আমার দেশ জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পেপার

বীর-উত্তম জিয়াউর রহমান

বিচিত্র কুমার

বীর-উত্তম জিয়াউর রহমান

সূর্যটা তখন পশ্চিম আকাশে লালচে আভা ছড়াচ্ছে। উঠোনের এক কোণে বসে ছোট্ট রিফাত অপেক্ষা করছে তার দাদুর জন্য। প্রতি সন্ধ্যায় দাদু তাকে গল্প বলেন—কখনো রাজাদের, কখনো বীর সেনানীদের, কখনো মুক্তিযুদ্ধের। আজও সে একটা নতুন গল্প শুনবে।

দাদু এসে রিফাতের মাথায় হাত বুলিয়ে বললেন, ‘আজ তোকে এক সত্যিকারের বীরের গল্প বলব, যার নাম বীর-উত্তম জিয়াউর রহমান। তিনি শুধু একজন মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন না, তিনি ছিলেন বাংলাদেশের স্বাধীনতার এক সাহসী নায়ক।’

বিজ্ঞাপন

রিফাত কৌতূহলী হয়ে বসে পড়ল। ‘তিনি কী করেছিলেন, দাদু?’

দাদু একটু চুপ করে আকাশের দিকে তাকালেন, যেন পুরোনো দিনগুলোর কথা মনে করছেন। তারপর ধীর কণ্ঠে বলতে শুরু করলেন, ‘১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতের কথা। সেদিন পাকিস্তানি বাহিনী নিরীহ বাঙালিদের ওপর নির্মম হামলা চালায়। ঢাকাসহ সারা দেশে আগুন জ্বলতে থাকে, হাজার হাজার মানুষ মারা যায়। পুরো দেশ তখন এক বিভীষিকাময় পরিস্থিতির মধ্যে পড়ে যায়।’

রিফাত বিস্ময়ে চোখ বড় বড় করে ফেলল। ‘তারপর কী হলো, দাদু?’

দাদু বললেন, ‘সেই সময় চট্টগ্রামে ছিলেন মেজর জিয়াউর রহমান। তিনি বুঝতে পারলেন, এখন যদি কেউ প্রতিবাদ না করে, তাহলে বাংলাদেশকে রক্ষা করা যাবে না। তাই তিনি ২৭ মার্চ কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা দিলেন।’

রিফাত উত্তেজিত হয়ে বলল, ‘তিনি স্বাধীনতার ঘোষণা দিলেন?’

দাদু মাথা নাড়লেন, ‘হ্যাঁ, বাবা। তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পক্ষে ঘোষণা দিয়েছিলেন, বাংলাদেশ এখন থেকে স্বাধীন। তার এই ঘোষণার পর সারা দেশে মুক্তিযোদ্ধারা উজ্জীবিত হয়ে ওঠে। সবাই পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াইয়ের প্রস্তুতি নেয়।’

রিফাত মুগ্ধ হয়ে শোনে। ‘তারপর, দাদু?’

দাদু বললেন, ‘মেজর জিয়া শুধু ঘোষণা দিয়েই থেমে যাননি। তিনি জেড ফোর্স নামে একদল মুক্তিযোদ্ধা তৈরি করেন এবং পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে সম্মুখ যুদ্ধে নামেন। সিলেট, ময়মনসিংহ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া—যেখানেই শত্রুর ঘাঁটি ছিল, সেখানেই তিনি আঘাত হানতেন। তার বুদ্ধি, সাহস আর নেতৃত্বে অনেক মুক্তিযুদ্ধ সফল হয়। পাকিস্তানি সেনারা তাকে ভয় পেত।’

রিফাত অবাক হয়ে বলল, ‘তিনি কি কখনো ভয় পাননি?’

দাদু হাসলেন, ‘সত্যিকারের বীর কখনো ভয় পায় না রে। একবার তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার এক পাকিস্তানি ক্যাম্পে আক্রমণ করেন। শত্রুরা ছিল প্রচুর, অস্ত্রশস্ত্রও অনেক ছিল। কিন্তু তিনি জানতেন, যদি সঠিক কৌশলে যুদ্ধ করা যায়, তাহলে জয় সম্ভব। তাই তিনি মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে রাতে হামলা চালান, এমনভাবে যে পাকিস্তানি সেনারা বুঝতেই পারেনি কী ঘটছে! সেই যুদ্ধে তারা পরাজিত হয়।’

রিফাত মুগ্ধ হয়ে বলল, ‘তাহলে তো তিনি সত্যিই অসাধারণ ছিলেন!’

দাদু গর্বিত কণ্ঠে বললেন, “তাই তো তিনি ‘বীর-উত্তম’ খেতাব পেয়েছিলেন! এটি বাংলাদেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বীরত্বের পুরস্কার। তিনি শুধু একজন সেনা কর্মকর্তা ছিলেন না, তিনি ছিলেন আমাদের স্বাধীনতার অন্যতম রক্ষক।”

রিফাত কিছুক্ষণ চুপ করে রইল। তারপর বলল, ‘মুক্তিযুদ্ধের পর তিনি কী করেছিলেন, দাদু?’

দাদু বললেন, ‘যুদ্ধের পর তিনি দেশের গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। পরে তিনি বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি হন। তিনি চেয়েছিলেন, বাংলাদেশ একদিন বিশ্বের বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে। তিনি কৃষি, শিল্প ও অর্থনীতিতে উন্নয়নের জন্য নানা পদক্ষেপ নেন। কিন্তু দুঃখের বিষয়, ১৯৮১ সালের ৩০ মে এক অভ্যুত্থানে তাকে হত্যা করা হয়।’

রিফাত চোখ নামিয়ে ফেলল। ‘তাহলে তো তিনি অনেক কষ্ট পেয়েছিলেন, দাদু!’

দাদু মৃদু হাসলেন। ‘বীরেরা কখনো মরে না, রে! তারা মানুষের হৃদয়ে বেঁচে থাকে। তার সাহস, তার আদর্শ, তার ভালোবাসা—এসব আজও বাংলাদেশের মানুষ মনে রেখেছে।’

রিফাত গভীরভাবে ভাবতে লাগল। তারপর চোখ উজ্জ্বল করে বলল, ‘আমি বড় হয়ে দেশের জন্য কাজ করব, দাদু! আমি মেজর জিয়ার মতো সাহসী হতে চাই!’

দাদু আদরের ছেলে তার মাথায় হাত বুলিয়ে দিলেন। ‘এটাই তো আমার চাওয়া, বাবা। আমাদের সবাইকে দেশের জন্য কিছু করতে হবে। তাহলেই বীর-উত্তম জিয়াউর রহমানের মতো মানুষদের আত্মত্যাগ সার্থক হবে।’

রিফাত আকাশের দিকে তাকাল। আজ তার মনে হচ্ছে, রাতের তারাগুলো আরো উজ্জ্বল হয়ে উঠেছে—ঠিক যেন একেকটা মুক্তিযোদ্ধার দীপ্তিময় আত্মা!

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন