আমার দেশ জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পেপার

শিশু-কিশোরদের ইন্টারনেট ব্যবহার

আশিকুর রহমান তালহা

শিশু-কিশোরদের ইন্টারনেট ব্যবহার

শিশুদের সময়গুলো আকর্ষণীয় করে তুলতে বিভিন্ন কাজে ডিজিটাল ডিভাইস ও ইন্টারনেট ব্যবহারের প্রয়োজনীয়তা অনেক বেড়েছে। শিশুদের ডিভাইস ব্যবহারের সঙ্গে সঙ্গে ডিভাইস আসক্তি একটি বড় সমস্যা হতে পারে। আবার এসব মাধ্যম ব্যবহার করে শিশুকে অনেক সময়ই বিভিন্ন অসুবিধার সম্মুখীন হতে হয়। একটি শিশুর প্রযুক্তির অতিরিক্ত ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করার পাশাপাশি সুস্থ ব্যবহার নিশ্চিত করার সুযোগ দিতে হবে।

বিজ্ঞাপন

শিক্ষা ক্ষেত্রে

শিশুদের জন্য ডিজিটাল প্রযুক্তি ও ইন্টারনেট ব্যবহার সবচেয়ে বেশি কাজে লাগে শিক্ষা ক্ষেত্রে। শিক্ষা কার্যক্রমে ডিজিটাল ডিভাইস ও ইন্টারনেটের ব্যবহার এখন বহুল প্রচলিত। অনলাইনে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করা ফল দেখা, অনলাইন ক্লাস করা, বাড়ির কাজ জমা দেওয়া, বই ডাউনলোড করা (ই-বুক) বা অনলাইন একাডেমিক বিভিন্ন কোর্স করা। অনলাইনে ক্লাস করার জন্য জুম (Zoom), গুগল মিট (Google Meet), স্ট্রিমইয়ার্ড (Streamyard), গুগল ক্লাসরুম (Classroom) ও টিচমিন্ট (Teachmint)—এসব অ্যাপস বা সফটওয়্যার প্রয়োজন হয়। এসব কাজের জন্য কিশোর বাতায়ন, খান একাডেমি, টেন মিনিটস স্কুল, বহুব্রীহি, ইউটিউব, অন্যরকম পাঠশালা, বন্দি পাঠশালা, ফাহাদ টিউটোরিয়াল, মাধ্যমিক-উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, NCTB-এর ওয়েবসাইট ব্যবহার করার প্রয়োজন পড়ে। পরীক্ষার খাতা স্ক্যান করার জন্য ডকুমেন্ট স্ক্যানার ব্যবহার করতে হয়। যেমন : ক্যামস্ক্যানার। বিভিন্ন প্রয়োজনীয় পাঠ্যবই ডাউনলোড করার জন্য NCTB ওয়েবসাইট ব্যবহার করতে হয়। এই ওয়েবসাইটে প্রথম থেকে দশম পর্যন্ত সব ক্লাসে সব বই পিডিএফ ফাইল আকারে পাওয়া যায়। কেউ ডিভাইসে পড়তে চাইলে বা বই হারিয়ে ফেললে এই ওয়েবসাইট থেকে খুব সহজেই ডাউনলোড করে নিতে পারবে।

—পরীক্ষার ফল দেখার জন্য শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইটে গিয়ে রোল নম্বর এবং রেজিস্ট্রেশন নম্বর দিলে ফল পাওয়া যায়।

—অনলাইনে ক্লাসের পড়ার বাইরেও কোনো কোর্স করার জন্য খান একাডেমি, টেন মিনিটস স্কুল, ঘুড়ি লার্নিং, বহুব্রীহি, ইউটিউব চ্যানেলের মতো ওয়েবসাইটগুলো ব্যবহৃত হয়।

বিনোদন

শিশুদের বিনোদনের জন্য অনলাইন প্ল্যাটফর্মে বিভিন্ন ধরনের কার্টুন, শিশুতোষ সিনেমা, নাটক দেখা যায়। তাই কম্পিউটার ও ইন্টারনেট সংযোগের সঙ্গে সঙ্গে যে ওয়েবসাইটে দেখবে, সেখানে অ্যাকাউন্ট করার প্রয়োজন হয়। আবার ইউটিউবে দেখলে শুধু গুগল অ্যাকাউন্টে লগইন করেই সব দেখা যাবে। ইউটিউবে শিশুদের জন্য রয়েছে জনপ্রিয় কিছু চ্যানেল, যার মাধ্যমে শিশুরা সুস্থ সংস্কৃতিচর্চা করতে পারে। এর মধ্যে অন্যতম হলো সাইমুম শিল্পীগোষ্ঠী, Panvision TV, Kidsvision TV ইত্যাদি। এছাড়া শিশুদের ক্ষেত্রে রয়েছে ইউটিউব কিডস, যা শুধু শিশুদের উপযোগী কনটেন্টের জন্য তৈরি। গেমস খেলার জন্য সেসব গেমসের ওয়েবসাইট এবং অ্যাপ ব্যবহার করতে হয়।

যোগাযোগ

সহপাঠী ও শিক্ষকদের সঙ্গে যোগাযোগ করার জন্য বর্তমানে বেশ কিছু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বহুল প্রচলিত। যেমন : ফেসবুক, মেসেঞ্জার, টুইটার, হোয়াটসঅ্যাপ, টেলিগ্রাম—এসব অ্যাপস। বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নিজস্ব ফেসবুক পেজ/গ্রুপ আছে, যেখান থেকে শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন ধরনের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেয়ে থাকে। বিভিন্ন ব্যাচের জন্য আলাদা গ্রুপ থাকে এমন—সে ক্ষেত্রে একসঙ্গে আলোচনা করে পড়াশোনা করা, পড়ায় কোনো সমস্যা হলে অন্যদের থেকে সহযোগিতা নেওয়া সম্ভব হয়।

সহশিক্ষা কার্যক্রম

বর্তমানে ডিভাইস ইন্টারনেট ও প্রযুক্তি ব্যবহার করে শিশুরা বিভিন্ন ধরনের সহশিক্ষা কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করে। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে বিতর্ক, নাচ, গান, আবৃত্তি ও ফটোগ্রাফি ইত্যাদি। এগুলো সম্পর্কে ধারণার জন্য বা চর্চা করার জন্য ডিজিটাল ডিভাইস এবং ইন্টারনেট বহুল ব্যবহৃত হচ্ছে। বিতর্কের জন্য একটি অ্যাপ আছে, যার নাম ডিসকর্ড। যেখানে সরাসরি বিতর্ক করার মতো করে অনলাইনের অডিও/ভিডিও কলে বিতর্কে অংশ নেওয়া যায়। এছাড়া ছবি আঁকা, গান, নাচ ও ফটোগ্রাফি—এসব কর্মকাণ্ডের জন্যও বিভিন্ন ধরনের অ্যাপস প্রয়োজন।

অনলাইনে তথ্যপ্রাপ্তি

যেকোনো বিষয়ে না জানলে অনলাইনে সার্চ করে পৃথিবীর যেকোনো তথ্য জেনে নেওয়া যায়। পৃথিবী এখন বৈশ্বিক গ্রামে পরিণত হয়েছে। শিক্ষা বা অন্য যেকোনো বিষয়ে না জানলে শিশুরা ডিভাইস ব্যবহার করে কাঙ্ক্ষিত তথ্যটি খুঁজে বের করতে পারে খুব সহজেই। সে জন্য ইন্টারনেট সংযোগসহ ফোন বা কম্পিউটারের মাধ্যমে ইন্টারনেট ব্রাউজার ব্যবহার করতে হয়। কয়েকটি প্রয়োজনীয় সার্চ ইঞ্জিন হচ্ছে গুগল, ক্রোম বা পিপীলিকা।

একাডেমিক কার্যক্রম

স্কুল-কলেজে ভর্তি হওয়ার আবেদন এবং সেখানে ভর্তি হওয়ার জন্য সেসব স্কুল-কলেজের ওয়েবসাইটে আবেদন করা, ভর্তি হওয়া এবং মাসিক বেতন পরিশোধের কাজগুলোও করা হচ্ছে। বেতন পরিশোধের জন্য ডেবিট/ক্রেডিট কার্ড বা মোবাইল ব্যাংকিং অপশন ব্যবহার করা হচ্ছে।

অনলাইন কেনাকাটা

প্রয়োজনীয় বিনোদন ও শিক্ষা উপকরণ কেনার জন্য বিশেষ করে শিশুদের জন্য অনলাইন বেশ ভালো একটি মাধ্যম। শহরের রাস্তার যাতায়াতের সমস্যা, অনিরাপত্তার মধ্যে শিশুকে বাইরে না নিয়ে প্রয়োজনীয় জিনিস অনলাইনে কেনার ব্যবস্থা করতে পারেন। এ জন্য দারাজ অথবা ডটকম, রকমারি ডটকম, ওয়াফিলাইফ, বিলিভার্স সাইন, ওয়ান উম্মাহ বিডি, স্বপ্ন, বইয়ের জাহাজ ইত্যাদি ওয়েবসাইট উল্লেখযোগ্য। এখান থেকে নিত্যসামগ্রী পণ্য কেনা যায়।

সৃজনশীল কাজে

শিশুরা বিভিন্ন ধরনের সৃজনশীল কাজে ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহার করে। যেমন : কেউ কেউ গ্রাফিকস ডিজাইনের জন্য, কেউবা প্রোগ্রামিং অথবা গান-আবৃত্তি রেকর্ড করে, কেউ কেউ লেখালেখিও করে। এ ধরনের কাজের জন্য বিভিন্ন ধরনের সফটওয়্যার ও অ্যাপ ব্যবহার করার প্রয়োজন পড়ে। গ্রাফিকস ডিজাইনের জন্য Adobe illustrator, Adobe Photoshop ব্যবহার করা হয়। প্রোগ্রামিংয়ের জন্য সেসব সফটওয়্যার যেমন : C++, python ইত্যাদি। লেখালেখির জন্য কিছু নোট থাকে মোবাইলে, এসব নোটের পাশাপাশি মাইক্রোফসট ওয়ান নোট, গুগল ডক, মাইক্রোফট ওয়ার্ড—এসব ব্যবহার করা হয়। রেকর্ড করার জন্য ফোনের ভিডিও ক্যামেরা, অডিও রেকর্ডার ব্যবহার করা হয়। সেসব রেকর্ড করে উপস্থাপন উপযোগী করে তোলার জন্যও কিছু ভিডিও এডিটিং সফটওয়্যার ব্যবহার করা যায়। প্রযুক্তি আমাদের জীবনকে করেছে স্বাচ্ছন্দ্যময় ও উপভোগ্য। কিন্তু তার পাশাপাশি আমাদের অলস করে তুলছে। শিশু থেকে বৃদ্ধ সবার উচিত প্রযুক্তির পরিমিত ব্যবহার। অভিভাবক হিসেবে আমাদের উচিত সন্তানের প্রতি লক্ষ রাখা, সন্তানের সঠিক প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করা। তাই আসুন আমরা সবাই মিলে প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করি, সুন্দর জীবন উপভোগ করি।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...