আমার দেশ জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পেপার

ভুয়া মেসেজে ক্লিক করলেই বিপদ

মোশাররফ হোসেন

ভুয়া মেসেজে ক্লিক করলেই বিপদ

বর্তমান সময়ে স্মার্টফোন ও ইন্টারনেট আমাদের জীবনকে সহজ করে তুলেছে। ব্যাংক লেনদেন, বিকাশ, নগদ, রকেট কিংবা অন্যান্য মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের কারণে টাকা পাঠানো কিংবা গ্রহণ করা এখন হাতের মুঠোয়। কিন্তু এই সুবিধার পাশাপাশি বেড়েছে প্রতারণার নতুন কৌশল—ফিশিং আক্রমণ। প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ মেসেজ পান—‘আপনার অ্যাকাউন্টে ২০,০০০ টাকা এসেছে। বিস্তারিত দেখতে এখানে ক্লিক করুন।’ প্রথমে মনে হয় হয়তো সত্যিই টাকা এসেছে; কিন্তু ক্লিক করার সঙ্গে সঙ্গেই শুরু হয় সর্বনাশ।

বিজ্ঞাপন

কীভাবে প্রতারণা হয়

অপরাধীরা ভুয়া ওয়েবসাইট বা অ্যাপ তৈরি করে, যেটা দেখতে আসল ব্যাংক বা মোবাইল ফাইন্যান্স কোম্পানির মতো। আপনি লিংকে ক্লিক করলে তারা আপনার মোবাইল নম্বর, পাসওয়ার্ড, পিন, এমনকি ওটিপি কোড সংগ্রহ করে নেয়। এই তথ্য দিয়েই মুহূর্তের মধ্যে আপনার অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা তুলে নেয়।

বাংলাদেশে ফিশিং প্রতারণার বাস্তব ঘটনা

২০২৪ সালের ঢাকার একটি ঘটনা। এক সরকারি চাকরিজীবী মেসেজ পান যে, তার অ্যাকাউন্টে ৫০ হাজার টাকা এসেছে। লিংকে ক্লিক করার সঙ্গে সঙ্গে তাকে লগইন করতে বলা হয়। কিছুক্ষণের মধ্যেই তার বিকাশ অ্যাকাউন্ট থেকে পুরো টাকা উধাও হয়ে যায়।

২০২৩ সালের চট্টগ্রামের একটি ঘটনা, এক বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী ফেসবুকে মেসেজ পান—‘আপনি ল্যাপটপ জিতেছেন, কনফার্ম করতে লিংকে ক্লিক করুন।’ ক্লিক করার পর তার ফেসবুক আইডি হ্যাক হয় এবং প্রতারকরা তার বন্ধুবান্ধবের কাছে টাকা চায়।

২০২২ সালের কুমিল্লার একটি ঘটনা, স্থানীয় এক ব্যবসায়ী ফোন পান—‘আপনার অ্যাকাউন্ট ব্লক হয়ে যাবে, এখনই ভেরিফাই করুন।’ ভয় পেয়ে তিনি তথ্য দেন আর কয়েক মিনিটের মধ্যেই তার অ্যাকাউন্ট খালি হয়ে যায়।

কেন মানুষ ফাঁদে পড়ে?

হঠাৎ ২০,০০০ টাকা আসার মেসেজ পেয়ে অনেককে আকৃষ্ট করে। তখন কেউ কেউ লোভে পড়ে সর্বনাশ ডেকে আনে। অনেকেই জানেন না যে ব্যাংক বা বিকাশ কখনো মেসেজে লিংক পাঠায় না। অজ্ঞতার কারণেও কেউ কেউ সমস্যায় পড়ে। আবার অ্যাকাউন্ট বন্ধ হয়ে যাবে বা তথ্য না দিলে সমস্যা হবে—এমন ভয় পেয়েও অনেকে ফাঁদে পড়ে।

কীভাবে নিরাপদ থাকবেন

* কখনোই অচেনা লিংকে ক্লিক করবেন না।

* অফিসিয়াল অ্যাপ ছাড়া অন্য কোথাও তথ্য দেবেন না।

* ব্যাংক, বিকাশ, নগদ বা রকেট কোনো সময়েই ফোনে বা মেসেজে পিন/পাসওয়ার্ড চাইবে না।

* টাকা এসেছে কিনা চেক করতে সবসময় অফিসিয়াল অ্যাপ বা হেল্পলাইন ব্যবহার করুন।

* সন্দেহজনক মেসেজ পেলে সঙ্গে সঙ্গে মুছে ফেলুন এবং অন্যকে সতর্ক করুন।

সরকারি উদ্যোগ ও করণীয়

বাংলাদেশে সাইবার অপরাধ প্রতিরোধে ‘সাইবার ট্রাইব্যুনাল’ ও ‘ডিজিটাল সিকিউরিটি আইন’ রয়েছে। তবে শুধু আইন করলেই হবে না, সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে হবে। স্কুল, কলেজ ও মাদরাসায় সাইবার নিরাপত্তা শিক্ষা দেওয়া জরুরি। ব্যাংক ও মোবাইল ফাইন্যান্স কোম্পানিকে নিয়মিত সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন চালাতে হবে। মিডিয়া ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সচেতনতা ছড়ানো সবচেয়ে কার্যকর উপায়।

একটি ক্লিকের লোভে কিংবা ভয় পেয়ে আপনার কষ্টের টাকা হারাতে পারেন। তাই সচেতন হোন, অন্যকেও সচেতন করুন। মনে রাখবেন, প্রতারকরা আপনার তথ্য চাইছে মানেই তারা আপনার অর্থ লুট করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। নিজে সচেতন থাকুন, পরিবারকেও সচেতন করুন—এটাই ডিজিটাল নিরাপত্তার প্রথম শর্ত।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন