা বলা হয়েছে। এ জন্য ‘আন্তর্জাতিক অংশীদারত্ব’ প্রয়োজন হবে। যেসব দেশ ফিলিস্তিনিদের গ্রহণ করবে, তাদের সঙ্গে সমঝোতা করার কথাও পরিকল্পনায় রয়েছে।
পরিকল্পনাটি বাস্তবায়নে বিপুল অর্থের প্রয়োজন হবে। প্রথম বছরেই ৩ বিলিয়ন ডলারের বেশি ব্যয় হতে পারে। সাত বছরে মোট ব্যয় প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে বলে পরিকল্পনায় উল্লেখ করা হয়েছে।
বেন গভির বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর জোট সরকারের অংশ। আগামী সরকার গঠনের সময়ও গাজা থেকে ফিলিস্তিনিদের সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনাকে তিনি জোটে যোগ দেওয়ার শর্ত করতে চান।
এ জন্য জোরপূর্বক স্থানান্তর তদারকির দায়িত্বে একজন মন্ত্রী নিয়োগের দাবি জানিয়েছেন বেন গভির। ওই মন্ত্রীর অধীনে একজন মহাপরিচালক, আলাদা বাজেট এবং ব্যাপক ক্ষমতা দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আলোচনা চালানোর জন্য একটি বিশেষ দল গঠনের কথাও বলা হয়েছে।
এদিকে ইসরাইলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ বুধবার একই ধরনের মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, ‘শেষ পর্যন্ত অভিবাসন ছাড়া গাজার জন্য কোনো বাস্তব সমাধান নেই।’
ফিলিস্তিনিদের গ্রহণ করতে পারে এমন দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন চায় বলেও জানান কাৎজ। তার ভাষ্য, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই পরিকল্পনা বাতিল করেননি; বরং এটি স্থগিত রেখেছেন।
আরব দেশগুলোর চাপের কারণে এমনটি হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।
জুনের শেষ দিকে ইসরাইল পরিকল্পনাটির নাম ‘স্বেচ্ছা অভিবাসন’ থেকে বদলে ‘ফ্রিডম অব মুভমেন্ট প্ল্যান’ বা ‘চলাচলের স্বাধীনতা পরিকল্পনা’ করে। তবে এর কাঠামোয় ফিলিস্তিনিদের নিজ ভূমিতে ফিরে আসার অধিকার বা সে বিষয়ে কোনো নিশ্চয়তার উল্লেখ নেই।
ফিলিস্তিনিরা ‘স্বেচ্ছায়’ গাজা ছাড়বেন—ইসরাইলের এমন বক্তব্য নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা রয়েছে। সমালোচকেরা বলছেন, দীর্ঘস্থায়ী হামলা, ধ্বংসযজ্ঞ ও জীবনযাপনের অনুপযোগী পরিস্থিতির মধ্যে মানুষকে চলে যেতে বাধ্য করা হলে সেটিকে প্রকৃত অর্থে ‘স্বেচ্ছা’ বলা যায় না।
এএম
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

