বর্ষাকাল মানেই-কখনো রোদ, কখনো মেঘলা আকাশ। বর্ষায় কখনো আকাশ মেঘকালো করে ঝুম বৃষ্টি, আবার কখনো সারা দিন টিপটিপ বৃষ্টি। এই আবহাওয়ায় পোশাক নির্বাচনে পড়তে হয় বিড়ম্বনায়। বৃষ্টিকে তো আর আটকানো সম্ভব নয়। তবে চিন্তাভাবনা করে কাপড় বাছাই করে বাড়তি ঝামেলাটুকু এড়িয়ে চলতে পারেন। বর্ষাকালীন সময়ে পোশাক সম্পর্কে কিছু পরামর্শ দেওয়া হলো।
বর্ষায় কখনো অনর্গল বৃষ্টিতে পথঘাট ডুবে গিয়ে পথচারীদের স্বাভাবিক চলাফেরায় বিঘ্ন ঘটানোর পাশাপাশি স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের ছেলেমেয়েদেরও সমস্যায় ফেলে দেয়। সেই সঙ্গে সাধারণ শ্রমজীবী মানুষের দৈনন্দিন কর্মজীবনে টানা বৃষ্টির দিন ভীষণ ঝামেলা পোহাতে হয়। এ ছাড়া অফিসগামী নারী-পুরুষের জন্যও অবিশ্রাম বৃষ্টি ছেদ টেনে দেয় স্বস্তিময় কাজকর্মে। পথ চলতে গিয়ে পোশাক-আশাক হয়ে যায় কাদায় মাখামাখি। নগরজীবনে বৃষ্টির বিড়ম্বনা যেন সবকিছুকে ছাপিয়ে যায়। তারপরও বর্ষা এক অন্ত সজীবতা নিয়ে প্রকৃতিকে নতুন সাজে সাজিয়ে দেয়।
বর্ষার দিনের সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো পোশাক নির্বাচন। কর্মজীবী অথবা কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া ছাত্রীদের এই আবহাওয়ায় পোশাক নির্বাচনে পড়তে হয় বিড়ম্বনায়। অঝোরে বা রিমঝিম বৃষ্টির কারণে প্রায়ই জামাকাপড় ভিজে যায়। সেই সঙ্গে গরমের গুমোট ভাব তো থাকছেই। তাই গরম আর বৃষ্টিÑএ দুটোর কথা মাথায় রেখেই বর্ষাকালে পোশাক পরতে হবে। তবে চিন্তাভাবনা করে কাপড় বাছাই করলে বাড়তি ঝামেলা কিছুটা হলেও এড়িয়ে চলা সম্ভব।
বর্ষার সময় আকাশের রঙ দেখে শাড়ি, সালোয়ার-কামিজ, শার্ট-প্যান্ট, জুতো নির্বাচন করাটা বিশেষ প্রয়োজন। না হলে আচমকা বৃষ্টিতে সব আয়োজন ভন্ডুল হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। শাড়ি, সালোয়ার-কামিজ, ফতুয়া যা-ই হোক, বছরের অন্যান্য সময়ের মতো সুতি কাপড় পরে বের হলে একটু সমস্যার সম্মুখীন হতেই পারে। বৃষ্টিতে সুতি কাপড় ভিজলে শরীরে সেঁটে গিয়ে শুধু অস্বস্তি বাড়ায় না, শুকাতেও অনেক সময় লাগে। এতে ঠান্ডা-কাশি, জ্বর হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়। তা ছাড়া রোদে না শুকালে কাপড়ে গন্ধ হয়।
বর্ষায় তাই ব্যবহার করা উচিত এমন কাপড়, যা ভিজলে বাতাসে দ্রুত শুকিয়ে যায়। এ ক্ষেত্রে বর্ষার উপযোগী হলো কৃত্রিম তন্তুর কাপড়। তবে এ কাপড়ে অনেকের ত্বকে অ্যালার্জি বা র্যাশ উঠতে পারে। সে ক্ষেত্রে ভালো মানের জর্জেট, সিল্ক, দেশি ভয়েল বর্ষাকালের জন্য উপযোগী ও মানানসই কাপড়। তবে যে কাপড়ই হোক, তা ভারী ও পুরু বা সুতির না হলে বর্ষায় পরা যেতে পারে।
ঘর থেকে বাইরে বেরোনোর আগে যদি মনে হয় বৃষ্টি আসতে পারে। তাহলে শাড়ির ক্ষেত্রে সিল্ক, জর্জেট, শিফনকে প্রাধান্য দেওয়াটাই ভালো। বৃষ্টিতে ভিজলে খুব সহজেই শুকিয়ে যায় বলে হাফ সিল্কের শাড়িগুলো বেশ উপযোগী। সালোয়ার-কামিজের ক্ষেত্রেও সিল্কজাতীয় ড্রেস অগ্রাধিকার দেওয়াটা যেমন উত্তম, পাশাপাশি প্যান্ট-শার্টের ক্ষেত্রেও বৃষ্টি উপযোগী ড্রেস পরাটাই সমীচীন। আর পোশাকের রঙ যত গাঢ় আর উজ্জ্বল হবে, ততই ভালো। কেননা সিল্ক ও গাঢ় রঙের শাড়ি, সালোয়ার-কামিজ কিংবা প্যান্ট-শার্ট বৃষ্টির পানি ও কাদা, ময়লায় নষ্ট হওয়া থেকে কিছুটা হলেও রেহাই পায়।
বর্ষাকালে মোটা, ভারী বুননের কাপড়ের পোশাক পরিহার করাই ভালো। এই আবহাওয়ায় কৃত্রিম তন্তুর তৈরি কাপড়ের পোশাক বেশি আরামদায়ক হবে। তা ছাড়া এ সময় সিনথেটিকজাতীয় পোশাক যেমনÑসিল্ক, জর্জেট কাপড়ের পোশাক নির্বাচন করাই ভালো। এ ধরনের কাপড় সহজে শুকিয়ে যায় এবং কালো দাগ পড়ার সম্ভাবনা কম।
শাড়ির ক্ষেত্রেও শিফন, সিল্ক, মসলিনজাতীয় শাড়ি বেছে নিতে পারেন। সাদা কাপড় যেমন বৃষ্টির দিনে মানানসই নয়, কালো কাপড়ও তেমনি পরা উচিত নয়। কালো কাপড় ভিজে গেলে ছোপ ছোপ দাগ পড়ে যায়।
পোশাক পরতে পারেন একটু ঘের কম। এতে কাদায় ময়লা হওয়ার আশঙ্কা কম থাকে। সালোয়ারও আঁটসাঁট হলে ভালো হয়। বর্ষা শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আলমারিতে রাখা কাপড় রোদে দেওয়া প্রয়োজন। এতে কাপড়ের মধ্যে থাকা গুমোট গন্ধ কেটে যাবে। আলমারিতে কাপড় রাখার সময় কাপড়ের ফাঁকে ফাঁকে ন্যাপথলিন ব্যবহার করুন। এটা কাপড়কে ছত্রাক থেকে বাঁচিয়ে রাখবে, সুরক্ষিত রাখবে।
তা ছাড়া আমাদের দেশে বৃষ্টি হলেও অনেক সময় গুমোট গরম থাকে। এমন আবহাওয়ার জন্য পাতলা সুতি পোশাক আরামদায়ক। এ সময় ছাপা নকশার কাপড় পরা ভালো। কারণ হঠাৎ বৃষ্টিতে কাপড় ভিজে গেলেও অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায় না। বৃষ্টির দিনে নীল রঙের পোশাকই মানানসই। এ ছাড়া সি-গ্রিন, লেমন কিংবা সবুজ রঙও বেশ ভালো লাগে।
এদিকে, এই বর্ষায় শুরু হচ্ছে ‘বিশ্বরঙ নীল উৎসব-২০২৫’। দেশীয় ফ্যাশনকে সংস্কৃতিময় ঐতিহ্যের মিশেলে প্রদর্শন করতে ৩০ বছর ধরে নিরলস কাজ করে যাচ্ছে বিশ্বরঙ বাই বিপ্লব সাহা। ‘বিশ্বরঙ নীল উৎসব-২০২৫’ তারই একটি ধারাবাহিকতা। ২০ জুন থেকে বিশ্বরঙের সব শোরুমে শুরু হয়েছে নীল পোশাক প্রদর্শনী, চলবে মাসব্যাপী।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

