সেপ্টেম্বর-আশ্বিন-রবিউস সানি: বাংলাদেশের ইতিহাস ক্যালেন্ডার

সেপ্টেম্বর-আশ্বিন-রবিউস সানি: বাংলাদেশের ইতিহাস ক্যালেন্ডার
আহসান মঞ্জিল

২০ সেপ্টেম্বর ১৮৫৪ : অখণ্ড বাংলায় প্রথম ডাকটিকিট বিক্রি শুরু হয়। এই ডাকটিকিটের শিল্পী ছিলেন নুমারউদ্দীন। দক্ষিণ এশিয়ার ব্রিটিশ উপনিবেশের ডাকব্যবস্থায় ডাকটিকিট চালুর ফলে চিঠির ডাকমাশুল আগে পরিশোধের ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হয় এবং ডাকব্যবস্থায় একীভূত মাশুল চালুর পথ সুগম হয়। পরে এই ব্যবস্থা উপমহাদেশের ডাক যোগাযোগের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

২০ সেপ্টেম্বর ১৮৭১ : কলকাতা টাউন হলের সিঁড়িতে ফোর্ট উইলিয়াম হাইকোর্টের ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি জন প্যাক্সটন নরম্যান ছুরিকাঘাতে নিহত হন। হত্যাকারী ছিলেন আবদুল্লাহ। সমসাময়িক ব্রিটিশ সূত্র তার ওহাবি আন্দোলনের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার কথা বলে। কিন্তু এর কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। আবদুল্লাহকে মৃত্যুদণ্ড দেয় ব্রিটিশ আদালত। ১৮৭১ সালের ৪ নভেম্বর কলকাতার জেলে তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।

বিজ্ঞাপন

২০ সেপ্টেম্বর ১৯৯২ : ঢাকার ঐতিহাসিক আহসান মঞ্জিল জাদুঘর সবার জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। দীর্ঘদিনের সংরক্ষণ ও সংস্কারকাজের পর নবাবি আমলের এই ঐতিহাসিক প্রাসাদকে জাদুঘরে রূপান্তর করা হয়। এর মধ্য দিয়ে আহসান মঞ্জিল ঢাকার ইতিহাস, নবাবি সংস্কৃতি ও ঔপনিবেশিক আমলের নানা নিদর্শন সংরক্ষণ ও প্রদর্শনের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে পরিণত হয়।

২১ সেপ্টেম্বর ১৮৫৭ : ১৮৫৭ সালের সিপাহি বিদ্রোহের সময় মোগল সম্রাট দ্বিতীয় বাহাদুর শাহ ব্রিটিশ বাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণ করেন। এর মধ্য দিয়ে উপমহাদেশে ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় শেষ হয় এবং দিল্লির ওপর আবার ব্রিটিশদের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা পায়। পরে ব্রিটিশরা দ্বিতীয় বাহাদুর শাহ জাফরকে রেঙ্গুনে নির্বাসনে পাঠায়।

২৪ সেপ্টেম্বর ১৯৩২ : ব্রিটিশবিরোধী সশস্ত্র বিপ্লবী আন্দোলনের অন্যতম নারী সদস্য প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার চট্টগ্রামের পাহাড়তলী ইউরোপিয়ান ক্লাব আক্রমণে নেতৃত্ব দেন। আক্রমণ শেষে ব্রিটিশ পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার এড়াতে তিনি পটাশিয়াম সায়ানাইড গ্রহণ করে আত্মহত্যা করেন।

২৪ সেপ্টেম্বর ১৯৮৮ : বাংলাদেশের বিশিষ্ট আলেম, সমাজসংস্কারক ও জমিদারি শোষণবিরোধী আন্দোলনের অন্যতম নেতা মাওলানা শামসুল হুদা পাঁচবাগী ইন্তেকাল করেন। তিনি ধর্মীয় শিক্ষার প্রসার, সামাজিক সংস্কার এবং কৃষক-সাধারণ মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। জমিদারি শোষণের বিরুদ্ধে তার নেতৃত্ব ও জনসম্পৃক্ত আন্দোলনের কারণে তিনি তৎকালীন পূর্ববঙ্গের ইতিহাসে একটি উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিত্ব হিসেবে স্মরণীয়।

২৪ সেপ্টেম্বর ১৮৬২ : ফরায়েজি আন্দোলনের অন্যতম প্রধান নেতা দুদু মিয়া (মোহসীন উদ্দীন) মৃত্যুবরণ করেন। হাজী শরীয়তুল্লাহর মৃত্যুর পর তিনি ফরায়েজি আন্দোলনের নেতৃত্ব গ্রহণ করেন এবং পূর্ববঙ্গের কৃষক ও সাধারণ মানুষের ওপর জমিদার এবং নীলকরদের শোষণের বিরুদ্ধে আন্দোলনকে আরো বিস্তৃত করেন। তার নেতৃত্বে ফরায়েজি আন্দোলন ধর্ম-সংস্কারের পাশাপাশি কৃষক-অধিকার ও সামাজিক প্রতিরোধের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধারায় পরিণত হয়।

গ্রন্থনা : ইতিহাস ঐতিহ্য টিম

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন