চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের পথে ওয়ালটনের মতো প্রযুক্তিনির্ভর শিল্পের বিকাশ ঘটাতে হবে: সমাজকল্যাণ মন্ত্রী

চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের পথে ওয়ালটনের মতো প্রযুক্তিনির্ভর শিল্পের বিকাশ ঘটাতে হবে: সমাজকল্যাণ মন্ত্রী

সমাজকল্যাণ মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেছেন, কৃষি ও তৈরি পোশাকশিল্পে বাংলাদেশ একটি নির্দিষ্ট পর্যায়ে পৌঁছেছে। এখন চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের পথে এগিয়ে যেতে ওয়ালটনের মতো প্রযুক্তিনির্ভর শিল্পের বিকাশ ঘটাতে হবে। দেশীয় শিল্পের উন্নয়ন ও বিকাশ ঘটলে কর্মসংস্থানের সুযোগ আরও বাড়বে।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় গাজীপুরের চন্দ্রায় ওয়ালটন হেডকোয়ার্টার্স পরিদর্শনকালে তিনি এসব কথা বলেন।

বিজ্ঞাপন

পরিদর্শনকালে সমাজকল্যাণ মন্ত্রী ওয়ালটন হেডকোয়ার্টার্সে আন্তর্জাতিক মানের অত্যাধুনিক প্রযুক্তিপণ্যের উৎপাদন কার্যক্রম, সোলার পাওয়ার প্ল্যান্ট ও পরিবেশবান্ধব উৎপাদনব্যবস্থা সরেজমিনে পরিদর্শন করেন। এ সময় ইলেকট্রিক্যাল, ইলেকট্রনিক্স ও হাই-টেক পণ্য উৎপাদনে বাংলাদেশের অগ্রগতি, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা এবং রপ্তানি কার্যক্রম সম্পর্কে ধারণা নেন তিনি।

এর আগে ওয়ালটন হেডকোয়ার্টার্সে পৌঁছালে সমাজকল্যাণ মন্ত্রীকে ফুল দিয়ে স্বাগত জানান ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ পিএলসির পরিচালক এস এম রেজাউল আলম ও এস এম মঞ্জুরুল আলম অভি।

হেডকোয়ার্টার্সে পৌঁছে মন্ত্রী প্রথমে ওয়ালটনের বিভিন্ন পণ্যের উৎপাদনপ্রক্রিয়ার ওপর নির্মিত একটি ভিডিও ডকুমেন্টারি দেখেন। পরে ওয়ালটনের তৈরি বিভিন্ন প্রযুক্তিপণ্য নিয়ে সাজানো ডিসপ্লে সেন্টার ঘুরে দেখেন।

এরপর তিনি অত্যাধুনিক এসএমটি (সারফেস মাউন্ট টেকনোলজি) মেশিনে পিসিবি বা মাদারবোর্ড উৎপাদন কার্যক্রমসহ বিভিন্ন পণ্যের উৎপাদনপ্রক্রিয়া পরিদর্শন করেন। এ ছাড়া ওয়ালটন হেডকোয়ার্টার্সে স্থাপিত দেশের সর্ববৃহৎ ফ্লোটিং সোলার পাওয়ার প্ল্যান্টও ঘুরে দেখেন। এ সময় তিনি প্রতিষ্ঠানটির প্রযুক্তিগত উৎকর্ষ, মান নিয়ন্ত্রণ, গবেষণা ও উন্নয়ন এবং রপ্তানি কার্যক্রম সম্পর্কে ধারণা নেন।

পরিদর্শন শেষে সমাজকল্যাণ মন্ত্রী বলেন, ‘ওয়ালটন সম্পর্কে আমার একটি মিশ্র ধারণা ছিল। এতদিন মনে করতাম, ওয়ালটন হয়তো অ্যাসেম্বলিং বা রি-অ্যাসেম্বলিং করে। কিন্তু আজ কারখানা পরিদর্শন করে আমার সেই ধারণা পুরোপুরি পাল্টে গেছে। আমি অভিভূত।’

তিনি বলেন, ‘ওয়ালটন ফ্রিজ-টেলিভিশনের মতো উচ্চ প্রযুক্তির ইলেকট্রনিক্স ও ইলেকট্রিক্যাল পণ্যের পাশাপাশি বিভিন্ন হাই-কনফিগারেশনের ল্যাপটপ ও ট্যাব তৈরি করছে। খুচরা যন্ত্রাংশ থেকে শুরু করে সম্পূর্ণ ফিনিশড পণ্য উৎপাদন করছে প্রতিষ্ঠানটি।

মন্ত্রী আরও বলেন, ‘ওয়ালটন পণ্যের মান ও স্থায়িত্ব যেমন উন্নত, তেমনি দামের দিক থেকেও সাশ্রয়ী। বিপুল কর্মসংস্থান সৃষ্টির পাশাপাশি স্থানীয়ভাবে প্রযুক্তিপণ্য উৎপাদনের মাধ্যমে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রাও সাশ্রয় করছে ওয়ালটন।’

ওয়ালটনের পরিবেশবান্ধব উৎপাদন কার্যক্রমের প্রশংসা করে তিনি বলেন, ওয়ালটন নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহার করছে। এটি অত্যন্ত ভালো একটি উদ্যোগ।

দেশের অর্থনীতিতে প্রযুক্তিনির্ভর শিল্পের গুরুত্ব তুলে ধরে সমাজকল্যাণ মন্ত্রী বলেন, “কৃষি ও তৈরি পোশাকশিল্পে আমরা একটি নির্দিষ্ট পর্যায়ে পৌঁছেছি। এখন চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের পথে এগিয়ে যেতে ওয়ালটনের মতো প্রযুক্তিনির্ভর শিল্পের বিকাশ ঘটাতে হবে।”

তিনি বলেন, বর্তমান সরকার দেশীয় শিল্পবান্ধব। দেশীয় শিল্পের উন্নয়ন ও বিকাশ ঘটলে কর্মসংস্থান বাড়বে এবং দেশের অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে।

দেশীয় শিল্পের উন্নয়নে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরে অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেন, দেশীয় শিল্পায়নের স্বার্থে সরকার ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে কর ও নীতিসহায়তা প্রদান করেছে। দেশীয় শিল্পের বিকাশে সরকারের সর্বাত্মক সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন