আমার দেশ জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পেপার

কর্মক্ষেত্রে একঘেয়েমি দূর করতে...

আল খালেদ

কর্মক্ষেত্রে একঘেয়েমি দূর করতে...

অফিসের কাজ কখনো একঘেয়েমি নিয়ে আসতে পারে। তখন সময়কে অনেক দীর্ঘ মনে হয়, বিশেষ করে যখন কাজগুলো একই রকম হয়। আর কর্মক্ষেত্রে একঘেয়েমি নীরবে আমাদের ক্ষতি করছে। এই একঘেয়েমি আমাদের প্রোডাক্টিভিটি, ক্রিয়েটিভিটি এবং মানসিক স্বাস্থ্যকে প্রভাবিত করে। একই ধরনের কাজ দীর্ঘ সময় ধরে করার ফলে মনোযোগ কমে যায়, শক্তি ক্ষয় হয় এবং দিনটি দীর্ঘ মনে হয়। যদি সত্যিই নিজের কাজকে ভালোবাসেন, তাহলে নিজেকে সবসময় উদ্দীপ্ত রাখতে হবে; অন্য কারো মুখাপেক্ষী না হয়ে নিজেকে নিজেই উদ্দীপ্ত করতে হবে।

বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, ছোট ছোট পরিবর্তন ও কার্যকর কৌশল ব্যবহার করে একঘেয়েমি কমানো সম্ভব। তাহলে জেনে নেওয়া যাক, অফিসের কাজে একঘেয়েমি দূর করার উপায়—

বিজ্ঞাপন

কাজে পরিবর্তন আনুন

অফিস ডেস্কটি ছোটখাটো জিনিস দিয়ে সাজিয়ে একটু ভিন্নতা আনতে পারেন। এই পরিবর্তন মনকে সতেজ রাখবে। ডেস্কে একটি ছোট গাছ, রঙিন কলম বা অন্যান্য ব্যক্তিগত জিনিসপত্র সাজিয়ে রাখলে কাজের একঘেয়েমি অনেকটা কমতে পারে। মন ও মস্তিষ্ক বৈচিত্র্য পছন্দ করে; তাই এ ধরনের পরিবর্তন মনোযোগ বাড়াতে সাহায্য করে।

লক্ষ্য অনুযায়ী পরিকল্পনা করুন

জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে একটি লক্ষ্য বা উদ্দেশ্য থাকা জরুরি। তবে লক্ষ্য থাকলেই হবে না, সেটা অর্জনের জন্য চাই সঠিক পরিকল্পনা। ধাপে ধাপে কীভাবে কাজগুলো সম্পন্ন করবেন, সে অনুযায়ী কাজ করতে হবে; নইলে যেকোনো কাজই জটিল হয়ে উঠবে। কথায় বলে, সঠিক পরিকল্পনা করতে পারলে কোনো কাজই জটিল হয় না। আসলে যখন আপনার পরিকল্পনা প্রয়োজনের তুলনায় কম হয়, তখনই কাজ জটিল হতে থাকে। আর তাই আপনি যদি ঠিকঠাক পরিকল্পনা করতে না পারেন, সে ক্ষেত্রে কাজকে যতই ভালোবাসুন, লাভ হবে না। তখন আপনার আত্মবিশ্বাসই টলতে থাকবে; হতাশা আপনার মনকে গ্রাস করবে।

গুরুত্ব অনুসারে কাজ ভাগ করুন

প্রথমে কাজের গুরুত্ব বুঝুন। তারপর সেটা বিশ্লেষণ করে কোনটা আগে করা প্রয়োজন, তা নির্ধারণ করতে হবে। গুরুত্ব অনুসারে কাজের ক্রম ঠিক করা উচিত। তাতে আরেকটা সুবিধাও আছে—আপনি যখন এভাবে ভাগ করে নেবেন, তখন কম গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলো পরে করার জন্য রেখে দিতে পারবেন। ফলে কাজের সে অংশটুকু আপাতত মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলতে পারবেন। আপনার মাথায় কাজের বোঝাও কমে যাবে। এর ফলে তুলনামূলকভাবে নির্ভার হয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো সুন্দরভাবে এগিয়ে নিতে পারবেন।

ছোট ছোট চ্যালেঞ্জ গ্রহণ

নিজের কাজগুলো ছোট ছোট ভাগে ভাগ করে চ্যালেঞ্জ হিসেবে গ্রহণ করলে সময়ের ব্যবহার অনেকটা খেলাধুলার মতোই আনন্দদায়ক হয়ে ওঠে। উদাহরণস্বরূপ, আধা ঘণ্টার মধ্যে কোনো কাজের অর্ধেক সম্পন্ন করার লক্ষ্য রাখা। সময়ের আগে কাজ শেষ করা মানে ‘জয়ী’ হওয়া। এভাবে কাজকে মজার চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা একঘেয়েমি কমাতে সাহায্য করে।

কাজের ফাঁকে খানিক বিরতি

দৈনন্দিন কাজের মধ্যে ছোট বিরতি নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। ডেস্কেই কিছু স্ট্রেচ করা, অফিসের চারপাশে হাঁটাহাঁটি করা অথবা মিনিট দশেক ব্যায়াম করা মনকে সতেজ রাখে। প্রতি এক থেকে দেড় ঘণ্টা অন্তর এই ধরনের বিরতি কাজের একঘেয়েমি কাটাতে সহায়ক হয়।

নতুন কিছু শিখুন

কর্মক্ষেত্রে বিরক্তিকর মুহূর্তগুলো কাজে লাগিয়ে নতুন কিছু শেখা যেতে পারে। কাজ সম্বন্ধে তথ্যবহুল আর্টিকেল পড়া, পডকাস্ট শোনা বা ডকুমেন্টারি দেখা মস্তিষ্ককে ব্যস্ত রাখে এবং দক্ষতা বৃদ্ধি করে। নতুন কিছু শেখার মাধ্যমে একঘেয়েমি দূর হয় এবং মনোযোগ ও উদ্দীপনা বজায় থাকে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করান—ছোট পরিবর্তন, চ্যালেঞ্জ গ্রহণ, নিয়মিত বিরতি এবং নতুন কিছু শেখার মাধ্যমে অফিসের কাজ আরো আনন্দদায়ক ও কার্যকর করা সম্ভব। এই পরামর্শ মেনে কাজ করলে সুফল পাওয়া যাবে এবং কাজও সহজ মনে হবে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন