প্রতিষ্ঠানের ভালো ও দক্ষ কর্মীরাও কখন চাকরি ছেড়ে দেন

প্রতিষ্ঠানের ভালো ও দক্ষ কর্মীরাও কখন চাকরি ছেড়ে দেন

কর্মীরা প্রতিষ্ঠান ছেড়ে যাওয়া কর্মজীবনের স্বাভাবিক অংশ। মানুষ একটি প্রতিষ্ঠানে যোগ দেয়, দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা অর্জন করে এবং একসময় অন্য সুযোগের সন্ধানে চলে যেতে পারে। কিন্তু কেন কর্মীরা চলে যাচ্ছেন—এই প্রশ্নটি প্রতিষ্ঠানের জন্য বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

কর্মীদের চাকরি ছেড়ে যাওয়ার বিষয়টি শুধু জনবল হারানো হিসেবে না দেখে প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা ও নেতৃত্বের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সংকেত হিসেবে দেখতে হবে। কোনো প্রতিষ্ঠানে ধারাবাহিকভাবে দক্ষ কর্মী চলে যেতে থাকলে সেটিকে কেবল ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখলে সমস্যার মূল কারণ অদৃশ্য থেকে যেতে পারে।

বিজ্ঞাপন

কর্মপরিবেশ, নেতৃত্বের ধরন, উন্নতির সুযোগ, স্বীকৃতি, পারিশ্রমিক কিংবা প্রতিষ্ঠানের সংস্কৃতির মতো বিষয় কর্মীদের ধরে রাখা বা হারানোর ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখতে পারে। অর্থাৎ, কর্মী চলে যাওয়াকে শুধু ‘লোকসান’ হিসেবে নয়, প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে পাওয়া একটি প্রতিক্রিয়া বা ফিডব্যাক হিসেবেও দেখা যেতে পারে। দক্ষ কর্মী ধরে রাখার পাশাপাশি যারা চলে যাচ্ছেন, তাদের কাছ থেকেও প্রতিষ্ঠান কেন তারা চলে যাচ্ছেন—সে বিষয়ে শেখার সুযোগ নিতে পারে।

একটি প্রতিষ্ঠানের সবচেয়ে বড় সম্পদ হলো এর দক্ষ ও পরিশ্রমী কর্মীরা। তবে অনেক সময় দেখা যায়, কোনো প্রতিষ্ঠানের ভালো ও দক্ষ কর্মীরাও হঠাৎ চাকরি ছেড়ে দেন। সাধারণত কর্মক্ষেত্রের কিছু নির্দিষ্ট নেতিবাচক পরিস্থিতি ও অব্যবস্থাপনার কারণেই দক্ষ কর্মীরা চাকরি ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেন।

দক্ষ কর্মীরা সবসময় কাজের পেছনে তাদের সর্বোচ্চ শ্রম দেন। কিন্তু দীর্ঘ সময় ধরে কঠোর পরিশ্রম করার পরও যদি ম্যানেজমেন্টের কাছ থেকে কোনো প্রশংসা, স্বীকৃতি বা কাজের মূল্যায়ন না পাওয়া যায়, তবে তারা হতাশ হয়ে পড়েন এবং উপযুক্ত মূল্যায়ন ও স্বীকৃতির অভাবে একপর্যায়ে চাকরি ছেড়ে দেন।

প্রতিষ্ঠানের ভালো কর্মীদের ওপর ম্যানেজমেন্টের ভরসা বেশি থাকে। এই ভরসা থেকে অনেক সময় তাদের ওপর অতিরিক্ত কাজের বোঝা চাপিয়ে দেওয়া হয়। ভালো কাজের পুরস্কার আরো বেশি কাজ—এই নীতি যখন কোনো প্রতিষ্ঠানে চলে, তখন কর্মীরা মানসিকভাবে ক্লান্ত হয়ে পড়েন এবং বাধ্য হয়ে পদত্যাগ করেন।

মেধাবী কর্মীরা এক জায়গায় স্থবির হয়ে থাকতে পছন্দ করেন না। তারা সবসময় নতুন কিছু শিখতে এবং ক্যারিয়ারে এগিয়ে যেতে চান। যদি কোনো প্রতিষ্ঠানে পদোন্নতির সুনির্দিষ্ট পথ না থাকে বা শেখার সুযোগ বন্ধ হয়ে যায়, তবে তারা নতুন কোনো ভালো সুযোগের দিকে পা বাড়ান।

ব্যবস্থাপক বা বসের আচরণ কর্মীদের ধরে রাখার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করে। বসের অতিরিক্ত মাইক্রোম্যানেজমেন্ট (সব কাজে অতিরিক্ত হস্তক্ষেপ করা), কর্মীদের প্রতি অবিশ্বাসের পরিবেশ তৈরি করা, কিংবা জনসমক্ষে অপমান করার মতো আচরণ দক্ষ কর্মীদের দ্রুত প্রতিষ্ঠান ত্যাগে বাধ্য করে।

অফিসের পরিবেশ যদি নেতিবাচক বা বিষাক্ত হয়, যেখানে অফিস পলিটিক্স, গসিপিং, এবং সহকর্মীদের মধ্যে অসম প্রতিযোগিতা বেশি থাকে, সেখানে দক্ষ কর্মীরা টিকতে পারেন না। তারা মানসিক শান্তির জন্য এমন পরিবেশ এড়িয়ে চলেন।

যদি অফিসের কাজের জন্য ব্যক্তিগত বা পারিবারিক জীবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়—যেমন গভীর রাত পর্যন্ত কাজ করা বা ছুটির দিনেও কাজের চাপ থাকা—তবে কর্মীরা দ্রুত সেই চাকরি থেকে সরে আসেন। বর্তমান যুগে দক্ষ কর্মীরা ফ্লেক্সিবিলিটি বা কাজের নমনীয়তাকে অনেক বেশি গুরুত্ব দেন। কর্ম ও ব্যক্তিগত জীবনের ভারসাম্যের অভাব মেনে নিতে চান না।

যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও যদি প্রতিষ্ঠানে পক্ষপাতিত্ব করা হয় এবং অযোগ্য কাউকে পুরস্কৃত করা হয়, তবে দক্ষ কর্মীরা তাদের আত্মসম্মান ধরে রাখতে চাকরি ছেড়ে দেন।

দক্ষ কর্মীরা নিজেদের যোগ্যতা ও বাজারমূল্য সম্পর্কে সচেতন থাকেন। তারা যদি বুঝতে পারেন যে তাদের যোগ্যতা অনুযায়ী বেতন, বোনাস বা অন্যান্য আর্থিক সুবিধা দেওয়া হচ্ছে না, তবে তারা অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানে চলে যান যা তাদের সঠিক মূল্যায়ন করতে পারে।

সূত্র: নিউ স্ট্রেইটস টাইমস ও গ্যালাপ ডটকম

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...