আমার দেশ জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পেপার

প্রথম আলো ও সমকাল একপেশে সংবাদ প্রকাশ করেছে : চাকসু জিএস

প্রতিনিধি, চবি

প্রথম আলো ও সমকাল একপেশে সংবাদ প্রকাশ করেছে : চাকসু জিএস

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের আওয়ামীপন্থি শিক্ষক হাসান মোহাম্মদ রোমান শুভের আটকের ঘটনায় প্রথম আলো ও সমকালসহ কয়েকটি সংবাদমাধ্যম একপেশে সংবাদ প্রকাশ করেছে বলে মন্তব্য করেছেন চাকসুর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সাঈদ বিন হাবিব।

বিজ্ঞাপন

সোমবার দুপুরে চাকসুর কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় চাকসুর ভিপি ইব্রাহিম হোসেন রনি, যোগাযোগ ও আবাসন সম্পাদক ইসহাক ভুঁঞা, ছাত্রী কল্যাণ সম্পাদক নাহিমা আক্তার দ্বীপা, আইন ও মানবাধিকার সম্পাদক ফাজলে রাব্বি তাওহীদ উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করে সাঈদ বিন হাবিব বলেন, গত ১০ জানুয়ারি অসংখ্য অভিযোগে অভিযুক্ত রোমান শুভের ক্যাম্পাসে স্বাভাবিক কার্যক্রমে অংশগ্রহণকে কেন্দ্র করে চাকসু নেতৃবৃন্দ ও উপস্থিত সাংবাদিকদের সঙ্গে নিয়ে আইন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. জাফরুল্লাহ তালুকদার এবং চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. রকিবা নবীর নিকট বিষয়টির ব্যাখ্যা জানতে যান।

এ সময় রোমান শুভ পালিয়ে যেতে চাইলে চাকসু নেতৃবৃন্দ তাকে ধরে প্রশাসনের কাছে হস্তান্তর করেন। এই পুরো প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের শারীরিক নির্যাতন, হেনস্তা কিংবা সহিংস আচরণ সংঘটিত হয়নি, যার প্রমাণ উপস্থিত সাংবাদিকদের ধারণকৃত ভিডিও ফুটেজে সুস্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়েছে। কিন্তু এ ঘটনাকে প্রথম আলো ও সমকালসহ কয়েকটি সংবাদমাধ্যমে ‘মব’ ও হেনস্তা হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে, যা বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় এবং দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার পরিপন্থি।

চাকসুর নেত্রীদের ক্রমাগত সাইবার বুলিং ও হত্যার হুমকি দেওয়া হচ্ছে উল্লেখ করে চাকসু জিএস বলেন, একটি পরিকল্পিত, সংঘবদ্ধ ও ধারাবাহিক সাইবার বুলিং, চরিত্রহনন ও হুমকির অভিযান চালানো হচ্ছে। বিভিন্ন ফেসবুক আইডি ও পেইজ থেকে তাঁদের ব্যক্তিগত ছবি ব্যবহার করে প্রকাশ্যে ‘মবস্টার’, ‘সন্ত্রাসী’, ‘শিবিরের মাগি’সহ চরম অশ্লীল, নারী-বিদ্বেষী, সহিংস ও ঘৃণামূলক ভাষায় আক্রমণ চালানো হচ্ছে। বিষয়টি শুধু মানহানির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে প্রকাশ্য হত্যার হুমকি, শারীরিক ক্ষতির ইঙ্গিত ও ভয়ভীতি প্রদর্শন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্প্রতি নিয়োগ প্রসঙ্গ নিয়ে তিনি বলেন, তথ্য অধিকার আইন, ২০০৯ অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট তথ্য সংরক্ষণ ও প্রয়োজন অনুযায়ী প্রকাশের আইনি বাধ্যবাধকতা রয়েছে। চাকসু মনে করে, নিয়োগসংক্রান্ত প্রাসঙ্গিক তথ্য ও নীতিগত ব্যাখ্যা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জনসম্মুখে উপস্থাপিত হলে প্রশাসন ও শিক্ষার্থীদের মধ্যকার পারস্পরিক আস্থা আরও দৃঢ় হবে।

চাকসুর দাবি হচ্ছে, প্রশাসনকে সকল নিয়োগের প্রক্রিয়াসহ যাবতীয় বিষয়ে ব্যাখ্যা প্রদান করতে হবে। তথ্য অধিকার আইনের আলোকে বিষয়টি স্পষ্ট করতে প্রয়োজনীয় তথ্য প্রকাশের উদ্যোগ গ্রহণ করা হোক। এতে করে নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে যে বিতর্কের সূচনা হয়েছে, তার অবসান ঘটবে বলে আমরা বিশ্বাস করি—যোগ করেন তিনি।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...