ভরা মৌসুমেও ইলিশ না পেয়ে জেলেদের দুঃসহ জীবন

ভরা মৌসুমেও ইলিশ না পেয়ে জেলেদের দুঃসহ জীবন
বরগুনার তালতলীতে পায়রা নদীতে ইলিশ না পেয়ে ঘাটে নৌকা বেঁধে অলস সময় কাটাচ্ছে জেলেরা। ছবি: আমার দেশ

পায়রা নদীতে ভরা মৌসুমেও দেখা মিলছে না কাঙ্ক্ষিত রুপালি ইলিশের। জেলেদের দাবি, সাগর মোহনায় সৃষ্টি হওয়া ডুবোচর এবং আইসোটেক তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রের গরম পানি ও বর্জ্য নদীতে ফেলায় ইলিশের প্রবেশে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলে মাছ শিকারের ওপর নির্ভরশীল তালতলীর উপকূলের প্রায় ৮ হাজার জেলে পরিবার চরম দুর্দশায় পড়েছে।

জানা গেছে, পায়রা-বিষখালী নদীর মোহনায় বড়াইয়্যার ডুবোচর প্রায় ২০ কিলোমিটার জুড়ে বিস্তৃত। নলবুনিয়ার ডুবোচর, পদ্মা ও কুমিরমারা চরের অবস্থানও নদীর প্রবেশমুখে। এ চরগুলো ভাটার সময় হাঁটার উপযোগী হয়ে পড়ে। জোয়ারের সময় এ অঞ্চলগুলোয় তীব্র স্রোত ও উত্তাল ঢেউ দেখা দেয়, যা ইলিশের প্রবেশে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে।

বিজ্ঞাপন

তালতলীর জয়ালভাঙ্গা এলাকায় ২০১৯ সালে নির্মিত হয় আইসোটেক তাপবিদ্যুৎকেন্দ্র, যা ২০২২ সাল থেকে উৎপাদনে যায়। স্থানীয়দের অভিযোগ, বিদ্যুৎ উৎপাদনের ফলে নির্গত গরম পানি ও রাসায়নিক বর্জ্য পায়রা নদীর জীববৈচিত্র্য ও পানিপ্রবাহে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। এতে ইলিশের প্রজনন ব্যাহত হচ্ছে।

তালতলীতে নিবন্ধিত জেলের সংখ্যা ৭ হাজার ৯০০ জন। ভরা মৌসুম আষাঢ়, শ্রাবণ, ভাদ্র ও আশ্বিনে ইলিশ ধরা পড়ে, আর তখন জেলেরা সারা বছরের খরচ মেটান। কিন্তু এ মৌসুমের দুই মাস পেরিয়ে গেলেও নদীতে তেমন ইলিশ ধরা পড়ছে না।

স্থানীয় জেলেরা দ্রুত সাগর মোহনার ডুবোচর খনন ও তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রের বর্জ্য নিয়ন্ত্রণের দাবি জানিয়েছেন। তারা বলেন, ‘এই সমস্যা দূর না হলে পায়রা নদীতে ইলিশও আসবে না আর আমাদের পরিবারও চলবে না।’

নলবুনিয়ার জেলে হিরন হাওলাদার বলেন, ‘মোহনায় চরের কারণে স্বাভাবিক জোয়ারের পানি পায়রায় আসে না। ফলে ইলিশ ঢুকতে পারে না। চর না কাটলে নদীতে ইলিশ আসার সম্ভাবনা নেই।’

তেঁতুলবাড়িয়া গ্রামের জেলে মহসিন বলেন, ‘জোয়ারের শুরুতে নদীতে স্রোত থাকে না, তাই ইলিশ ঢোকে না। মাঝজোয়ারে স্রোত বাড়ে, তখন কিছু মাছ ধরা পড়ে; তবে সংখ্যাটা খুবই কম।’

শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকুয়াকালচার বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মীর মোহাম্মদ আলী বলেন, ‘সাগর মোহনায় ডুবোচর ও নদীর নাব্যতা সংকট ইলিশ চলাচলে মারাত্মক প্রতিবন্ধকতা তৈরি করছে। ইলিশ প্রবেশের জন্য গভীর পানি প্রয়োজন, যা বর্তমানে পায়রা নদীতে নেই। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রের বর্জ্য ও উষ্ণ পানি। এগুলো ইলিশ প্রজননে বিরূপ প্রভাব ফেলে। নদীর মোহনায় বর্তমানে বিস্তৃত ডুবোচর ইলিশ প্রবেশের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।’

তালতলী উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা ভিক্টর বাইন বলেন, ‘সাগর মোহনায় ডুবোচরের কারণে পায়রা নদীর নাব্যতা কমেছে। এতে জোয়ারের স্রোতের তীব্রতা হ্রাস পাচ্ছে, যার ফলে ইলিশ প্রবেশে বাধা সৃষ্টি হচ্ছে।’

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন