ঐতিহাসিক জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নারীদের অবদানকে স্বীকৃতি জানাতে পালিত হয়েছে 'জুলাই ওমেনস ডে'। সোমবার সন্ধ্যা থেকে নানা আয়োজনে মুখরিত হয়ে উঠেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস ও কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এলাকা। সন্ধ্যার পর থেকে শুরু হওয়া আয়োজনে ডকুমেন্টারি প্রদর্শনী, স্মৃতিচারণ, গান, স্লোগান পরিবেশন ও ড্রোন শোর মাধ্যমে নারীদের বীরত্বগাথা তুলে ধরা হয়।
এ দিন সন্ধ্যা ৭টার দিক থেকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার চত্বরে প্রদর্শিত হয় জুলাই অভ্যুত্থানভিত্তিক বিভিন্ন ডকুমেন্টারি, যেখানে বিশেষভাবে ফুটে উঠেছে নারী শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ ও নেতৃত্বের চিত্র। একইসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্য, টিএসসি, ভিসি চত্বর এবং শামসুন্নাহার হলের সামনেও স্থাপন করা হয়েছে ডকুমেন্টারি ডিসপ্লে, যাতে সাধারণ শিক্ষার্থীরাও অংশ নিতে পারে।
সরেজমিনে দেখা যায়, পুলিশ, আনসার ও প্রক্টরিয়াল টিমের সদস্যরা প্রবেশপথে অবস্থান করছেন এবং ঢাবির পরিচয়পত্র ব্যতীত বহিরাগত কাউকে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না। এছাড়া দিবসটি উপলক্ষ্যে মেয়েদের হলে প্রবেশের বিধিনিষেধ শিথিল করা হয়েছে।
সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ শিল্পকলা অ্যাকাডেমির আয়োজনে মাসব্যাপী চলমান ‘জুলাই পুনর্জাগরণ’ কর্মসূচির অংশ হিসেবেই সোমবার পালন করা হয় 'জুলাই ওমেনস ডে'। এতে সহযোগিতা করে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
অনুষ্ঠানের শুরুতে জাতীয় সংগীত পরিবেশন করেন বাংলাদেশ শিল্পকলা অ্যাকাডেমির শিল্পীবৃন্দ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগীত বিভাগ। এরপর জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী সায়ান পরিবেশন করেন ‘আমিই বাংলাদেশ’, ‘জয় বাংলার’, ‘আমি জুলাইয়ের গল্প বলবো’সহ আন্দোলনপ্রবণ গান।
সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টায় মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় নির্মিত একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শিত হয়। পরবর্তী সময়ে প্রদর্শিত হয় ‘দীপক কুমার গোস্বামী স্পিকিং’ ও ‘জুলাই বিষাদ সিন্ধু’ চলচ্চিত্র। রাত সাড়ে সাতটায় আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী পাঁচজন নারী যোদ্ধা এবং তিনজন শহীদ পরিবারের সদস্য স্মৃতিচারণমূলক বক্তব্য দেন।
রাত আটটায় ‘ইলা লা লা’ ব্যান্ড পরিবেশন করে ‘সংগতি’, ‘অচিরজীবির প্রার্থনা’, ‘বাঘের গান’ ও ‘নীল নির্বাসন’। এরপর ‘স্লোগান গার্ল’দের স্লোগানের মাঝে ‘এফ মাইনর’ পরিবেশন করে ‘আলো আসবেই’, ‘মুক্তি’, ‘ডাহুক’ ও ‘মেয়ে’ গানগুলো। কণ্ঠশিল্পী পারসা মাহজাবীন গেয়ে শোনান ‘চলো ভুলে যাই’, ‘মুক্তির মন্দির’ এবং ‘মোরা ঝঞ্ঝার মত উদ্দাম’।
রাত ৯টা ৪৫ মিনিটে শিল্পী এলিটা করিম পরিবেশন করেন ‘আমি বাংলায় গান গাই’, ‘ধন ধান্য পুষ্প ভরা’, ‘পলাশীর প্রান্তর’, ‘ঘুরে দাঁড়াও’ এবং ‘বাংলাদেশ’ গানগুলো। রাত সাড়ে ১০ টায় শুরু হয় রাতের সবচেয়ে আকর্ষণীয় আয়োজন- মিউজিক্যাল ড্রোন শো। বাংলাদেশ ও চীন সরকারের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই শো-তে আকাশে ২০০০ ড্রোনের মাধ্যমে তুলে ধরা হয় জুলাই আন্দোলনের ইতিহাস। প্রথম ধাপে তুলে ধরা হয় আন্দোলনের পটভূমি, আর দ্বিতীয় ধাপে ১৪ জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের স্মরণীয় মুহূর্তগুলো।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীদের স্রোতের মতো রাস্তায় নেমে আসা এবং আন্দোলনে নেতৃত্বদানকারী নারীদের জীবনঘনিষ্ঠ চিত্র তুলে ধরা হয় এই ড্রোন শো-তে। শহীদ মিনার এলাকা পরিণত হয় এক জীবন্ত ইতিহাসে।
স্মরণ সভায় অংশ নেয়া নারী শিক্ষার্থীরা বলছেন, এই আয়োজনের মধ্য দিয়ে নারীদের অবদান যেমন স্মরণ করা হয়েছে, তেমনি নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরা হয়েছে জুলাইয়ের সেই সাহসী অধ্যায়।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

