সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের সংগঠন ইউনিভার্সিটি টিচার্স লিংক (ইউটিএল) এর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) শাখার ২৬ সদস্যবিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। এতে আহ্বায়ক হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন আরবি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. যুবায়ের মুহাম্মদ এহসানুল হক, আর সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন গণিত বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. মোতালেব হোসেন।
বৃহস্পতিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই কমিটি ঘোষণা করেন ইউটিএল এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক ও ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো. আতাউর রহমান বিশ্বাস।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে অধ্যাপক আতাউর রহমান বিশ্বাস বলেন, “জ্ঞান, আত্মমর্যাদা, বিশ্বাস ও স্বাধীনতা- এই চার মূলনীতিকে ধারণ করেই ইউনিভার্সিটি টিচার্স লিংক (ইউটিএল) আত্মপ্রকাশ করেছে। ২০২৪ সালের জুলাই মাসে সংঘটিত ছাত্র-জনতার অভূতপূর্ব বিপ্লব জাতীয় চেতনা ও মননকে নতুনভাবে জাগিয়ে তুলেছে। সেই পরিবর্তনের ধারায় ইউটিএল শিক্ষা অঙ্গনে এক ইতিবাচক রূপান্তরের স্বপ্ন দেখে।
তিনি আরও বলেন, শিক্ষকদের মর্যাদা রক্ষা, একাডেমিক সততা, নিরাপদ ও মুক্ত ক্যাম্পাস, গবেষণায় উৎকর্ষতা এবং জাতীয় উন্নয়নে গঠনমূলক সম্পৃক্ততা ইউটিএল-এর মূল লক্ষ্য। রাজনৈতিক আনুগত্যের সংস্কৃতি থেকে মুক্ত থেকে আমরা এমন এক শিক্ষা পরিবেশ গড়ে তুলতে চাই যেখানে জ্ঞান, আত্মমর্যাদা ও স্বাধীন চিন্তা বিকশিত হবে।
ঢাবি শাখার নবগঠিত আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. যুবায়ের মুহাম্মদ এহসানুল হক বলেন, প্রায় শতবর্ষী এই বিশ্ববিদ্যালয় জাতির বুদ্ধিবৃত্তিক নেতৃত্বের প্রতীক হলেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে প্রশাসনিক দুর্নীতি, দায়িত্বহীনতা ও রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে এটি তার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জন করতে পারেনি। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বিভিন্ন সংগঠন থাকলেও তাদের অনেকগুলোই রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত নয়। ফলে সাধারণ শিক্ষকদের যৌক্তিক দাবি ও পেশাগত মর্যাদা অর্জনে তারা ব্যর্থ হয়েছে।
তিনি বলেন, ২৪শে জুলাইয়ের অভ্যুত্থান-উত্তর নতুন বাংলাদেশে এমন একটি শিক্ষক সংগঠনের প্রয়োজন ছিল যারা বিশ্বাস করে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক জাতির নৈতিক ও জ্ঞানভিত্তিক পথনির্দেশক। ইউটিএল সেই প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ।
ইউটিএল-এর কেন্দ্রীয় সদস্য সচিব অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বিলাল হোসাইন বলেন, “জুলাই বিপ্লব-পরবর্তী বাংলাদেশ নৈতিক ও আদর্শিক পুনর্গঠনের পথে। এই সময়ে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের নীরব পর্যবেক্ষকের ভূমিকায় সীমাবদ্ধ না থেকে জাতির দিকনির্দেশক ও জনমত নির্মাতা হিসেবে ভূমিকা রাখতে হবে। সেই লক্ষ্যেই ইউটিএল নিজেকে একটি পেশাদার, আদর্শনিষ্ঠ ও কার্যকর শিক্ষক সংগঠন হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চায়।
ইউটিএল-এর নেতৃবৃন্দ জানান, ২৬ জুলাই সংগঠনটির আত্মপ্রকাশের পর থেকেই তারা দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে সংগঠন সম্প্রসারণ, শিক্ষা ও গবেষণার মানোন্নয়ন, এবং শিক্ষক সমাজের মর্যাদা রক্ষায় নানা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

