আমার দেশ জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পেপার

সিরাম ক্রিয়েটিনিন বৃদ্ধি পেলে রোজা রাখা ঠিক হবে না

এন আই মানিক

সিরাম ক্রিয়েটিনিন বৃদ্ধি পেলে রোজা রাখা ঠিক হবে না

রমজানে রোজা রাখার ইচ্ছা থাকলেও কোন পরিস্থিতিতে একজন কিডনি রোগীর রোজা রাখা ঠিক হবে না, আর রোজা রাখলেও তিনি কোন ধরনের খাবার খাবেন—এসব বিষয় নিয়ে এবং কিডনির বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে আজ হ্যালো ডাক্তার বিভাগে আমরা কথা বলব কিডনি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. এহতেশামুল হক-এর সঙ্গে।

বিজ্ঞাপন

প্রশ্ন : রমজানে রোজা রাখা কিডনি রোগীদের জন্য কতটা নিরাপদ? কোন পর্যায়ের রোগীরা রোজা রাখতে পারবেন বা পারবেন না?

উত্তর : রোজা থেকে দীর্ঘ সময় না খাওয়ার কারণে শরীরে পানিশূন্যতা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকে। এক্ষেত্রে কিডনির পয়েন্ট বেড়ে যায়, সেইসঙ্গে কিডনির দুর্বলতাও বেড়ে যায়। সিরাম ক্রিয়েটিনিন ৩-এর নিচে থাকলে রোজা রাখা যেতে পারে। আর যদি ৩-এর ওপরে চলে যায়, সেক্ষেত্রে আমরা রোজা রাখতে বারণ করি। কারণ এ ক্ষেত্রে কিডনির পয়েন্ট দ্রুত বেড়ে যেতে পারে।

প্রশ্ন : কিডনি রোগী যদি রোজা রাখতে চান, তাহলে সাহরি ও ইফতারে কী ধরনের খাবার ও তরল গ্রহণ করা উচিত?

উত্তর: যেহেতু পানিশূন্যতার একটা ব্যাপার থাকে, তাই পরিমিত পানি খেতে হবে। ইফতারে খুব সিম্পল খাবার খেতে হবে। যেমন চিড়া, দই, খিচুড়ি—এগুলো খুব ভালো খাবার। মুরগির ঝোল দিয়ে রুটি খাওয়া যেতে পারে। কিছু কিছু স্পেশালে ফ্রুটস খাওয়া যেতে পারে—পেঁপে, বেল, আপেল, নেসপাতি ইত্যাদি। তবে ভাজাপোড়া খাবার এড়িয়ে চলতে হবে।

প্রশ্ন : কিডনি রোগের প্রধান কারণগুলো কী? আমাদের দেশে কোন কারণগুলো বেশি দেখা যায়?

উত্তর : কিডনি রোগের অনেকগুলো কারণ রয়েছে। বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কা--এই দেশগুলোয় নেফ্রাইটিস নামে একটি রোগের কথা আমরা শুনে থাকি। এই নেফ্রাইটিস হলো প্রধান‌ কারণ। তারপরে ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ ও রিপিটেড ইউরিন ইনফেকশন হওয়ার মতো কারণ থাকতে পারে। এছাড়া কিছু জন্মগত হৃদরোগ থাকে, যদিও এর পার্সেন্টেজ খুব কম।

প্রশ্ন : প্রাথমিক পর্যায়ে কিডনি রোগের লক্ষণগুলো কীভাবে চিহ্নিত করা যায়?

উত্তর : সাধারণত কোনো লক্ষণ দেখা যায় না। যখন অর্ধেকের বেশি দুটো কিডনি দুর্বল বা অকার্যকর হয়ে যায়, তখন কিডনির ফাংশন টেস্ট সিরাম ক্রিয়েটিনিন বেড়ে যায়। ওই সময় ক্ষুধামান্দ্য, দুর্বলতা ও রক্তশূন্যতা দেখা দেয়। তারপর সমস্যা আরো বাড়তে থাকলে হাতে-পায়ে পানি চলে আসে, প্রস্রাবের পরিমাণ কমে যায় এবং হঠাৎ প্রেশারের সমস্যা দেখা যায়।

প্রশ্ন : ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপ কীভাবে কিডনির ওপর প্রভাব ফেলে?

উত্তর : ডায়াবেটিসের যে হাই গ্লুকোজ লেবেল তা কিডনির ফিল্টার লেবেল বা ছাকনিতে সরাসরি আঘাত করে—ছাকনির যে ছিদ্রগুলো রয়েছে, সেগুলোকে বড় করে দেয়, তখন প্রোটিনটা চলে যায়।

প্রশ্ন : কিডনি রোগ প্রতিরোধে দৈনন্দিন জীবনে কী ধরনের খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাপন অনুসরণ করা উচিত?

উত্তর : খুব সিম্পল খাবার খাওয়া ভালো। ফাস্টফুড-জাতীয় খাবারগুলো এড়িয়ে চলা প্রয়োজন। পরিমিত পানি এবং ভাত-মাছ খেতে হবে। যখন তখন ব্যথানাশক ওষুধ ও অ্যান্টিবায়োটিক না খাওয়াই ভালো।

প্রশ্ন : কিডনি রোগ নির্ণয়ের জন্য কোন কোন পরীক্ষা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ?

উত্তর : কারো যদি ফ্যামিলি হিস্ট্রিতে কিডনি রোগী থাকে, তাহলে ফাংশন টেস্ট সিরাম ক্রিয়েটিনিন করা যেতে পারে। আরেকটি হলো, ইউরিন টেস্ট করে দেখা যেতে পারে কিডনিতে কোনো সমস্যা হচ্ছে কি না। এছাড়া যাদের ডায়াবেটিস ও প্রেশার আছে, তাদের প্রতি দুই মাস পর সিরাম ক্রিয়েটিনিনটা পরীক্ষা করে দেখতে হবে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ

এলাকার খবর
Loading...