রাজধানী ঢাকার প্রাণকেন্দ্র গুলিস্তান থেকে একটু দূরে দোয়েল চত্বর। সেখান থেকে টিএসসির দিকে যেতে বর্তমানে যেখানে মীর জুমলা গেট পুনর্নির্মাণ করা হয়েছে, তার একদিকে চার নেতার কবর। একটু দূরে হাইকোর্ট চত্বর। পাশে সুবিশাল সোহরাওয়ার্দী উদ্যান। চার নেতার মাজারের পশ্চিম পাশে একটি গলিপথ সোজা উত্তর দিকে চলে গেছে। এই পথ ধরে অল্প কিছুক্ষণ হাঁটলে একটি মসজিদ ও মাজার কমপ্লেক্স দেখতে পাওয়া যায়। মোগল সুবেদার শায়েস্তাখানি স্থাপত্যরীতির সুন্দর নিদর্শন এই মাজার ও মসজিদ। শহরের স্বাভাবিক কোলাহল থেকে আড়ালে গাছগাছালিতে ঘেরা ছায়াসুনিবিড় পরিবেশে মাটির উঁচু ভিটির ওপর দাঁড়িয়ে আছে এটি। কমপ্লেক্সের পশ্চিম পাশে মসজিদ আর পূর্ব দিকে মাজারের অবস্থান।
মসজিদটি চওড়ার তুলনায় লম্বা আকৃতির। চার কোনায় চারটি টাওয়ার রয়েছে। এর শীর্ষে দণ্ডের ওপর স্থাপিত হয়েছে গম্বুজ। সামনের দিকে মাঝখানে সামান্য প্রসারিত অংশে প্রধান প্রবেশপথ, যার দুপাশে সরু মিনার। প্রবেশপথের দুপাশে খাড়াভাবে তিন স্তরের কুলুঙ্গির সারি দেখা যায়। ছাদের ওপর তিনটি গম্বুজ আর ভেতরের অংশও সমানভাবে নান্দনিক। পশ্চিম পাশে একাধিক মেহরাব আছে; প্রধান মেহরাবের খিলান চিকন স্তম্ভের ওপর দাঁড়ানো, যেখানে লতাপাতার অলংকরণ দেখা যায়। সার্বিকভাবে স্থাপত্য ও অলংকরণে মসজিদটি অত্যন্ত পরিমিত ও আকর্ষণীয়।
সমাধিটি এক গম্বুজবিশিষ্ট ও চতুষ্কোণ কাঠামোবিশিষ্ট। এখানেও শায়েস্তা খানের সময়ের স্থাপত্যরীতির স্পষ্ট প্রকাশ দেখতে পাওয়া যায়।
মসজিদটি মির্মাণ করেছিলেন খাজা শাহবাজ। এ এইচ দানী তাকে ‘মার্চেন্ট শাহজাদা’ বলেছেন। নিজের জীবদ্দশায় তিনি এই মসজিদ ও সমাধি নির্মাণ করেন। মসজিদের প্রধান দরজার ওপরে সংযুক্ত শিলালিপি থেকে জানা যায়, এর নির্মাণকাল হিজরি ১০৮৯ সাল (১৬৭৯ খ্রিষ্টাব্দে)। সাইয়েদ তৈফুর বলেছেন, ‘হাজি শাহবাজ ছিলেন ঢাকার একজন মালিকুত তুজ্জার, অর্থাৎ বণিক রাজা এবং বিশিষ্ট ব্যবসায়ী। মসজিদের প্রবেশপথের শীর্ষে মনোরম নাস্তালিক লিপিতে উৎকীর্ণ একটি কালানুক্রমিক কবিতা দেখা যায়। কবিতাটি এমন—
‘সাখ্ত হাজী খাজা শাহবাজ ইন বেনায়ে পাক্ রা
আন্কে দর রিফ‘আত ব-আরশে আ‘যম্ আনবাজ আমাদে
বর জবান-এ আক্ল-এ কুল তারিখ-এ ইন বেনিয়ার-এ পাক
মসজিদ-এ জিবা আজ হাজী খাজা শাহবাজ আমাদে।’
(এই পবিত্র স্থাপনাটি নির্মাণ করেছেন হাজি খাজা শাহবাজ, যিনি মর্যাদা ও মহিমায় ঊর্ধ্বে উঠে আরশে আজিমের সান্নিধ্য লাভ করেছেন। পরম বুদ্ধির (আকলে কুল) বাণীর মাধ্যমে এই পবিত্র স্থাপনার নির্মাণকাল নির্ধারিত হয়েছে; সুন্দর এই মসজিদ হাজি খাজা শাহবাজেরই কীর্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত।)
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


৬৬টি আন্তর্জাতিক সংস্থা থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহারের নির্দেশ ট্রাম্পের