আমার দেশ জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পেপার

রোজায় ডায়াবেটিক রোগীর করণীয়

ডা. জয়

রোজায় ডায়াবেটিক রোগীর করণীয়

রমজান এলেই ডায়াবেটিসের রোগীদের একটি সাধারণ প্রশ্ন থাকে—‘ডাক্তার, ডায়াবেটিস থাকলে কি রোজা রাখা যাবে?।’ উত্তর হলো—অনেক ক্ষেত্রেই যাবে। সঠিক প্রস্তুতি, নিয়মিত পর্যবেক্ষণ ও চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চললে ডায়াবেটিস নিয়েও নিরাপদে রোজা রাখা সম্ভব।

বিজ্ঞাপন

সব ডায়াবেটিক রোগী কি রোজা রাখতে পারবেন

সবাই নয়। যাদের ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রিত, খাদ্য ও ওষুধের নিয়ম মেনে চলেন—তারা সাধারণত রোজা রাখতে পারেন।

তবে যাদের টাইপ-১ ডায়াবেটিস, ইনসুলিননির্ভর অবস্থা, বারবার হাইপো/হাইপার হয় বা জটিলতা আছে—তাদের ক্ষেত্রে রোজা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। রমজানের আগে অবশ্যই একবার চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

রোজায় কি সুগার মাপা যাবে

অবশ্যই মাপবেন। আঙুলের সুঁই দিয়ে রক্ত পরীক্ষা করলে রোজা ভাঙে না—এটি সম্পূর্ণ নিরাপদ ও অনুমোদিত।

রোজার সময় সুগার মনিটর করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

কখন রোজা ভেঙে ফেলবেন

নিম্নের যেকোনো অবস্থায় দেরি না করে রোজা ভেঙে ফেলুন—

* সুগার ৩.৯ mmol/L-এর নিচে

* সুগার ১৬.৭ mmol/L-এর ওপরে

* মাথা ঘোরা, কাঁপুনি, ঘাম, দুর্বলতা, ঝিমুনি

ইসলামে অসুস্থ অবস্থায় রোজা না রাখার অনুমতি রয়েছে—তাই শরীরের কথা শুনুন।

ওষুধের ডোজ কি বদলাতে হবে

প্রায়ই লাগে। কারণ রমজানে খাবারের সময় ও পরিমাণ বদলে যায়। কিছু ওষুধ (বিশেষত সালফোনাইলইউরিয়া বা ইনসুলিন) হাইপোর ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

* নিজের থেকে ডোজ পরিবর্তন করবেন না—চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

সাহরিতে কী খাবেন

ধীরে হজম হয় এমন খাবার নিন—লাল আটা, ওটস, ডাল, ডিম, সবজি

এগুলো দীর্ঘ সময় শক্তি দেয় ও সুগার স্থিতিশীল রাখে।

অতিরিক্ত ভাজা বা মিষ্টি খাবার এড়িয়ে চলুন।

পর্যাপ্ত পানি পান করুন।

ইফতারে কী করবেন

খেজুর ও পানি দিয়ে শুরু করুন—সুন্নত ও স্বাস্থ্যসম্মত। তারপর হালকা খাবার নিয়ে একটু বিরতি দিন। এক সঙ্গে বেশি খেলে হঠাৎ সুগার বেড়ে যায়।

ভাজাপোড়া, মিষ্টি শরবত, কোমলপানীয় সীমিত রাখুন।

রোজায় ব্যায়াম করা যাবে

হালকা ব্যায়াম করা যায়। তবে বিকালে বা রোজার শেষদিকে ভারী ব্যায়াম এড়ানো ভালো—তখন হাইপোর ঝুঁকি বেশি থাকে।

ইফতারের পর হাঁটা বা তারাবির নামাজ ভালো বিকল্প।

ডায়াবেটিস থাকলেই রোজা রাখা যাবে না—এই ধারণা ভুল। সঠিক পরিকল্পনা, সচেতনতা ও চিকিৎসকের পরামর্শে অধিকাংশ

ডায়াবেটিসের রোগীই নিরাপদে রোজা রাখতে পারেন।

* রমজানের আগে চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করুন

* ওষুধ ও খাদ্য পরিকল্পনা ঠিক করুন

* নিয়মিত সুগার পরীক্ষা করুন

বাকি ভরসা আল্লাহর ওপর।

লেখক : এমবিবিএস (ঢাবি)

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন