শিল্পকলায় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মৃত্যুবার্ষিকী পালিত

শিল্পকলায় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মৃত্যুবার্ষিকী পালিত

বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ৮৫তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির আয়োজনে জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়েছে বিশেষ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ‘২২ শ্রাবণ বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর- এর প্রয়াণ দিবসের শ্রদ্ধার্ঘ্য’। সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পৃষ্ঠপোষকতায় আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে আলোচনা সভার পাশাপাশি রবীন্দ্রসংগীত, নৃত্য ও আবৃত্তির এক চমৎকার সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা উপহার দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী জনাব নিতাই রায় চৌধুরী, এমপি। তিনি বক্তব্যে রবীন্দ্রনাথের বহুমাত্রিক অবদানের কথা স্মরণ করেন এবং মঞ্চে কবিগুরুর বিখ্যাত ‘পৃথিবী’ কবিতার অংশবিশেষ আবৃত্তি করে শোনান। সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব জনাব কানিজ মওলার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন এবং কবিতা পাঠ করেন বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক কবি শেখ রেজাউদ্দিন আহমেদ (রেজাউদ্দিন স্টালিন)। এছাড়া অন্যান্যের মধ্যে শুভেচ্ছা বক্তব্য প্রদান করেন চাঁদপুর জেলার জেলা প্রশাসক জনাব আহমেদ জিয়াউর রহমান।

বিজ্ঞাপন

আলোচকবৃন্দ তাঁদের বক্তব্যে রবীন্দ্রনাথের অসাম্প্রদায়িক চেতনা, মানবতাবাদী দর্শন ও অনন্য সৃষ্টিকর্মকে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।

সাংস্কৃতিক পর্বের শুরুতেই পরিবেশনা উপস্থাপন করে চাঁদপুর জেলা শিল্পকলা একাডেমি। এরপর বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির কণ্ঠশিল্পীদের সমবেত কণ্ঠে ‘আগুনের পরশমণি’ পরিবেশনার মধ্য দিয়ে পুরো মিলনায়তনে রবীন্দ্রসংগীতের এক দ্যোতনা সৃষ্টি হয়। একক সংগীত পরিবেশন করেন ফাহিম হোসেন চৌধুরী, অনিমা রায়, তানিয়া ইসলাম, চঞ্চল খান, মোহাম্মদ শহিদুল হক, দেবলীনা সুরসহ আরও অনেকে। সমবেত সংগীতে অংশ নেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, রবীন্দ্র সৃজনকলা বিশ্ববিদ্যালয় এবং সরকারি সংগীত কলেজের শিক্ষার্থীরা।

কবিগুরুর গান ও কবিতার ভাব, প্রেম, প্রকৃতি, বিরহ ও জীবন-মৃত্যুচেতনাকে নৃত্যের ছন্দে ফুটিয়ে তোলেন শিল্পকলা একাডেমির নৃত্যশিল্পীসহ নৃত্যনন্দন, ভাবনা, কায়া আশ্রম, আরাধনা, তপস্যা ও দিবা সাংস্কৃতিক সংগঠনের শিল্পীরা। অনুষ্ঠানে সীমা ইসলাম ও টিটো মুন্সী রবীন্দ্রকবিতা আবৃত্তি করেন।

অনুষ্ঠানে ‘যখন পড়বে না মোর পায়ের চিহ্ন’, ‘মরণ রে, তুঁহু মম শ্যামসমান’, ‘আমার প্রাণের মানুষ আছে প্রাণে’, ‘তোমার হলো শুরু আমার হলো সারা’ সহ কবিগুরুর বেশ কিছু কালজয়ী গান, কবিতা ও নৃত্য পরিবেশনার মধ্য দিয়ে রবীন্দ্রপ্রেমীরা শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন এই বিশ্বকবিকে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন