আমার দেশ জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পেপার

হেকিম হাবিবুর রহমানের বিবরণে

ঢাকায় রমজান উদ্‌যাপন

এমডি হাবিবুল্লাহ

ঢাকায় রমজান উদ্‌যাপন
ছবি: সংগৃহীত

‘ঢাকা পাচাস বারাস প্যাহলে’ ঢাকার ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও প্রামাণ্য গ্রন্থ। লিখেছেন বরেণ্য চিকিৎসক, সাহিত্যিক, ইতিহাসবিদ, হেকিম হাবিবুর রহমান। এই গ্রন্থে লেখক নিজের দেখা উনিশ শতকের শেষ অংশ ও বিশ শতকের প্রথম অর্ধে ঢাকার সমাজ সংস্কৃতি এবং নাগরিক জীবনের বহুমাত্রিক রূপ তুলে ধরেছেন। লেখক বিশদভাবে ঢাকায় রমজান ও রমজানকেন্দ্রিক বিভিন্ন উৎসব এবং উদযাপনের বৈচিত্র্যময় আয়োজনের কথা বলেছেন। তার রচনার আলোকে আজকে আমাদের বিশেষ আয়োজন।

বিজ্ঞাপন

রমজানের প্রস্তুতি

সুবরাতের (শবেবরাত) পরে রমজানুল মোবারকের আগমন প্রকাশ পেতে থাকে। শাবান মাসের ২০ তারিখের পর থেকে জোরেশোরে এর প্রস্তুতি আরম্ভ হতে থাকে। মসজিদে মুসল্লিদের আধিক্য দেখা যায়। মসজিদগুলো চুনকাম ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা হয়। অভিজাত লোকেরাও ঘরবাড়ি নতুন করে সাজিয়ে তোলে। গরিব-শরিব লোকেরা চাঁদ দেখার আগে থেকে নিজের ঘরকে চিকন মাটির লেপ দিয়ে ঝকঝকে করে ফেলে। সামর্থ্য অনুযায়ী সবাই নিজেদের ঘরবাড়ি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করত। রমজান উপলক্ষে বালুমাটির নতুন নতুন সুরাই আনা হতো। সামর্থ্য অনুযায়ী সবার ঘরে সুগন্ধি রাখা হতো। ছোলাবুট এনে পরিষ্কার করে রাখা হতো। প্রথম রোজার ইফতারে ব্যবহার করার জন্য ২৭ শাবানে মাটির নতুন পাতিলে মুগ ডালের বীজ ভিজিয়ে অঙ্কুরিত করা হতো।

রমজানের চাঁদ দেখা

চানরাত থেকেই প্রত্যেক ঘরে ঘরে ফারাস ফারুস বিছানোর আয়োজন করা হতো। বাচ্চাদের খইল ও বেসনের পানি দিয়ে গোসল করানো হতো। তারপর চাঁদ দেখার প্রস্তুতি নেওয়া হতো। বড় কাটরা, আহসান মঞ্জিল, ছোট কাটরা ও হোসেনী দালানের মতো উচ্চ অট্টালিকার ছাদে অনেক আগে থেকেই লোকজন পৌঁছে যেত। অতি শৌখিন লোকেরা নৌকার সাহায্যে মাঝনদীতে গিয়ে চাঁদ দেখত। কিশোর ও যুবক সবাই চাঁদ দেখতে যেত। বিশেষ করে বৃদ্ধ লোকেরা নিজের দৃষ্টিশক্তি পরীক্ষা করার জন্য অবশ্যই যেত। চাঁদ দেখা গেলে খুশির রব উঠত এবং একে অপরকে মোবারকবাদ দিতে থাকত। বন্দুকের গুলি ছোড়া হতো। তোপধ্বনি করা হতো। ছোটরা বড়দের সালাম দেওয়ার জন্য আসত।

তারাবির নামাজ

মসজিদের জন্য হাফেজ আগে থেকেই মনোনীত থাকত। ঝাড় ফানুস পরিষ্কার করে মোমবাতি লাগানো হতো। প্রথম দিন একটু দেরি করে তারাবি শুরু করা হতো। মুসল্লিরা পরামর্শ করে সবার সুবিধা-অসুবিধার কথা ভেবে তারাবির সময় ঠিক করত। বাজারের মসজিদে কিছু আগে ও মহল্লার মসজিদে তারাবি দেরি করে শুরু হতো। আমার বাল্যকালে সুরা তারাবির বেশি ও খতম তারাবির কম রেওয়াজ ছিল। কারণ শহরে হাফেজদের সংখ্যা বেশি ছিল না। হাফেজদের খুব সম্মান ও মর্যাদা দেওয়া হতো। তাদের মধ্যে হাফেজ রেল, হাফেজ তুফান ও হাফেজ আমান খুবই বিখ্যাত ছিলেন। এখন তো মাশাআল্লাহ প্রত্যেক মহল্লায় হাফেজ তৈরি হচ্ছে।

১৪, ২১ অথবা ২৭ তারিখে খতম তারাবি কিছুটা দেরিতে শুরু হতো। হাফেজ সাহেবের জন্য মুসল্লিরা নজরানা দিত এবং খতমের পর কালোজিরা ও শব্‌-এর মধ্যে দম করিয়ে নেওয়া হতো। মুসল্লিদের মধ্যে মিষ্টান্ন, শিরবেরেঞ্জ ও পোলাও বিতরণ করা হতো। তার পর থেকে প্রত্যেক মসজিদে সুরা তারাবি হতো। আমার সময়ে এতেকাফকারীদের সংখ্যা নামেমাত্র ছিল। কিন্তু এখন প্রতি বছর তাদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে।

সাহরির আয়োজন

তারাবির পরে সাহরির আয়োজন করে ঘুমানোর বন্দোবস্ত করা হতো। শিশু-কিশোররা আনন্দ-উৎসবে উদ্বেলিত হয়ে সাহরির সময় উঠিয়ে দেওয়ার জন্য ওয়াদা নিত। তারাবির পর পুরুষেরা ঘরে এসে ঘুমিয়ে যেত ও যুবকেরা গল্পগুজব করে সাহরি পর্যন্ত জেগে থাকার তালে থাকত। আমার আমলে রেস্টুরেন্ট ছিল না এবং বায়োস্কোপের চর্চাও ছিল না। এই জন্য মহল্লাবাসী বাংলা ঘরে ও অভিজাতরা নিজেদের বৈঠকখানায় জমায়েত হতো। তখন ‘সাহরিওয়ালা’ বের হয়ে পড়ত। তারা ময়লা লণ্ঠন ও কুকুর থেকে বাঁচার জন্য লাঠি নিয়ে বের হতো এবং ‘রোজদারো উঠ্‌ঠো, সাহরি খাও, ওয়াক্ত হো গ্যয়া’ বলে দরজায় দরজায় ডাক দিত। এই ঘোরাঘুরি দ্বিপ্রহর রাত থেকে আরম্ভ হতো এবং প্রায় দুই ঘণ্টা পর্যন্ত স্থায়ী থাকত। ঢাকার বাসিন্দারা সাহরির সময় গরম খাবার খাওয়ায় অভ্যস্ত ছিল। এখনো তাদের সেই অভ্যাস বজায় আছে। সাহরির সময় শুধু ভাত টাটকা রান্না করা হতো আর তরকারি দিনেই রান্না করে রাখা হতো, যা সাহরির সময় গরম করে দস্তরখানে পরিবেশন করা হতো।

সাহরির খাবারদাবার

আল্লাহ তায়ালা ঢাকার মহিলাদের মধ্যে রান্নার গুণের বিশেষ ধরনের পটুত্ব দান করেছেন এবং তার প্রদর্শনী রোজার দিনে হতো। সে সময় ঢাকার সব বাড়িতে নানারকম খাদ্য রান্না করা হতো। ঢাকার বাসিন্দারা সাহরির জন্য সাধারণত কোরমা ও শিরবেরেঞ্জ (ফিরনিজাতীয় তরল খাবার) বেশি পছন্দ করেন এবং এই সময় খাবারের প্রকার কম রাখা হতো। বরং সন্ধ্যার সময় যে খাবার ভালো লাগত, সেটা সাহরির জন্য তুলে রাখা হতো। পুরুষরা অধিকাংশ সময় রুটি খেতেন। কিন্তু মহিলারা ভাত খেতে পছন্দ করতেন। এই সময়ে চায়ের প্রচলন আরম্ভ হয়েছিল। তবে তখনো সর্বসাধারণের মধ্যে এর প্রচলন ছিল না। মোগল অভিজাত ও কাশ্মীরি সম্মানিত ব্যক্তিরা সাহরির সময় অবশ্যই চা পান করতেন। তখনো সম্ভ্রান্ত ব্যক্তিরা ফজরের আজান পর্যন্ত কোরআন তেলাওয়াত করতেন এবং অন্যরা ঘুমিয়ে পড়তেন এবং ফজরের নামাজের সময় অধিকাংশ মসজিদ শূন্য থাকত। ব্যবসায়ী লোকেরা সকাল সকালেই জেগে যেতেন এবং নিজের কাজে নিয়োজিত হতেন। কিন্তু অভিজাতেরা কাত হয়ে আরাম করে ঘুমাতেন ও জোহরের নামাজ পর্যন্ত ঘুমিয়ে থাকতেন।

খাবারের দোকান দিনের বেলা বন্ধ থাকত

আজ থেকে ২৫ বছর আগে পুরো শহরে সকালবেলা রুটির দোকান বন্ধ থাকত। এজন্য আগের রাতেই ছেলেপেলেদের জন্য দিনে রুটির ব্যবস্থা করে রাখা হতো। পানখেকো কোনো মুসলিমকে দিনের বেলা রাস্তায় দেখা যেত না। কাউকে হুক্কা বা সিগারেট পান করতে দেখা যেত না।

ইফতারের খাবারদাবার

রমজান উপলক্ষে ঘরে ঘরে কোফতা অবশ্যই তেলে ভাজা হতো। কোথাও কোথাও সেটার কোরমা আবার কোথাও কালিয়া রান্না করা হতো। এটা সাহরির জন্য ঢাকার লোকদের পছন্দের খাবার ছিল। তারা রুটি ও ভাত দুটোই তৃপ্তি করে খেত। জোহরের পরে ভেজানো ছোলা থেকে বুট বের করা হতো অথবা পুরো বুট ইফতারির জন্য আলাদা করে রাখা হতো। ডাল পিষে ফুলুরি বানানো হতো। এগুলো ইফতারের সময় গরম গরম দস্তরখানে পরিবেশন করা হতো। রোজার সময় প্রত্যেক ঘরে মুড়ি অবশ্যই থাকত। পেঁয়াজ, মরিচ ও তেলের সমন্বয়ে মুড়ির ভর্তা ছিল রমজানে অপরিহার্য খাবার। তেলে ভাজা মুড়ির সঙ্গে তেলে ভাজা পনির বনেদি ঘরে ইফতারে অন্তর্ভুক্ত থাকত।

তেলে ভাজা মাখনার খইও সব জায়গায় পাওয়া যেত। দস্তরখানে জমজমের পানি থাকত। এই পানি প্রত্যেকের ভাগ্যে দু-চার ফোঁটা করে জুটত। মাগরিবের আজান শোনার পর প্রথমে সবাই জমজমের পানি শরবতে ঢেলে পান করত এবং খোরমা-খেজুর ধোয়া ও কাটার পর দু-এক টুকরো মুখে দিত। এটাকে সওয়াবের কাজ মনে করা হতো। ঢাকায় অনেক রকমের শরবত তৈরি করা হতো। লোকেরা ফালুদা বেশি পছন্দ করত। মিছরির শরবতে সরু করে কাটা পেস্তা বাদাম মেশানো হতো। অধিকাংশ লোক সুগন্ধি তোকমার শরবত পান করত। আর কেউ কেউ বেলের শরবত পছন্দ করত।

কয়েক প্রকারের মুড়ি, নোনতা ও মিষ্টি সমুসা, কাঁচা ও ভুনা ডাল, ফলমূল এবং ফুলুরি তৈরি করা হতো। বাজার থেকে অবশ্যই গোলাবি ওখরা ও ভুনা চিড়া আসত, দোভাজা টিপা ফুলুরি আসত, মাষের ডালের বড়া ও বুট আসত ইফতারের সময়। ছোট ছেলেমেয়েরাও ইফতারে শামিল হতো। মাগরিবের নামাজ শেষে সবাই খাওয়ার জন্য আবার দস্তরখানে বসত। সেখানে অধিকাংশ সময় সাধারণ ও পনিরমিশ্রিত বাকরখানি অবশ্যই থাকত। কাবাব থাকত।

হুক্কার ব্যবস্থা রমজান মাসে বিশেষভাবে করা হতো। বিশিষ্ট ব্যক্তিরা এ সময় মাটির হুক্কা পছন্দ করতেন। তারা ইফতারের পরে মিঠা কড়া তামাক সেবন করতেন আর সাহরির সময় তাওয়ার কড়া তামাক সেবন করতেন।

রমজানের বিশেষ সবজি ও ফল

যে ঋতুতেই রমজান হোক না কেন, আমি ছোটবেলায় কয়েকটি বিশেষ খাবারের উপস্থিতি লক্ষ করেছি। এক হলো পুদিনা আর অন্যটি হলো টাটকা ক্ষীরা, যা দেখে মনে হয় কৃষক বিশেষ যত্নে এই ফসল ফলিয়েছে। অমৌসুমি ফলও রমজানে পাওয়া যেত। অমৌসুমি তরকারি ও শাকসবজি অনেক দামে বিক্রি হতো। টাটকা ধনেপাতাও এসে যেত।

ফলমূলের মধ্যে কাটা শিঙাড়া (পানিফল) খুঁজে নিয়ে আসা হতো। যখন গ্রীষ্মকাল শুরু হতো রায়জীর বাগান থেকে গরিবেরা চীনা আলু জাতীয় শাক, আলু নিয়ে আসত। এগুলো ভালো দামে বিক্রি হতো এবং ইফতারিতে অবশ্যই পরিবেশন করা হতো। রমজান মাসে সবসময় আখ পাওয়া যেত। আখ টুকরো করে গোলাপ বা কেওড়ার পানিতে ভিজিয়ে রাখা হতো। বেশিরভাগ সময় ইফতারিতে এটা শখ করে খাওয়া হতো।

চকের ইফতার বাজার

রমজান মাসে চকবাজারে ইফতারের দোকান বসত। ধনী-দরিদ্র সবাই এখান থেকে ইফতার কিনত। মহল্লায় মহল্লায় এখন যেরকম ইফতারের দোকান দেখা যায়, আমার বাল্যকালে তার নামনিশানাও ছিল না। প্রত্যেক ব্যক্তিই চক থেকে কিছু না কিছু নিয়ে আসত। বিভিন্ন রকমের ভাজাপোড়া ও রমজানের বিশেষ সামগ্রী সেখানে পাওয়া যেত। এর মধ্যে গোলাবি ওখরা রমজান ছাড়া অন্য কোনো সময় পাওয়া যেত না এবং এখনকার মতো প্রত্যেক তেওহারে বা উৎসবে এর চেহারা দেখা যেত না। ৫০ বছর আগে আলাউদ্দিন হালওয়াই লক্ষ্ণৌ থেকে এসে চকবাজারে দোকান খুলেছিলেন। নিমকপারা, সমুসা ও লক্ষ্ণৌ শীরমাল একমাত্র তার দোকানে পাওয়া যেত।

রমজানে মেহমানদারি

রমজানে প্রত্যেক ঘরে উন্নত মানের খাদ্য তৈরি হতো। নিজেরা খেতেন এবং আত্মীয়স্বজন ও বন্ধুবান্ধবের কাছে পাঠাতেন। কিন্তু রমজান মাসে দাওয়াত দেওয়া ও নিমন্ত্রণে যাওয়া ঢাকার রীতির বিরুদ্ধে। এখানকার প্রকৃত বাসিন্দারা রমজান মাসে কাউকে নিমন্ত্রণ করাকে সমীচীন মনে করত না। অবশ্য সম্বন্ধী বা নতুন আত্মীয়দের বাড়িতে ধুমধামের সঙ্গেই ইফতারের সামগ্রী পাঠানো হতো।

এখানে ছেলেদের আট বছর ও মেয়েদের ছয় বছর বয়স থেকে রোজা রাখার অভ্যাস গড়ে তোলা হতো। বাচ্চাদের খুশি করার জন্য সামর্থ্য অনুযায়ী ব্যবস্থা করা হতো। আত্মীয়স্বজন বন্ধুবান্ধবদের খবর দেওয়া হতো এবং সন্ধ্যা পর্যন্ত মহিলা মেহমানেরা নানা রকমের ইফতার নিয়ে আসত। বাচ্চাদের বড় আগ্রহের সঙ্গে ইফতার করানো হতো। প্রথমে বাদাম পিষে মিছরি মিশিয়ে খাওয়ানো হতো। আত্মীয়স্বজনরা নগদ সালামি দিত। আগে তো আমি বাচ্চাদের রোজার মিছিলও দেখেছি। কিন্তু মুসলমানেরা আর্থিক অসচ্ছলতার জন্য এই আনুষ্ঠানিকতাকে এখন বর্জন করেছে।

গৃহিণীদের ব্যস্ততা

জোহরের পর থেকে গৃহিণীরা রান্নাঘরে প্রবেশ করতেন। অন্য দিনের তুলনায় রমজান মাসে রকমারি কাবাব বানানো হতো। বাজার থেকে শুধু শিককাবাব আসত। নার্গিসি কাবাব, কাসকাবাব বা বটি, শিকের মোরগকাবাব ও হান্ডির মোরগকাবাব অধিকাংশ সময় বাসায় বানানো হতো। কাবাবের জন্য রুটি-পরোটাও তৈরি হতো।

সংগীত

২০-২৫ বছর ধরে ঢাকাবাসীর মধ্যে এখন সংগীতের প্রতি আকর্ষণ বৃদ্ধি পেয়েছে। রাত ১টার সময় অধিকাংশ মহল্লা থেকে গায়কেরা বের হয়ে আসে। তাদের সঙ্গে ঢোল বা তবলা-জাতীয় কিছু থাকে না। তারা তাল ও সুরের সঙ্গে গান গাইত। গানগুলো উর্দুতে গাওয়া হতো।

ইফতারের সামাজিকতা ও জাকাত প্রদান

রমজান মাসে সচ্ছল ব্যক্তি ও উদারমনা পরিবার থেকে মহল্লার মসজিদে ইফতার সামগ্রী পাঠানো হতো। যারা প্রত্যেক দিন পাঠাতে পারত না, তারা বৃহস্পতি ও শুক্রবারে পাঠাত। বেশির ভাগ জায়গা থেকে শরবত আসত। সচ্ছল ব্যক্তিরা রমজানের প্রথম ১০ দিনের মধ্যেই জাকাতের হিসাব করে ফেলতেন। আমাদের বাল্যকালে জাকাত হিসেবে অধিকাংশ ক্ষেত্রে শাড়িই বণ্টন করা হতো। সঙ্গে সঙ্গে নগদ টাকাও দেওয়া হতো।

২০ রোজার গুরুত্ব

একশ-দেড়শ বছর আগে ঢাকার মুসলমানরা সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় ২০ রোজাকে অত্যন্ত পবিত্র বলে বিবেচনা করত। বেশিরভাগ সময় সেদিন বাচ্চাদের প্রথম রোজা রাখার ব্যবস্থা করা হতো। সেদিন মসজিদে এত বেশি ইফতারি আসত যে, খাওয়ার লোকেরা বিব্রত বোধ করত।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...