ইরানের ওপর ওয়াশিংটনের সদ্য ঘোষিত ‘ডি-ডে’ নিষেধাজ্ঞাকে কঠোর ভাষায় আক্রমণ করেছেন মার্কিন ডেমোক্র্যাটিক সিনেটর ক্রিস মারফি। তেহরানের বিরুদ্ধে সামরিক যুদ্ধে আমেরিকার চরম ব্যর্থতা ঢাকতেই ট্রাম্প প্রশাসন এ ধরনের ‘মরিয়া চেষ্টা বা লোকদেখানো ব্যবস্থা’ নিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বার্তায় ডেমোক্র্যাট এই সিনেটর লেখেন, ‘এই ডি-ডে নীতি কেবলই এক লোকদেখানো ফাঁকা বুলি। ইরান যুদ্ধে জিতছে আর ট্রাম্প হারছেন। আর এর চরম মাশুল গুনতে হচ্ছে সাধারণ আমেরিকানদের।’
সামরিক সংঘাতের ক্ষেত্রে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ধারাবাহিকভাবে হেরে যাওয়ার চিত্র তুলে ধরে মারফি বলেন, যুদ্ধের আগে হরমুজ প্রণালির পুরো নিয়ন্ত্রণ ইরানের হাতে ছিল না। তবে বর্তমানে এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথটির পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ এখন তেহরানের হাতে।
ইরান সামরিক দিক থেকে যুদ্ধের বড় অংশে জিতে গেছে উল্লেখ করে তিনি জানান, হরমুজ প্রণালি সংলগ্ন ৩৩টি ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটির মধ্যে ৩০টিই অক্ষত রাখতে পেরেছে তেহরান। অথচ প্রতিপক্ষ আমেরিকা তাদের হাতে থাকা অস্ত্র সম্ভারের প্রায় পুরোটাই ব্যবহার করে নিঃশেষ করে ফেলেছে।
সিনেটর মারফির মতে, যুদ্ধের ময়দানে দরকষাকষির মূল সুবিধাটি এখন ইরানের অনুকূলে। তাই ওয়াশিংটনের এই নতুন নিষেধাজ্ঞা তেহরানের নীতিগত অবস্থান সামান্যতমও পরিবর্তন করতে পারবে না।
যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার সীমা নিয়ে প্রশ্ন তুলে মারফি আরো লেখেন, ‘আমরা ইতোমধ্যে ইরানের সম্ভাব্য সব কিছুর ওপরই নিষেধাজ্ঞা দিয়ে ফেলেছি। নতুন করে নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার মতো আর কিছুই বাকি নেই। তাই এই ‘ডি-ডে’ কেবলই একটি ফাঁকা বুলি ছাড়া কিছু নয়।’
যুদ্ধের সার্বিক পরিস্থিতি বর্ণনা করে এই মার্কিন সিনেটর বলেন, ‘সংঘাত মূলত শেষ হয়ে এসেছে। চরম সত্য হলো, ইরান জিতে গেছে। ওয়াশিংটনের বর্তমান নীতিগুলো কেবলই ব্যর্থতা ঢাকার লোকদেখানো আয়োজন।’
এএম
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

