বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ২০২৪-এ সারা দেশ থেকে যুক্ত হয়েছিলেন অনেক নারী। তাদের কেউ শিক্ষার্থী, কেউ চাকরিজীবী, কেউ উদ্যোক্তা, কেউ আবার গৃহবধূ। এসব নারীর সাহসিকতা আর অংশগ্রহণের ফলে আন্দোলন বেগবান হয়েছিল, সফল হওয়ার পথে এগিয়ে গিয়েছিল অনেক ধাপ। জুলাইয়ের এমন একজন নির্ভীক নারীর গল্প তুলে ধরেছেন রায়হান আহমেদ তামীম
নাফসিন মেহেনাজ আজিরিন নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী, একজন সাধারণ তরুণী। জুলাইয়ের উত্তাল সময়ে সিদ্ধান্ত নেন ভয়কে পরাজিত করে, অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর।
১৫ জুলাই ছাত্র-জনতা যখন বিক্ষোভে ফেটে পড়েছিল, তখন তার বন্ধুর প্রতিবাদী ফেসবুক পোস্ট তাকে নড়েচড়ে বসতে বাধ্য করে। সিদ্ধান্ত নেন, তার বিবেকের ডাক উপেক্ষা না করার।
‘আমি আর বসে থাকতে পারব না। আমার ভাইবোনদের ওপর যে অন্যায় চলছে, তাদের জন্য আমি লড়াই করব। তাদের অধিকারের জন্য, স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে, আমি আওয়াজ তুলব।’ মনে মনে এমনটাই প্রতিজ্ঞা করেছিলেন নাফসিন।

এভাবেই ১৫ জুলাই থেকে শুরু হয় নাফসিনের পথচলা, এক সাহসী তরুণী হিসেবে তার আন্দোলনে অংশগ্রহণ। প্রথমে কুড়িল বিশ্বরোড, যমুনা এবং বসুন্ধরাÑ এই তিনটি কেন্দ্র ছিল তার সংগ্রামের মূল জায়গা। প্রতিটি স্লোগানে আগুন জ্বলে উঠছিল, প্রতিটি মুহূর্তে আরো শক্তিশালী হয়ে উঠছিল তার কণ্ঠ। পুলিশ বাধা দিলেও, নাফসিন থেমে যাননি। তার স্লোগান, ‘স্বৈরাচার আর নয়, জনগণের অধিকারই হবে আমাদের মূল দাবি!’Ñ এটি পুরো জনতাকে জাগিয়ে তুলেছিল।
তার সাহসিকতা নজরে আসে কালের কণ্ঠের। তারা তাকে ‘স্লোগান কন্যা’ হিসেবে পরিচিতি দেয়। ১৭ আগস্ট, যখন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ছবি এবং স্লোগানের মাধ্যমে তার সংগ্রাম তুলে ধরে, তখন নাফসিন বুঝতে পারেন, তার আন্দোলন সারা বিশ্বে পৌঁছে গেছে।
কিন্তু তার যাত্রা এখানেই থেমে থাকে না। ৫ আগস্ট, যখন স্বৈরাচার পতন হয়, তখন নাফসিন জানতেন, তার সংগ্রাম কেবল শুরু ছিল। ‘বাড়ি ফেরার সব পথ বন্ধ, এবার বিজয় নিয়ে ফিরতে হবে!’Ñ এই নীতিই তার সামনে এগিয়ে যাওয়ার শক্তি হয়ে উঠেছিল।
বর্তমানে নাফসিন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ব্যানারে কাজ করছেন এবং তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন, নতুন বাংলাদেশ গড়ে তোলার স্বপ্ন বাস্তবায়ন করা সম্ভব। তিনি চান, সবার মৌলিক অধিকার নিশ্চিত হোক, দেশের কল্যাণে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এক হয়ে কাজ করুক এবং ভবিষ্যতে যেন আর কোনো ফ্যাসিস্ট শাসক এই দেশে আসতে না পারে।
এমন এক সাহসী তরুণীর কথা, যিনি শুধু নিজের জন্য নয়, পুরো জাতির জন্য সংগ্রাম করেছেন, তার প্রেরণাদায়ক কাহিনি একদিন ইতিহাসে লেখা থাকবে। এক নতুন বাংলাদেশের স্বপ্নে বিভোর নাফসিন, দেশের জনগণকে তাদের অধিকার ফিরিয়ে দিতে চান। ‘যতক্ষণ পর্যন্ত অন্যায় চলছে, ততক্ষণ আমাদের কণ্ঠে প্রতিবাদ বজায় থাকবে’Ñ বলছিলেন তিনি।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

