‘টেলস অব জুলাই’

তবু জুলাই দেব না ভুলিতে

সামিন ইয়াসার

তবু জুলাই দেব না ভুলিতে

২০২৪ সালের ৩১ জুলাই একটি সাহিত্য সংকলন প্রকাশের উদ্যোগের মধ্য দিয়ে যাত্রা শুরু করে টেলস অব জুলাই। শুরুতে পরিকল্পনা ছিল শুধু একটি সংকলন প্রকাশের; তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে উদ্যোগটির পরিধি বিস্তৃত হয়েছে। বর্তমানে এটি গবেষণা, আর্কাইভিং, প্রকাশনা এবং স্মৃতি সংরক্ষণের একটি অন্যতম সক্রিয় প্ল্যাটফর্মে পরিণত হয়েছে।

এ পর্যন্ত টেলস অব জুলাই মোট সাতটি গ্রন্থ প্রকাশ করেছে, যা জুলাই বিপ্লবের বিভিন্ন দিক, স্মৃতি, অভিজ্ঞতা ও ব্যক্তিগত গল্প তুলে ধরেছে। ২০২৬ সালের অমর একুশে বইমেলায় প্রকাশিত হয়েছে তাদের দুটি গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থ। এর মধ্যে ‘জুলাইয়ের ফুল’ বইটিতে জুলাই বিপ্লবের ১১১ জন শিশু শহীদের জীবনের গল্প স্থান পেয়েছে প্রায় ৬০০ পৃষ্ঠা জুড়ে। একই সঙ্গে প্রকাশিত হয়েছে শহীদ ওসমান হাদিকে নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ লেখার সমন্বয়ে একটি স্মৃতিস্মারক গ্রন্থ। এর আগে প্ল্যাটফর্মটি প্রকাশ করেছে ‘রক্তাক্ত জুলাইয়ের কবিতা’, ‘ইন্টারনেট ক্র্যাকডাউনের দিনগুলো’, ‘শহীদ আনাস স্মরণ সংখ্যা’, ‘শহীদ মুগ্ধ স্মরণ সংখ্যা’ এবং ‘শহীদ আবরার ফাহাদ স্মরণ সংখ্যা’। প্রকাশিত এসব গ্রন্থের মাধ্যমে জুলাই বিপ্লবের বিভিন্ন অনুষঙ্গ, শহীদদের জীবনকথা, সমকালীন অভিজ্ঞতা এবং সংগ্রামের ইতিহাস সংরক্ষণের চেষ্টা করে যাচ্ছে টেলস অব জুলাই।

বিজ্ঞাপন

টেলস অব জুলাই বর্তমানে ১৩ সদস্যবিশিষ্ট গভর্নিং বডির মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। এর প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী প্রধান কবি ইস্রাফিল আকন্দ রুদ্র এবং নির্বাহী পরিচালক তাহসীন আহমেদ। এছাড়া প্ল্যাটফর্মটির সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন ফেরদৌস মাহমুদ নূর, রাতুল হাসান রাফি, আমিনুল ইসলাম মজুমদার, আবু নছর তারেক, জাভেদ মোস্তফা শিহাব, জান্নাতুল মাওয়া মাহি, সানজিদা ইসলাম লাবণ্য, ফারজানা জাহান, সৈয়দা ফাতেমাতুল জান্নাত, রিফাত জাহান ও মায়েশা ফারজানা। সবাই বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। বন্ধুত্ব থেকেই ইতিহাস সংরক্ষণ ও চর্চার এই উদ্যোগে যুক্ত হয়েছেন তারা।

প্ল্যাটফর্মটির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কাজ আহত ব্যক্তি ও শহীদ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করা। তাদের স্মৃতি, অভিজ্ঞতা এবং ব্যক্তিগত বেদনার গল্পগুলো সংরক্ষণের পাশাপাশি জুলাই গণঅভ্যুত্থান ঘিরে তথ্য সংগ্রহ, নথিবদ্ধকরণ এবং বিশ্লেষণের কাজও করে যাচ্ছে তারা। এ লক্ষ্যে বিভিন্ন গবেষক ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ধারাবাহিকভাবে কাজ করছে সংগঠনটি। প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী প্রধান ইস্রাফিল আকন্দ রুদ্র বলেন, ‘অন্ধ স্বৈরাচারের আমলে, ভয়ার্ত ও উত্তাল সময়ে আমাদের টেলস অব জুলাইয়ের যাত্রা শুরু। প্রথমে ভাবনা ছিল শুধু একটি সাহিত্য সংকলন প্রকাশের। কিন্তু সময়ের সঙ্গে উপলব্ধি করেছি, এই সময়কে কেবল একটি বইয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না। নিয়মিত চর্চা, বিশ্লেষণ, নথিবদ্ধকরণ এবং স্মৃতি রোমন্থনের মধ্য দিয়েই ইতিহাসকে জীবন্ত রাখা সম্ভব। সেই চিন্তা থেকেই টেলস অব জুলাই ধীরে ধীরে একটি সক্রিয় প্ল্যাটফর্মে রূপ নিয়েছে।’

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ

এলাকার খবর
Loading...