আজকের এই দিনটি বাংলাদেশের ইতিহাসে এক অগ্নিস্ফুলিঙ্গের জন্ম দিয়েছিল— প্রতিবাদের অগ্নিস্ফুলিঙ্গ। স্বৈরাচার, দুর্নীতি আর অন্যায়ের বিরুদ্ধে তীব্র এক প্রতিরোধের সূচনা হয়েছিল এদিনে। বৃহস্পতিবার জুলাই শহীদ দিবসকে স্মরণ করে একটি লেখা পোস্ট করা হয় বিএনপির ফেসবুক পেজ থেকে।
পোস্টে বলা হয়, ‘আজকের এই দিনটি বাংলাদেশের ইতিহাসে এক অগ্নিস্ফুলিঙ্গের জন্ম দিয়েছিল—প্রতিবাদের অগ্নিস্ফুলিঙ্গ।
স্বৈরাচার, দুর্নীতি আর অন্যায়ের বিরুদ্ধে তীব্র এক প্রতিরোধের সূচনা হয়েছিল এদিনে।
১৬ জুলাই ২০২৪— কোটা সংস্কারের দাবিতে শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে অংশ নেওয়া ছাত্র-ছাত্রীদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকারের পুলিশ ও ছাত্রলীগের সন্ত্রাসী বাহিনী।
তিনটি জেলায় প্রাণ হারান ছয়জন তরুণ। তাদের রক্তে রঞ্জিত হয় এ দেশের রাজপথ। তাদের নাম লেখা হয় শহীদের খাতায়—আবু সাঈদ, ওয়াসিম, ফারুক, শান্ত সহ আরও দুই সহযোদ্ধা চিরদিনের জন্য অমর হয়ে যান এই মাটিতে।
এদিন বিকালে রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি ডিপার্টমেন্টের শিক্ষার্থী আবু সাঈদকে খুব কাছে থেকে পর পর তিনবার গুলী করে হত্যা করে পুলিশ। ভিডিওতে দেখা যায় আবু সাঈদ বন্দুকের সামনে বুক চিতিয়ে দিয়েছে।
বিকেলে চট্টগ্রামে আন্দোলনরত সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা।
নিরস্ত্র ছাত্রদের রক্তে ভেসে যায় রাজপথ। সে বিকেলে চট্টগ্রামে তিনজন বীর শিক্ষার্থী শহীদ হন।
তাদের মধ্যে বীর চট্টলার প্রথম শহীদ হয়েছিলেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের নেতা ওয়াসিম আকরাম।
শহীদ হওয়ার মাত্র ১৬ ঘণ্টা আগে ফেসবুকে লিখেছিলেন ওয়াসিম:
“সাধারণ শিক্ষার্থীদের পাশে আছে আমার প্রাণের সংগঠন (ছাত্রদল), আমি এই পরিচয়েই শহীদ হবো।”
কথা রেখেছেন ওয়াসিম।
প্রাণ দিয়েও অটুট ছিলেন নিজের আদর্শে, নিজের চেতনায়।
তাঁর রক্ত আজ প্রেরণা হয়ে রয়ে গেছে হাজারো সংগ্রামী ছাত্রের অন্তরে।
তিনি শুধু ছাত্রদলের নয়—সারা দেশের ছাত্রসমাজের চিরঅমর শহীদ।
এদিন রাজধানীতে ঢাকা কলেজের সামনে শিক্ষার্থীদের ওপর যুবলীগ-ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীদের গুলিতে আরো ২ জন নিহত হয়।
এই দিন শুধু প্রতিবাদের নয়, এই দিন শপথের—
শহীদদের রক্তের ঋণ শোধ না হওয়া পর্যন্ত লড়াই চলবে, বেঁচে থাকবে ১৬ জুলাইয়ের চেতনা।’
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


