আমার দেশ জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পেপার

গভর্নর নির্বাচনে আবু বকর (রা.)-এর নীতি ও তাঁদের দায়িত্ব

মাহমুদ আহমাদ

গভর্নর নির্বাচনে আবু বকর (রা.)-এর নীতি ও তাঁদের দায়িত্ব

অন্যান্য খলিফার তুলনায় আবু বকর (রা.)-এর শাসনকাল ছিল অনেক সীমিত। তিনি স্বল্প সময়ের জন্য খিলাফত রাষ্ট্রের দায়িত্ব পালন করেছেন। তার শাসনামলে খিলাফত রাষ্ট্রের সামগ্রিক পরিস্থিতি স্থিতিশীল ছিল না। শাসনের দায়িত্ব গ্রহণ করেই তাকে ধর্মদ্রোহ ও রাষ্ট্রদ্রোহের বিরুদ্ধে কঠোর প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হয়েছে। এরপর ইরাক ও শাম ভূখণ্ডে ধারাবাহিকভাবে তিনি জিহাদের অভিযান পরিচালনা করেছেন। ফলে তার শাসনাধীন রাষ্ট্রের সীমানা কখনো স্থায়ী বা নির্দিষ্ট হয়নি। এ বাস্তবতায় প্রাদেশিক শাসনকর্তা ও গভর্নর নির্বাচনের ক্ষেত্রে তিনি যে নীতি ও পদ্ধতি অনুসরণ করেছিলেন, সে বিষয়ে সুস্পষ্ট ও পূর্ণাঙ্গ ধারণা পাওয়া কঠিন। তবুও বিদ্যমান ঐতিহাসিক উপাদানের আলোকে এখানে আবু বকর (রা.)-এর গভর্নর নির্বাচন পদ্ধতি ও তাদের দায়িত্ব নিয়ে আলোচনা করা হলো।

বিজ্ঞাপন
  • প্রাদেশিক গভর্নর নির্বাচন পদ্ধতি

এক. নবীজির নির্বাচনের ওপর আস্থা

নবীজি (সা.)-এর সময় যারা বিভিন্ন প্রদেশে গভর্নরের দায়িত্ব পালন করেছেন, আবু বকর (রা.) তাদের স্বপদে বহাল রাখেন। আরো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব প্রদান ছাড়া তিনি কাউকে শাসনকাজ থেকে অব্যাহতি দেন না। যেমন তিনি আমর ইবনুল আস (রা.)-কে নবীজির নির্ধারিত স্থান থেকে সরিয়ে আরো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব অর্থাৎ ফিলিস্তিন অভিযানের সেনাপতির দায়িত্ব দিয়েছিলেন।

দুই. সাহাবিদের সঙ্গে পরামর্শ

কাউকে প্রশাসন অথবা সেনাবাহিনীর দায়িত্ব প্রদান করার আগে আবু বকর (রা.) সাহাবিদের সঙ্গে পরামর্শ করতেন। তার প্রধান দুজন পরামর্শদাতা ছিলেন উমর ও আলি (রা.)। (আল কামিল ফিত তারিখ, খণ্ড : ২, পৃষ্ঠা : ৪০২)। পাশাপাশি যাকে শাসনের দায়িত্ব প্রদান করা হবে, আবু বকর (রা.) তার সঙ্গেও পরামর্শ করতেন। তার মতামত ও ইচ্ছাধিকার জানতে চাইতেন। তিনি আমর ইবনুল আস (রা.)-এর সঙ্গে পরামর্শ করে এবং মতামত নিয়েই তাকে ফিলিস্তিন পাঠিয়েছিলেন। (তারিখে তাবারি, খণ্ড : ৪, পৃষ্ঠা : ২৭২)

তিন. স্থানীয় লোকদের হাতে শাসনের দায়িত্ব প্রদান

স্থানীয় লোকদের মধ্যে শাসনকাজ পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণে উপযুক্ত কাউকে পাওয়া গেলে তার হাতেই নিজ এলাকার দায়িত্ব তুলে দিতেন। যেমন তায়েফসহ অন্যান্য কয়েকটি গোত্রে এই পদ্ধতিতে শাসক নির্ধারণ করা হয়েছিল। (তারিখে তাবারি, খণ্ড: ৩, পৃষ্ঠা: ২৬৮)। নবীজি (সা.)-ও এভাবে দায়িত্ব বণ্টন করতেন।

চার. শাসকের জন্য পথনির্দেশনা

কাউকে কোনো অঞ্চলে গভর্নরের দায়িত্ব প্রদান করা হলে আবু বকর (রা.) তার জন্য নির্দেশিকা লিখে দিতেন। কোনো কোনো ক্ষেত্রে তিনি নির্দেশিত অঞ্চলে গমনের পথ নির্ধারণ করে দিতেন। যখন কোনো গভর্নরকে মুসলিম নিয়ন্ত্রণহীন কোনো এলাকা অতিক্রম করতে হতো, তখন যাত্রাপথ নির্দিষ্ট করে দিতেন। বিশেষভাবে শামে পাঠানো শাসকদের তিনি এই নির্দেশনা দিয়েছিলেন। খালিদ ইবনে ওয়ালিদ ও ইয়াজ ইবনে গানাম (রা.)-কে যখন ইরাক পাঠিয়েছিলেন, তাদের যাত্রাপথও তিনি নির্ধারণ করে দিয়েছিলেন।

পাঁচ. অভিজ্ঞতার মূল্যায়ন

ইতঃপূর্বে যারা শাসনের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন, গভর্নর নির্ধারণের জন্য আবু বকর (রা.) তাদের প্রাধান্য দিতেন। খিলাফত রাষ্ট্রের সামগ্রিক কল্যাণ বিবেচনায় সাধারণ স্থান থেকে তাদের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বদলি করতেন। যেমন খালিদ ইবনে ওয়ালিদকে ইরাক থেকে বদলি করে শামে পাঠিয়েছিলেন এবং সেনাপরিচালনা ও প্রশাসনিক দায়িত্ব তার হাতে অর্পণ করেছিলেন।

ছয়. এক প্রদেশে একাধিক শাসক

কোনো কোনো ক্ষেত্রে আবু বকর (রা.) এক প্রদেশে একাধিক শাসক পাঠাতেন। ফলে কখনো পূর্ববর্তী আমিরের ক্ষমতা সীমিত করা হতো, কখনোবা তাকে নতুন নিযুক্ত শাসকের অধীন হয়ে দায়িত্ব পালন করতে হতো। মুসান্না ইবনে হারিসা (রা.) ইরাকের শাসক ও সেনাপতি ছিলেন। খলিফার পক্ষ থেকে তাকে নির্দেশ দেওয়া হয়—খালিদ ইবনে ওয়ালিদ ইরাকে পৌঁছালে তিনি যেন তার হাতে নেতৃত্বভার তুলে দেন। পরে যখন খালিদ ইবনে ওয়ালিদকে শামের গভর্নর নিযুক্ত করা হয়, তখন মুসান্না (রা.)-কে আগের দায়িত্ব বুঝিয়ে দেওয়া হয়।

সাত. একাধিক প্রদেশে একজন শাসক

আবু বকর (রা.) কখনো কখনো একাধিক প্রদেশে একজন গভর্নর নিয়োগ দিতেন। রিদ্দা বা ধর্মদ্রোহীদের শায়েস্তা করার পরে তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। জিয়াদ ইবনে লাবিদ ছিলেন হাজরামাওতের শাসক। খলিফা তার হাতে কিন্দার শাসনভারও তুলে দিয়েছিলেন। (তারিখে তাবারি, খণ্ড : ৪, পৃষ্ঠা : ৩৭০)।

আট. খলিফার সঙ্গে প্রশাসকদের সম্পর্ক

আবু বকর (রা.)-এর সঙ্গে প্রাদেশিক গভর্নরদের সম্পর্ক ছিল আন্তরিকতা, সম্মানবোধ ও সৌহার্দ্যপূর্ণ। তার সময়ে গভর্নরদের বরখাস্ত করার নজির নেই বললেই চলে। প্রয়োজন বিবেচনায় শুধু গভর্নরদের এক অঞ্চলের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে অন্য অঞ্চলে পাঠানো হতো। ইতিহাসের পাতায় শুধু একটি ঘটনা যাওয়া যায়, যেখানে তিনি সাইদ ইবনে আসকে শামের সেনাবাহিনীর দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়েছিলেন। সঙ্গে নবনিযুক্ত সেনাপতি শুরাহবিল ইবনে হাসানাকে বলে দিয়েছিলেন, তিনি (সাইদ ইবনে আস) হলেন আল্লাহর রসুলের নিযুক্ত আমির। তাকে আমি দায়িত্ব পালনে বিচ্যুতির কারণে অব্যাহতি দেইনি। (এর পেছনে অন্য কারণ আছে)। আশা করি তিনি এর পূর্ণ বিনিময় পাবেন। (তারিখে তাবারি, খণ্ড: ৪, পৃষ্ঠা: ২৮)। অন্য বর্ণনা থেকে জানা যায়, খলিফার কাছে তিনি নিজে অব্যাহতি চাইলে আবু বকর (রা.) এই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। (ফুতুহুশ শাম, আজদি, পৃষ্ঠা: ৭)।

নয়. গভর্নরদের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন

খলিফা আবু বকর (রা.)-এর সঙ্গে গভর্নরদের নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ ছিল। তাদের পক্ষ থেকে বিভিন্ন বিষয়ে পরামর্শ চেয়ে পত্র আসত। খলিফা তাদের জবাব দিতেন। জনকল্যাণ ও কার্যবিধি বুঝিয়ে দিতেন; কখনো পত্রের মাধ্যমে, কখনো দূত মারফত। বিভিন্ন প্রাঙ্গণ থেকে যুদ্ধজয়ের সংবাদ এবং সেনাবাহিনীর হালহকিকতের সংবাদ নিয়েও আবু বকর (রা.)-এর কাছে দূত আসত।

গভর্নরদের মধ্যে পারস্পরিক দৃঢ় যোগাযোগ ছিল। তারা দূতের মাধ্যমে অথবা সশরীরে সাক্ষাৎ করে নিজেদের সংবাদ আদান-প্রদান করতেন। বিভিন্ন শাসনাঞ্চলের মতো শামেও এই রেওয়াজ ছিল। সেখানের যারা দায়িত্বশীল তারা সমবেত হয়ে সামরিক পরিকল্পনা প্রণয়ন করতেন।

  • গভর্নরের দায়িত্ব ও করণীয়

আবু বকর (রা.)-এর শাসনামলে গভর্নরদের দায়িত্ব ও কর্তব্যগুলো ছিল রসুলুল্লাহ (সা.)-এর যুগে তাদের ওপর অর্পিত ক্ষমতা ও এখতিয়ারেরই স্বাভাবিক সম্প্রসারণ; আল্লাহর রসুলের নিযুক্ত গভর্নরদের ক্ষেত্রে এই কথাটি বিশেষভাবে প্রযোজ্য ছিল। খিলাফত রাষ্ট্রের সূচনাকালে একজন প্রাদেশিক গভর্নরের দায়িত্ব ও করণীয় কী ছিল, সেগুলো এখানে তুলে ধরা হলো।

এক. নামাজের ইমাম হওয়া

প্রাদেশিক গভর্নরদের প্রধান দায়িত্ব ছিল নামাজ কায়েম করা এবং জনগণের ইমাম হওয়া। কারণ এর মধ্যে ইককালীন, পরকালীন, সামাজিক, রাজনৈতিক—নানা ধরনের তাৎপর্য নিহিত ছিল। তখন গভর্নররাই ওয়াক্তের নামাজ এবং বিশেষভাবে জুমার নামাজের ইমাম হতেন।

দুই. জিহাদের কার্যক্রম সচল রাখা

খিলাফত রাষ্ট্রের প্রাদেশিক গভর্নরদের অধিকাংশ ক্ষেত্রে সামরিক দায়িত্বও পালন করতে হতো। বিশেষভাবে শাম ইরাকের মতো যুদ্ধক্ষেত্র ও নতুন বিজিত অঞ্চলের গভর্নরদের ওপর এই দায়িত্ব ন্যস্ত হতো। তাকে গনিমত বণ্টন, বন্দিদের সুরক্ষা প্রদান, শত্রুরাষ্ট্রের সঙ্গে সংলাপ, সন্ধিচুক্তিসহ আরো অনেক কাজ করতে হতো। কখনো কখনো তিনি নিজে এ দায়িত্ব পালন করতেন, আবার কখনো প্রতিনিধি নিয়োগের মাধ্যমে এর সমাধা করতেন।

তিন. নতুন বিজিত ভূখণ্ডের প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা

যেসব অঞ্চল নতুনভাবে খিলাফত রাষ্ট্রের মানচিত্রে যুক্ত হতো, সেখানে প্রশাসনিক বিন্যাস, আইন-আদালত প্রতিষ্ঠা, বিচারক ও অন্য দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের নিয়োগ দেওয়ার অধিকার প্রাদেশিক গভর্নরের ছিল। এর জন্য শুধু খলিফার অনুমোদন নেওয়াই যথেষ্ট ছিল। তবে কখনো কখনো খলিফা সরাসরি এসব ক্ষেত্রে দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের নিয়োগ দিতেন।

চার. খলিফার পক্ষ থেকে বায়াত গ্রহণ

প্রাদেশিক গভর্নরের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব ছিল খলিফার পক্ষে জনগণের কাছ থেকে আনুগত্যের বায়াত গ্রহণ করা। আবু বকর (রা.) যখন খিলাফত রাষ্ট্রের দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন, তখন ইয়েমেন, তায়েফ, মক্কা ও অন্যান্য অঞ্চলের গভর্নররা তার পক্ষে বায়াত গ্রহণ করেছিলেন। (ফুতুহুল বুলদান, বালাজুরি, পৃষ্ঠা : ১১০)।

পাঁচ. আর্থিক দায়িত্ব পালন

গভর্নরকে শাসিত অঞ্চলের আর্থিক ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব পালন করতে হতো। কখনো কখনো এই দায়িত্বের জন্য খলিফা স্বতন্ত্র লোক নিয়োগ করতেন। তখন গভর্নর তার সহযোগী হতেন। তাদের দায়িত্বের মধ্যে ছিল ধনীদের কাছ থেকে জাকাত উত্তোলন করে হকদারদের মধ্যে বণ্টন করা, অমুসলিমদের কাছ থেকে জিজিয়া উশুল করে শরিয়ত-নির্দেশিত খাতে ব্যয় করা প্রভৃতি।

ছয়. চুক্তি নবায়ন

স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সঙ্গে নবীজির চুক্তি নবায়ন করাও গভর্নরের এখতিয়ার ছিল। যেমন আবু বকরের খিলাফতকালে নাজরানের খ্রিষ্টানরা নবীজির সঙ্গে করা চুক্তি নবায়নের অনুরোধ করে। তখন সেখানে গভর্নর খলিফার পক্ষ থেকে এই দায়িত্ব পালন করেন। (তারিখে তাবারি, খণ্ড : ৩, পৃষ্ঠা : ১৬৫)

সাত. শরিয়ত-নির্ধারিত শাস্তি প্রয়োগ

প্রাদেশিক গভর্নরের অন্যতম দায়িত্ব ছিল অপরাধীর ওপর হদ অর্থাৎ শরিয়ত নির্ধারিত শাস্তি প্রয়োগ করা। যে ক্ষেত্রে শরিয়তের নির্ধারিত কোনো শাস্তির বিধান নেই, সে ক্ষেত্রে তার ইজতিহাদের সুযোগ ছিল। এখান থেকে বোঝা যায়, সে সময় একজন গভর্নরকে রাজ্য পরিচালনার জ্ঞানের পাশাপাশি শরিয়তের পর্যাপ্ত ইলম থাকা জরুরি ছিল। আবু বকর (রা.)-এর শাসনামলে এমন একজন দক্ষ গভর্নর ছিলেন মুহাজির ইবনে উমাইয়া। নবীজির নিন্দা চর্চা ও তার মৃত্যুতে আনন্দ প্রকাশের অপরাধে তিনি দুই মহিলাকে শাস্তি দিয়েছিলেন। এই ঘটনা জানতে পেরে খলিফাও এর অনুমোদন দিয়েছিলেন এবং তার প্রশংসা করেছিলেন। (আল ওয়ালায়াতু আলাল বুলদান ফি আসরিল খুলাফাইর রাশিদিন, পৃষ্ঠা : ৬০)

আট. শিক্ষার প্রসার

শাসিত অঞ্চলে দীনি শিক্ষার বিস্তার এবং সেখানে ইসলামের প্রচার ও প্রসার ছিল গভর্নরদের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। তাদের অনেকেই মসজিদে বসে মানুষকে কোরআন ও শরিয়তের বিধান শিক্ষা দিতেন। আল্লাহর রসুল ও খলিফা আবু বকর উভয়ের দৃষ্টিতেই এটি ছিল সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ ও মর্যাদাপূর্ণ দায়িত্ব। একজন ঐতিহাসিক আবু বকর (রা.)-এর শাসনকালে হাজরামাউতের গভর্নর জিয়াদের কার্যক্রম সম্পর্কে বলেন, ‘যখন সকাল হলো, লোকদের কোরআন শেখানোর জন্য (গভর্নর) জিয়াদ বেরিয়ে পড়লেন। আগে থেকেই তার এই অভ্যাস ছিল।’ (হুরুবুর রিদ্দাহ, পৃষ্ঠা: ১৯৩)।

খিলাফত রাষ্ট্রের বিস্তার এবং নববিজিত ও ধর্মদ্রোহে আক্রান্ত অঞ্চলে শাসনের স্থিতির পেছনে প্রাদেশিক গভর্নরদের শিক্ষা কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল।

নয়. প্রদেশের ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব গভর্নরের ওপর ন্যস্ত

শাসিত প্রদেশের সামগ্রিক ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব গভর্নরের ওপর ন্যস্ত ছিল। কোনো কারণে গভর্নর নিজ শাসিত অঞ্চলের বাইরে গেলে একজন প্রতিনিধি নিযুক্ত করে যেতেন। তিনি তার অনুপস্থিতিতে প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা করতেন। এর একটি সুস্পষ্ট দৃষ্টান্ত হলো—রসুল (সা.) মুহাজির ইবনে উমাইয়াকে কিন্দা অঞ্চলের গভর্নর নিযুক্ত করেন। রসুলের ইন্তেকালের পর খলিফা আবু বকর তাকে স্বপদে বহাল রাখেন। তবে অসুস্থতার কারণে মুহাজিরের ইয়েমেনে পৌঁছাতে বিলম্ব হচ্ছিল। এ অবস্থায় তার প্রতিনিধি হিসেবে জিয়াদ ইবনে লাবিদ শাসনের দায়িত্ব পালন করেন। খলিফা আবু বকর এই প্রতিনিধিত্বমূলক ব্যবস্থাকে আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদন দিয়েছিলেন। (তারিখে তাবারি, খণ্ড: ৩, পৃষ্ঠা: ২৭১)।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন