বাপের বাড়িতে চলছে মাতম

চকরিয়ায় শ্বশুরবাড়িতে গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু

চকরিয়ায় শ্বশুরবাড়িতে গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু

কক্সবাজারের চকরিয়ায় শ্বশুরবাড়িতে সাদিয়া জান্নাত (২২) নামে এক গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় তার বাপের বাড়ি পেকুয়ায় চলছে মাতম। গত মঙ্গলবার বিকেলে চকরিয়া পৌর সদরের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের নিরিবিলি আবাসিক এলাকার শ্বশুরবাড়িতে রহস্যজনক মৃত্যু হয় ওই গৃহবধূর।

ময়নাতদন্ত শেষে বুধবার বিকেলে নিহত সাদিয়ার লাশ তার গ্রামের বাড়ি পেকুয়ায় পৌঁছালে সেখানে এক হৃদয় বিদারক দৃশ্যের অবতারণা ঘটে। এ সময় নিহতের মা-বাবা, ভাইবোন, আত্মীয়স্বজন ও পাড়া-প্রতিবেশীদের মাঝে শুরু হয় মাতম। এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৯টা পর্যন্ত থানায় কোনো মামলা হয়নি বলে নিশ্চিত করেছেন চকরিয়া থানার ওসি আরিফুর রহমান।

বিজ্ঞাপন

এদিকে বাথরুমের ভেতরে গৃহবধু সাদিয়া জান্নাত নিহতের ঘটনার ব্যাপারে তার শাশুড়ী সাজেদা বেগম ও ননদ সুমি আক্তার জানান, মঙ্গলবার দুপুরে খাবার খাওয়ানোর সময় গৃহবধূ সাদিয়া জান্নাত তার শিশুকন্যাকে মারধর করলে তখন তাকে হালকা বকাঝকা করা হয়। এ সময় সে মন খারাপ করে বাথরুমে ঢুকে পড়ে। দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হওয়ার পরও গৃহবধূ সাদিয়া বাথরুম থেকে বের না হওয়ায় পরিবারের সদস্যরা তাকে ডাকাডাকি করে। এতে তার কোনো সাড়া না পাওয়ায় একপর্যায়ে বাথরুমরে দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে সাদিয়াকে বাথরুমের ভেতরে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পায় তারা। তাৎক্ষণকিভাবে তাকে সেখান থেকে উদ্ধার করে চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক সাদিয়া জান্নাতকে মৃত ঘোষণা করেন।

অপরদিকে নিহত সাদিয়ার মায়ের দাবি, যৌতুকের জন্যই তার আদরের মেয়েকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছেন স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন। কারণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, গত কয়েক মাস ধরেই আমার মেয়েকে তার স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন অব্যাহতভাবে চাপ দিয়ে আসছিল বাপের বাড়ি থেকে যৌতুক হিসেবে ৩ লাখ টাকা এনে দেওয়ার জন্য। তাদের অন্যায় আবদারে সাড়া না দেওয়ায় বিয়ের তিন বছরের মাথায় আজ আমার মেয়েকে যৌতুকের বলি হতে হলো বলে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। এ সময় প্রশাসনের কাছে এ নির্মম হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচারও দাবি করেন সাদিয়ার মা।

চকরিয়া থানার পুলিশ সূত্র জানায়, পৌর সদরের বাসাবাড়িতে সাদিয়া জান্নাত নামে এক গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যুর খবর পেয়ে মঙ্গলবার বিকেলে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার নির্দেশে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যান উপপরির্দশক (এসআই) মহিউদ্দিন ভূঁইয়া। লাশ উদ্ধারের পর সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি শেষে রাতেই তিনি গৃহবধূর লাশ ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠান।

ময়নাতদন্তকালে নিহত গৃহবধুর শরীরের কোথাও আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি বলেও জানান এসআই মহিউদ্দিন ভূঁইয়া। তবে গ্রামের বাড়িতে নিয়ে নিহত সাদিয়া জান্নাতকে জীবনের শেষ গোসল দেওয়ার সময় তার শরীরে অসংখ্য আঘাতের চিহ্ন দেখতে পেয়েছেন বলে জানান স্বজনেরা।

এদিকে বুধবার বিকেলে ময়নাতদন্ত শেষে নিহত সাদিয়া জান্নাতের লাশ তার গ্রামের বাড়ি পেকুয়ায় পৌঁছালে সেখানে এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চকরিয়া পৌর শহরের নিজ শ্বশুরবাড়িতে নিহত সাদিয়া জান্নাত পেকুয়া উপজেলা সদরের আব্দুল হামিদ সিকদারপাড়া এলাকার বাসিন্দা রিদুয়ানুল হকের মেয়ে। তিন বছর আগে মাতামুহুরি উপজেলার কোনাখালী ইউনিয়নের পুরুত্যাখালী এলাকার মৃত নুরুল হোসেনের ছেলে মোহাম্মদ সোহেলের সঙ্গে পারিবারিকভাবে বিয়ে হয় সাদিয়া জান্নাতের। বর্তমানে তাদের সংসারে দেড় বছরের ফুটফুটে একটি কন্যাসন্তান রয়েছে।

চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত র্কমর্কতা (ওসি) আরিফুর রহমান বলেন, লিখিত অভিযোগ প্রাপ্তিসাপেক্ষে এবং ময়নাতদন্ত রিপোর্টের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে ।

এমএইচ

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন