ডিজিটাল বিজ্ঞাপনের অদৃশ্য মেশিন

ডিজিটাল বিজ্ঞাপনের অদৃশ্য মেশিন

বিজ্ঞাপন দেখা গেলেই কি বিজ্ঞাপন দেখা হলো?

পরদিন সকাল।

বিজ্ঞাপন

অফিসে এসে রাফিদ কম্পিউটার খুলতেই তানভীর পাশে এসে দাঁড়ালেন।

—ভাই, কাল তো বললেন, ক্লিকের পরের প্রশ্ন হলো ভিউয়াবিলিটি। বিষয়টা আসলে কী?

রাফিদ হাসলেন।

—ধরুন, আপনি একটি ওয়েবসাইটে ঢুকলেন। সেখানে একটি বিজ্ঞাপন লোড হলো। রিপোর্টে একটি ইমপ্রেশনও গণনা হলো। কিন্তু আপনি কি সত্যিই বিজ্ঞাপনটি দেখেছেন?

তানভীর বললেন—বিজ্ঞাপন লোড হয়েছে মানেই তো দেখেছি!

—সব সময় নয়।

রাফিদ একটি ওয়েবপেজ খুললেন।

—ধরুন, বিজ্ঞাপনটি পেজের একেবারে নিচে ছিল। বিজ্ঞাপনটি লোড হয়েছে, কিন্তু আপনি সেখানে যাওয়ার আগেই অন্য পেজে চলে গেলেন। অথবা বিজ্ঞাপনটি স্ক্রিনে আসার আগেই আপনি পেজ ছেড়ে দিলেন। তাহলে টেকনিক্যালি বিজ্ঞাপনটি সার্ভ হয়েছে, কিন্তু ব্যবহারকারীর চোখের সামনে সেটি দৃশ্যমান হওয়ার সুযোগই হয়নি।

তানভীর মাথা নাড়লেন।

—তাহলে ইমপ্রেশন আর ভিউয়াবিলিটি এক জিনিস নয়?

—ঠিক। ইমপ্রেশন বলছে বিজ্ঞাপনটি পরিবেশিত হয়েছে। ভিউয়াবিলিটি আমাদের একটি ধারণা দেয়, বিজ্ঞাপনটি ব্যবহারকারীর দেখার মতো অবস্থানে ছিল কি না।

রাফিদ এবার রিপোর্টের আরেকটি অংশ দেখালেন।

—এখানেই অ্যাডপসের কাজ আরো গুরুত্বপূর্ণ হয়ে যায়। শুধু কতগুলো বিজ্ঞাপন সার্ভ হলো, সেটি দেখলেই হবে না। বিজ্ঞাপনটি সঠিক জায়গায়, সঠিক পরিবেশে এবং প্রত্যাশিতভাবে দেখা যাচ্ছে কি না—সেটিও দেখতে হয়।

তানভীর বললেন—কিন্তু ধরুন ভিউয়াবিলিটি ভালো। তাহলে তো ক্যাম্পেইন সফল?

রাফিদ হেসে বললেন—আবার একটু থামুন।

তিনি রিপোর্টের আরেকটি ট্যাব খুললেন।

—ধরুন, বিজ্ঞাপন ঠিকমতো দেখা যাচ্ছে। কিন্তু সেটি এমন একটি ওয়েবপেজের পাশে দেখানো হচ্ছে, যেখানে ব্র্যান্ডটি বিজ্ঞাপন দিতে চায় না। তখন?

—সমস্যা হবে।

—অবশ্যই। এটাকে আমরা ব্র্যান্ড সেফটির দিক থেকে দেখতে পারি। বিজ্ঞাপনদাতার ব্র্যান্ডের জন্য কোন ধরনের কনটেন্ট বা পরিবেশ গ্রহণযোগ্য, আর কোনটি নয়—সেটা গুরুত্বপূর্ণ।

তানভীর বললেন—আর যদি ভুয়া ট্রাফিক হয়?

রাফিদ এবার একটু গম্ভীর হলেন।

—সেটাও বড় বিষয়। ধরুন, রিপোর্টে হাজার হাজার ইমপ্রেশন এবং ক্লিক দেখা যাচ্ছে। কিন্তু এর একটি অংশ যদি মানুষ থেকে না আসে, তাহলে সংখ্যাগুলো দেখতে ভালো হলেও প্রকৃত মূল্য কমে যেতে পারে।

—মানে অ্যাড ফ্রড?

—হ্যাঁ। বিভিন্ন ধরনের অবৈধ বা কৃত্রিম কার্যক্রমের মাধ্যমে বিজ্ঞাপনের ইমপ্রেশন বা ক্লিক বাড়ানো হতে পারে। তাই ট্রাফিক ও ডেলিভারি যাচাই করাও গুরুত্বপূর্ণ।

তানভীর কিছুক্ষণ চুপ থেকে বললেন—তাহলে একটা ক্যাম্পেইনের রিপোর্টে আসলে অনেকগুলো প্রশ্ন থাকে।

রাফিদ বললেন—ঠিক সেটাই। কত ইমপ্রেশন হলো? কতটা ভিউয়াবল ছিল? কত ক্লিক হলো? কোথা থেকে ট্রাফিক এলো? কোনো অস্বাভাবিক অ্যাকটিভিটি আছে কি না? বিজ্ঞাপনটি সঠিক জায়গায় গেছে কি না? আর শেষ পর্যন্ত কাঙ্ক্ষিত ফল এসেছে কি না?

ঠিক তখন রাফিদের ইনবক্সে ক্লায়েন্টের একটি মেইল এলো।

‘Campaign performance report needed.’

তানভীর বললেন—এবার বুঝি আসল পরীক্ষা!

রাফিদ রিপোর্ট তৈরি করতে বসে গেলেন। তিনি বললেন—ভালো অ্যাডপস মানে শুধু বিজ্ঞাপন চালু করা নয়। ক্যাম্পেইন শুরুর আগে কনফিগারেশন পরীক্ষা করা, চলাকালে ডেলিভারি মনিটর করা, সমস্যা হলে ট্রাবলশুটিং করা এবং শেষে নির্ভরযোগ্য ডেটা দিয়ে রিপোর্ট তৈরি করা—সবই এর অংশ।

তানভীর বললেন—অর্থাৎ প্রথম দিন যে জায়গা থেকে শুরু করেছিলেন, শেষ পর্যন্ত আবার সেখানেই ফিরে এলেন।

রাফিদ মুচকি হাসলেন।

—হ্যাঁ। বিজ্ঞাপন শুধু একটি ছবি, ভিডিও বা ব্যানার নয়। এর পেছনে আছে প্রযুক্তি, ডেটা, নিয়ম, মেজারমেন্ট এবং অনেকগুলো মানুষের সমন্বিত কাজ।

কিছুক্ষণ পর রিপোর্ট তৈরি হয়ে গেল।

তানভীর শেষবারের মতো স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে বললেন—তাহলে একজন পাঠক যখন ওয়েবসাইটে একটি বিজ্ঞাপন দেখেন, তিনি শুধু একটি বিজ্ঞাপনই দেখেন। কিন্তু তার পেছনে আমরা কী দেখলাম?

রাফিদ চেয়ার থেকে উঠে বললেন—দেখলাম একটি পুরো ইকোসিস্টেম।

তারপর একটু থেমে যোগ করলেন—আর সেই ইকোসিস্টেম যেন ঠিকভাবে কাজ করে, তার পেছনে নীরবে কাজ করে অ্যাডপস।

স্ক্রিনে তখন ক্যাম্পেইনের শেষ রিপোর্ট।

ইমপ্রেশন, ক্লিক, ভিউয়াবিলিটি, কনভার্সন, ডেলিভারি—অনেকগুলো সংখ্যা।

রাফিদ বললেন—শেষ পর্যন্ত সংখ্যাগুলোই কথা বলে। তবে তার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হলো, সংখ্যাগুলো যেন সত্যি গল্পটাই বলে।

তানভীর মাথা নাড়লেন।

বাইরে তখন অফিসের ব্যস্ততা শুরু হয়ে গেছে।

আর কোনো এক ওয়েবসাইটে, কোনো এক পাঠকের স্ক্রিনে, নতুন একটি বিজ্ঞাপন ভেসে উঠেছে।

পাঠকের কাছে সেটি হয়তো মাত্র কয়েক সেকেন্ডের একটি বিজ্ঞাপন।

কিন্তু সেই কয়েক সেকেন্ডের পেছনে চলছে একটি বিশাল অদৃশ্য ব্যবস্থা।

সেখানেই অ্যাডপসের গল্প।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন