দুই দিনের সংঘর্ষের পর একই মঞ্চে শিবির-ছাত্রদল, বেরোবিতে সম্প্রীতির বার্তা

বেরোবি প্রতিনিধি

দুই দিনের সংঘর্ষের পর একই মঞ্চে শিবির-ছাত্রদল, বেরোবিতে সম্প্রীতির বার্তা

টানা দুই দিনের দফায় দফায় সংঘর্ষ, ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও পাল্টাপাল্টি কর্মসূচির পর রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসের আয়োজনে একই মঞ্চে উপস্থিত হয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা। এ সময় দুই সংগঠনের নেতারা সহিংসতা ও মতবিরোধ পরিহার করে ক্যাম্পাসে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান বজায় রাখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

বুধবার সকাল থেকে পূর্বঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উদ্যোগে আনন্দ শোভাযাত্রা, বৃক্ষরোপণ ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, বিভিন্ন অনুষদের ডিন, শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরাও অংশ নেন।

বিজ্ঞাপন

কর্মসূচির শুরুতে বৃষ্টি উপেক্ষা করে ছাতা হাতে আনন্দ শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রাটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক থেকে শুরু হয়ে শহীদ আবু সাঈদ চত্বর ও মর্ডান মোড় প্রদক্ষিণ করে প্রশাসনিক ভবনের দক্ষিণ গেটে গিয়ে শেষ হয়।

পরে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের স্মরণে ক্যাম্পাসে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালন করা হয়। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের সঙ্গে ছাত্রশিবির ও ছাত্রদলের সভাপতিরাও অংশ নেন।

অনুষ্ঠানে বেরোবি শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি মো. আব্দুর রাকিব মুরাদ বলেন, ‘ছাত্রদল কোনো কর্মসূচি করেছে আর আমরা বাধা দিয়েছি—এমন কোনো ঘটনা নেই। আমরা আগেও বাধা দিইনি, এখনো দিচ্ছি না। আমরা চাই ক্যাম্পাসে সহাবস্থান ও স্থিতিশীল পরিবেশ বজায় থাকুক।’

তিনি আরও বলেন, ‘ক্যাম্পাসে কোনো ধরনের সংঘাত বা বিশৃঙ্খলা কাম্য নয়। পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহনশীলতার মাধ্যমে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।’ এ সময় তিনি আশা প্রকাশ করেন, ছাত্রদলের পক্ষ থেকে লেখা ‘শিবির মুক্ত ক্যাম্পাস’ লেখাটি দুপুরের মধ্যে মুছে ফেলা হবে।

বেরোবি শাখা ছাত্রদলের সভাপতি রাফায়েল ইমতিয়াজ ইয়ামিন বলেন, ‘জুলাই নিয়ে শিবির ও ছাত্রদলের কোনো মতপার্থক্য নেই। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সব ধর্ম, বর্ণ ও শ্রেণির মানুষের ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টায় আমরা ত্রাসের রাজনীতি থেকে মুক্ত হয়ে একটি সুন্দর বাংলাদেশ পেয়েছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘জুলাই আমাদের যেভাবে ঐক্যবদ্ধ করেছিল, সেই ঐক্যবদ্ধ শক্তিতেই নতুন বাংলাদেশ গড়তে হবে। মতবিরোধ ও দ্বন্দ্ব রাখা যাবে না। অন্যথায় আবারও ফ্যাসিবাদী শক্তি ফিরে আসতে পারে। তাই বিশৃঙ্খলা, সহিংসতা ও বিভেদ পরিহার করে সুন্দর বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।’

এর আগে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসের কর্মসূচি ঘিরে বেরোবিতে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। দুই দিন ধরে সংঘর্ষ, ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও পাল্টাপাল্টি কর্মসূচির ঘটনায় ক্যাম্পাসে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল।

তবে বুধবারের কর্মসূচিতে দুই সংগঠনের নেতাকর্মীদের একই মঞ্চে উপস্থিতি এবং যৌথ অংশগ্রহণকে ক্যাম্পাসের চলমান পরিস্থিতিতে ইতিবাচক পরিবর্তনের ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শওকাত আলী বলেন, ‘আজ আমাদের আনন্দের দিন। ২০২৪ সালের জুলাইয়ে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের ফলশ্রুতিতে দেশে গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরে এসেছে।’

তিনি বলেন, ‘তারুণ্যের অহংকার তরুণরা যেভাবে একত্রিত হয়ে কাজ করেছে, এখনো তাদের মধ্যে সেই সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ রয়েছে। বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় আজও তা দেখিয়েছে। বর্ণাঢ্য র‍্যালিতে সর্বস্তরের শিক্ষার্থী, ছাত্রদল ও ছাত্রশিবির একসঙ্গে অংশ নিয়েছে। পাশাপাশি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতেও সবাই অংশগ্রহণ করেছে।’

উপাচার্য আরও বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় হচ্ছে জ্ঞানচর্চা ও মুক্ত মতের জায়গা। এখানে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখা সবার দায়িত্ব।’

দুই দিনের উত্তেজনার পর একই কর্মসূচিতে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের অংশগ্রহণকে ক্যাম্পাসে সম্প্রীতি ও সহাবস্থানের বার্তা হিসেবে দেখছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের অনেকে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন