শিশু-কিশোরদের প্রতিভা প্রদর্শনের পরিচ্ছন্ন মঞ্চ ‘নতুন কুঁড়ি’। এই মঞ্চ থেকে উঠে এসেছে অসংখ্য প্রতিভাবান শিল্পী। সদ্য সমাপ্ত নতুন কুঁড়ি প্রতিযোগিতা বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে একটি বিশেষ সংযোজন।
১৯৭৬ সালে শুরু হওয়া এই প্রতিযোগিতা উপমহাদেশের বৃহত্তম রিয়েলিটি শো। বর্তমান অন্তবর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস এবং তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা মো. মাহফুজ আলমের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় দীর্ঘ ২০ বছর পর নতুন উদ্যমে শুরু হয় নতুন কুঁড়ি প্রতিযোগিতা।
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সার্বিক তত্ত্বাবধানে এই প্রতিযোগিতা বাস্তবায়নের দায়িত্বে ছিল বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি)। এ বছর ‘নতুন কুঁড়ি’ প্রতিযোগিতায় প্রায় ৩৯ হাজার প্রতিযোগী অংশ নেয়। ৬৪ জেলাকে ১৯টি অঞ্চলে ভাগ করে ২৪ সেপ্টেম্বর থেকে ২৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আঞ্চলিক পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। আঞ্চলিক পর্ব থেকে ‘ক’ ও ‘খ’ শাখা মিলিয়ে সকল ক্যাটাগরিতে প্রায় ১৪ হাজার প্রতিযোগী বিভাগীয় পর্যায়ে উন্নীত হয়।
দেশের আট বিভাগে একযোগে এই প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিযোগিতার মোট বিষয় ছিল ১২টি। এগুলো হলো : অভিনয়, আধুনিক গান, আবৃত্তি, উচ্চাঙ্গ নৃত্য, কৌতুক, গল্পবলা, দেশাত্মবোধক গান, নজরুলসংগীত, রবীন্দ্রসংগীত, লোকসংগীত, সাধারণ নৃত্য ও হামদ-নাত। বিভাগীয় পর্যায় শেষে শুরু হয় চূড়ান্ত পর্ব।
৮ বিভাগ থেকে ১ হাজার ৪০ জন প্রতিযোগী চূড়ান্ত পর্বে অংশ নেয়। চূড়ান্ত পর্বে উত্তীর্ণ ২৭৯ জন প্রতিযোগী সেরা ১০ পর্বে অংশগ্রহণ করে। এই পর্ব থেকে সেরা ৫ জন বাছাই করা হয়। এরপর ফাইনালে ‘ক’ বিভাগ থেকে ৩৬ জন এবং ‘খ’ বিভাগ থেকে ৩৭ জন প্রতিযোগীকে পুরস্কারের জন্য মনোনীত করা হয়।
এবারের নতুন কুঁড়ি প্রতিযোগিতার বাছাই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ নিরপেক্ষভাবে পরিচালিত হয়েছে। এই প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারীদের প্রতিভা যাচাইয়ের দায়িত্বে ছিলেন ২৯৩ জন বিজ্ঞ বিচারক। প্রতিযোগিতাটিকে অন্তর্ভুক্তিমূলক করতে এবার ব্যাপক প্রচার কার্যক্রম চালানো হয়েছে। এর ফলে ধর্ম, বর্ণ-নির্বিশেষে সকল শ্রেণির শিশু-কিশোর এই প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে।
নতুন কুঁড়ি প্রতিযোগিতায় ৬৩ জন শিশুশিল্পী ৭৩টি বিষয়ে পুরস্কৃত হয়েছে। ৮ জন শিশুশিল্পী দুটি বিষয়ে এবং একজন শিশুশিল্পী ৩টি বিষয়ে পুরস্কার পেয়েছে। প্রতিযোগিতার ‘ক’ শাখায় চ্যাম্পিয়ন হয়েছে টাঙ্গাইলের শিশুশিল্পী প্রিয়সী চক্রবর্তী। সে আধুনিক গান ও রবীন্দ্রসংগীত—উভয় বিভাগে প্রথম স্থান অধিকার করেছে। অপরদিকে প্রতিযোগিতার ‘খ’ শাখায় চ্যাম্পিয়ন হয়েছে সুনামগঞ্জের শিশুশিল্পী শুভমিতা তালুকদার। সে রবীন্দ্রসংগীতে প্রথম এবং নজরুলসংগীতে দ্বিতীয় হয়েছে।
নতুন কুঁড়ি প্রতিযোগিতায় পুরস্কারপ্রাপ্ত শিশুশিল্পীদের মধ্যে ইসলাম ধর্মের ৩৮ জন, হিন্দু ধর্মের ২৪ জন এবং খ্রিষ্ট ধর্মের ১ জন। বাংলাদেশের সামগ্রিক জনসংখ্যার অনুপাত বিবেচনা করলে নতুন কুঁড়ি প্রতিযোগিতায় হিন্দু ধর্মাবলম্বী শিশুশিল্পীদের অংশগ্রহণ ও সাফল্যের হার উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। হিন্দু সম্প্রদায়ের ২৪ জন শিশুশিল্পীর এই সাফল্য প্রমাণ করে যে, দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে তাদের দীর্ঘদিনের সক্রিয়তা, অভ্যাসগত শৈল্পিক অনুরাগ এবং পারিবারিক অনুশীলনের ধারাবাহিকতা এখনো সমানভাবে উজ্জ্বল।
নতুন কুঁড়ি প্রতিযোগিতায় পুরস্কারবিজয়ী ৬৩ জনের মধ্যে ছেলে ১৭ জন এবং মেয়ে ৪৬ জন। মেয়েদের সংখ্যাধিক্য প্রমাণ করে—সাংস্কৃতিক চর্চায় মেয়েদের অংশগ্রহণ, আগ্রহ ও প্রস্তুতি তুলনামূলকভাবে বেশি সুসংহত। অপরদিকে ছেলেদের তুলনামূলক কম সাফল্য ইঙ্গিত করে—সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে ছেলে শিশুদের আগ্রহ কম। এর কারণ হতে পারে, ছেলে শিশুরা খেলাধুলা ও প্রযুক্তিনির্ভর কর্মকাণ্ডে বেশি মনোযোগী।
নতুন কুঁড়ি প্রতিযোগিতায় পুরস্কারপ্রাপ্ত ৬৩ জন শিশুশিল্পীর পারিবারিক পরিচয়ে বৈচিত্র্য রয়েছে। শিশুশিল্পীদের মধ্যে ২৬ জনই শিক্ষক পরিবার থেকে উঠে এসেছে। এর মধ্যে ১৯ জনের মা শিক্ষক, ৫ জনের বাবা শিক্ষক এবং ২ জনের বাবা-মা উভয়েই শিক্ষক। প্রতিভাবিকাশে পরিবারের শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ যে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখে, এ তথ্য তার প্রমাণ বহন করে।
পুরস্কারপ্রাপ্ত শিশুশিল্পীদের মধ্যে ১১ জনের বাবা ও ৪ জনের মা সরকারি চাকরিজীবী। এর মধ্যে একজনের বাবা বিসিএস কর্মকর্তা এবং আরেকজনের বাবা-মা দুজনই বিসিএস কর্মকর্তা। এছাড়া ৫ জন শিশুশিল্পীর বাবা ব্যাংকে চাকরি করেন। এসব তথ্য ইঙ্গিত করে—চাকরিজীবী পরিবারে তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল আর্থিক ও সামাজিক পরিবেশ থাকায় শিশুরা নিয়মিত সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের সুযোগ পাচ্ছে।
প্রতিযোগিতায় পুরস্কারবিজয়ী ৫ জন শিশুশিল্পীর বাবা এবং একজনের মা সরাসরি সংগীতের সঙ্গে যুক্ত। পরিবারের এই সাংস্কৃতিক অনুরাগ স্বভাবতই সন্তানদের শিল্পচর্চায় উৎসাহ জুগিয়েছে। সাংস্কৃতিক পরিবেশে বেড়ে ওঠা এসব শিশু ঘর থেকেই প্রয়োজনীয় অনুপ্রেরণা ও দিকনির্দেশনা পেয়েছে। ফলে তাদের সাংস্কৃতিক প্রতিভা স্বাভাবিকভাবে বিকশিত হয়েছে। প্রতিযোগিতায় সাফল্য অর্জন তাদের জন্য অনেকটাই প্রত্যাশিত ছিল।
নতুন কুঁড়ি প্রতিযোগিতায় ব্যবসায়ী পরিবারের শিশুদের সাফল্যও উল্লেখ করার মতো। পুরস্কারপ্রাপ্তদের মধ্যে ১১ জনের বাবা এবং ৩ জনের মা ব্যবসায়ী। ব্যবসায়ী পরিবারও যে সন্তানদের সাংস্কৃতিক চর্চার প্রতি আগ্রহী—এ তথ্য তার প্রমাণ বহন করে। গৃহিণী মায়েদের অবদানও প্রশংসার দাবি রাখে। পুরস্কারপ্রাপ্তদের মধ্যে ৩০ জন শিশুশিল্পীর মা গৃহিণী। এটি প্রমাণ করে—ঘরোয়া পরিবেশে মায়ের নিবিড় তত্ত্বাবধান ও মানসিক সমর্থন শিশুদের প্রতিভার বিকাশ ত্বরান্বিত করে। অনেক ক্ষেত্রেই মায়ের এই ধারাবাহিক অনুপ্রেরণা শিশুদের সাফল্যের ভিত্তি গড়ে দেয়।
নতুন কুঁড়ি প্রতিযোগিতায় বেসরকারি চাকরিজীবীদের সন্তানদের সাফল্যও প্রশংসাযোগ্য। পুরস্কারবিজয়ী ১১ জন শিশুশিল্পীর বাবা বেসরকারি চাকরি করেন। এছাড়া ২ জনের বাবা চাকরি থেকে অবসরপ্রাপ্ত।
বিভিন্ন পেশা ও সামাজিক অবস্থানের পরিবার থেকেও শিশুরা সাফল্য অর্জন করেছে। একজন শিশুশিল্পীর বাবা-মা দুজনই মেকআপ আর্টিস্ট। বাবা-মায়ের সৃজনশীল পেশায় বেড়ে ওঠা এই শিশু ঘর থেকেই শিল্পচর্চার মৌলিক শিক্ষা ও অনুপ্রেরণা পেয়েছে। আরেকজন শিশুশিল্পীর বাবা-মা দুজনই চিকিৎসক। চিকিৎসক দম্পতির সন্তানের সাফল্য প্রমাণ করে—পেশাগত ব্যস্ততার মাঝেও শিশুকে উৎসাহ ও সঠিক দিকনির্দেশনা প্রদান করলে সাংস্কৃতিক প্রতিভার বিকাশ সম্ভব।
নতুন কুঁড়ি প্রতিযোগিতায় নিম্ন-আয়ের পরিবারের শিশুরাও সফল হয়েছে। পুরস্কারবিজয়ী একজন শিশুশিল্পীর বাবা দিনমজুর। একজনের বাবা নিরাপত্তাপ্রহরী এবং মা বাবুর্চি। আরেকজনের বাবা শ্রমিক এবং মা বিউটিশিয়ান। নিম্ন-আয়ের পরিবারের শিশুশিল্পীদের সাফল্য প্রমাণ করে—অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতা প্রতিভা বিকাশে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে না।
এবারের প্রতিযোগিতায় পুরস্কারবিজয়ী দুজন শিশুশিল্পীর বাবা মসজিদের ইমাম। একজন গল্পবলায় দ্বিতীয়, অপরজন হামদ-নাতে তৃতীয় স্থান অর্জন করেছে। ধর্মীয় পরিবেশে বেড়ে ওঠা এই দুই শিশুশিল্পীর সাফল্য আমাদের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
নতুন কুঁড়ি প্রতিযোগিতায় পুরস্কারবিজয়ী একজন শিশুশিল্পীর বাবা পেশায় আইনজীবী। আরেকজনের বাবা সাংবাদিক। একজন শিশুশিল্পীর বাবা বিকেএসপির সিনিয়র কোচ। পুরস্কারবিজয়ী একজন শিশুশিল্পী ২০২৩ সালে হারিয়েছে তার বাবাকে। প্রিয়জনের অনুপস্থিতির সেই দুঃখ বয়ে নিয়েও সে নিজের প্রতিভা দিয়ে পৌঁছেছে সেরাদের সারিতে।
এবারের নতুন কুঁড়ি প্রতিযোগিতায় ৩৩টি জেলার প্রতিযোগী পুরস্কৃত হয়েছে। প্রতিযোগিতায় খুলনা বিভাগের প্রতিযোগীরা সবচেয়ে ভালো করেছে। এ বিভাগের ১৮ জন শিশুশিল্পী পুরস্কৃত হয়েছে। রংপুর বিভাগের ৯ জন, বরিশাল বিভাগের ৮ জন, রাজশাহী বিভাগের ৭ জন, ঢাকা বিভাগের ৬ জন, সিলেট বিভাগের ৬ জন, চট্টগ্রাম বিভাগের ৫ জন এবং ময়মনসিংহ বিভাগের ৪ জন প্রতিযোগী পুরস্কৃত হয়েছে।
জেলার মধ্যে সবচেয়ে ভালো করেছে সুনামগঞ্জের প্রতিযোগীরা। এ জেলার ৫ জন শিশুশিল্পী পুরস্কৃত হয়েছে। খুলনা, রংপুর, যশোর, বাগেরহাট ও কিশোরগঞ্জ জেলার ৪ জন করে শিশুশিল্পী পুরস্কার পেয়েছে। চট্টগ্রাম জেলার ৩ জন প্রতিযোগী পুরস্কারপ্রাপ্ত হয়েছে। ময়মনসিংহ, মাগুরা, নওগাঁ, নাটোর, ঠাকুরগাঁও, বরিশাল, পিরোজপুর, ঝালকাঠি ও পটুয়াখালী জেলার ২ জন করে প্রতিযোগী পুরস্কৃত হয়েছে।
ঢাকা, টাঙ্গাইল, মৌলভীবাজার, ঝিনাইদহ, সাতক্ষীরা, নড়াইল, কুষ্টিয়া, জামালপুর, নেত্রকোণা, পাবনা, বগুড়া, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, লালমনিরহাট, গাইবান্ধা, পঞ্চগড়, নোয়াখালী ও কুমিল্লা জেলার একজন করে প্রতিযোগী পুরস্কৃত হয়েছে। পার্বত্য ৩ জেলা-সহ মোট ৩১ জেলার কোনো প্রতিযোগী পুরস্কার পায়নি। আগামী বছরে এসব জেলার প্রতিযোগীরা যাতে পুরস্কার পায়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের উদ্যোগ নিতে হবে।
এবারের নতুন কুঁড়ি প্রতিযোগিতায় বিজয়ী শিশুশিল্পীদের দুই ধাপে পুরস্কার প্রদান করা হয়। গত ১৩ নভেম্বর প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস নতুন কুঁড়ি প্রতিযোগিতার ‘ক’ ও ‘খ’ শাখার চ্যাম্পিয়ন দুই শিশুশিল্পীকে ট্রফি ও তিন লক্ষ টাকার চেক প্রদান করেন। এরপর ১৫ নভেম্বর বিটিভি অডিটোরিয়ামে তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা মোঃ মাহফুজ আলম নতুন কুঁড়ি প্রতিযোগিতায় প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অর্জনকারী ৭৩ জন শিশুশিল্পীকে পুরস্কার প্রদান করেন। প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অর্জনকারীকে ২ লক্ষ টাকা, দ্বিতীয় স্থান অর্জনকারীকে ১ লক্ষ টাকা এবং তৃতীয় স্থান অর্জনকারীকে ৫০ হাজার টাকার চেক-সহ ট্রফি ও সনদ প্রদান করা হয়। এই পুরস্কার শিশুশিল্পীদের আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি করার পাশাপাশি সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে উদ্বুদ্ধ করবে।
বিটিভি কর্তৃপক্ষ নতুন কুঁড়ি প্রতিযোগিতার প্রত্যেক বিষয়ের সেরা দশ জন প্রতিযোগীকে সরাসরি বিটিভির শিল্পী তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। এছাড়া বিটিভি নতুন কুঁড়ি প্রতিযোগিতার শিশুশিল্পীদের অংশগ্রহণে ‘শিশুপ্রহর’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের উদ্যোগ নিয়েছে। এই অনুষ্ঠানে নতুন কুঁড়ি প্রতিযোগিতার সেরা দশের শিশুশিল্পীরা অংশগ্রহণ করবে। অনুষ্ঠানটি প্রতি শুক্রবার প্রচারিত হবে। এই অনুষ্ঠান নিঃসন্দেহে শিশুশিল্পীদের প্রতিভা বিকাশে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।
এবারের নতুন কুঁড়ি প্রতিযোগিতা দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে এক ধরনের প্রাণচাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। বহুদিন পর শিশুশিল্পীদের সৃজনশীল পরিবেশনায় জাতীয় মঞ্চে যেন প্রাণ ফিরেছে। বিটিভিতে প্রচারিত নতুন কুঁড়ির প্রতিটি পর্ব একই সঙ্গে বিটিভির ফেসবুক পেজ ও ইউটিউব চ্যানেলে প্রচারিত হওয়ায় অসংখ্য মানুষ প্রতিযোগিতাটি উপভোগ করার সুযোগ পেয়েছেন।
পরিচিত শিশুশিল্পীদের পরিবেশনা অনেকে নিজেদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়েছেন। অনলাইন প্ল্যাটফর্মে ব্যাপক প্রচারের ফলে নতুন কুঁড়ি প্রতিযোগিতাটি নেটিজেনদের কাছে জনপ্রিয় অনলাইন বিনোদন হিসেবেও প্রতিষ্ঠা পেয়েছে। ডিজিটাল যুগে শিশু-কিশোরদের প্রতিভা আবিষ্কার ও লালনের এই প্রাণবন্ত আয়োজন সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলে সৃষ্টি করেছে নতুন প্রত্যাশা ও সম্ভাবনার দ্বার।
প্রতিটি শিশু কোনো না কোনো প্রতিভা নিয়ে জন্মগ্রহণ করে। শিশুদের বিশেষ প্রতিভা খুঁজে বের করাই নতুন কুঁড়ি প্রতিযোগিতার মূল উদ্দেশ্য। নতুন কুঁড়ি প্রতিযোগিতা অসংখ্য প্রতিভা আবিষ্কার করেছে, যা দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনকে সমৃদ্ধ করেছে।
নতুন কুঁড়ি শিশু-কিশোরদের কাছে শুধু একটি প্রতিযোগিতা নয়, বরং শিল্পজীবনের প্রথম পাঠশালা। নতুন কুঁড়ি প্রতিযোগিতায় শিশুশিল্পীদের সাফল্য দেশের অসংখ্য শিশুকে স্বপ্ন দেখাতে অনুপ্রাণিত করবে—এমনটাই প্রত্যাশা।
লেখক : বিসিএস তথ্য ক্যাডারের সদস্য এবং জনসংযোগ কর্মকর্তা পদে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ে কর্মরত

