ঢাকার রাজধানী হয়ে ওঠার ইতিহাস

ইকলিম মুবারাকাবাদ ও ঢাকায় মুসলিম সমাজ

মাহমুদ আহমাদ

ইকলিম মুবারাকাবাদ ও ঢাকায় মুসলিম সমাজ
পুরান ঢাকার নাজিমুদ্দিন রোডের পুরোনো জেলখানায় খনন দৃশ্য

ঢাকার বয়স কত—এই প্রশ্নের সঠিক জবাব এককথায় দেওয়া যায় না। কেউ বলেছেন, মোগলদের হাতে গড়ে ওঠা এই শহরের বয়স সবে চার শতক পার হয়েছে। কেউ আবার বলছেন, অত কম নয়; সুলতানি আমলে সোনারগাঁও যখন স্বাধীন বাংলার রাজধানী ছিল, তখনো ঢাকায় জনবসতি ছিল। পনেরো শতকে ঢাকার নদীতীরে দুর্গও নির্মাণ করা হয়েছিল। একই সময়ে নির্মিত মসজিদে এখনো নামাজ আদায় করা হয়। আধুনিক গবেষণা ও প্রত্নতাত্ত্বিক খোদাইয়ে বুড়িগঙ্গা নদীর উত্তর তীরে আড়াই হাজার বছর আগের প্রাণের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে।

বিজ্ঞাপন

কিন্তু ঢাকাকে ‘মেট্রোপলিটন সিটি’ হিসেবে গড়ে তোলার যে যাত্রা, তার সূচনা হয়েছিল কার হাত ধরে—এই প্রশ্নের উত্তর অল্প কথায় দেওয়া যায়। ঢাকায় নিযুক্ত মোগল সুবেদার ইসলাম খান চিশতি, ইসলাম খান মাশহাদি, শাহ সুজা, মীর জুমলা, শায়েস্তা খান ও অন্যান্যরা ঢাকাকে আপন করে নিয়ে এর ইতিহাসের ঊর্ধ্বমুখী গতিপথ নির্ধারণ করে দিয়েছিলেন। এই শহরকে পূর্বভারতের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক রাজধানী হিসেবে গড়ে তুলেছিলেন। স্থানীয় রীতিনীতির সঙ্গে মুসলিম ঐতিহ্যের সংমিশ্রণে নতুন সমাজ নির্মাণ করেছিলেন।

মুসলিম-পূর্ব সময়ে ঢাকার বিকাশ

ঢাকা শহরের প্রাচীনত্ব সম্পর্কে অল্প কিছু তথ্য পাওয়া যায়। পুরান ঢাকার নাজিমুদ্দিন রোডে অবস্থিত পুরোনো জেলখানায় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক সুফি মোস্তাফিজুর রহমানের নেতৃত্বে প্রত্নখনন করা হয়। এতে বেশ কিছু চমকপ্রদ তথ্য বেরিয়ে আসে। সেখান থেকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কার হলো—রঙিন চকচকে মৃৎপাত্র। এসব মৃৎপাত্র হাজার-দু হাজার বছরের ঐতিহ্য ধারণ করে। এই পাত্রগুলো বাংলাদেশের সবচেয়ে পুরোনো প্রত্নসাইট উয়ারী-বটেশ্বর ও মহাস্থানগড়েও পাওয়া গিয়েছিল। এগুলো প্রাচীন পারস্যের সাসানীয় যুগের ইঙ্গিত বহন করে।

এখান থেকে প্রাপ্ত আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কার হলো—গোলাকার মৃৎপাত্র। এই ধরনের পাত্র এর আগে শ্রীলঙ্কা, ভারত ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অনেক প্রত্নতাত্ত্বিক স্থানেও পাওয়া গেছে। আর ঢাকায় এটি খুঁজে পাওয়া বেশ জোরালো ইঙ্গিত দেয় যে, অনেক অনেক বছর আগে থেকেই ঢাকা শহর আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও সিল্ক রুটের সঙ্গে যুক্ত ছিল।

উয়ারী-বটেশ্বর, মহাস্থানগড় ও তমলুকসহ একাধিক স্থানে একই ধরনের পাত্র পাওয়া গেছে। বেশিরভাগ প্রত্নতাত্ত্বিক ও ইতিহাসবিদেরা এক্ষেত্রে একমত যে, এই মৃৎপাত্রগুলো ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চল থেকে ২০০-১০০ খ্রিষ্টপূর্বাব্দে আমদানি করা হয়েছিল।

নাজিমুদ্দিন রোডের জেলখানায় খনন ও গুরুত্বপূর্ণ সব আবিষ্কারের মাধ্যমে নিশ্চিতভাবে জানা যায়, ঈসা (আ.)-এর জন্মের দেড়-দুই শতক আগে ঢাকা শহর বিশ্ববাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র ছিল।

পুরোনো জেলখানায় খননে পাওয়া মাটির পাত্রের টুকরা
পুরোনো জেলখানায় খননে পাওয়া মাটির পাত্রের টুকরা

ইকলিম মুবারাকাবাদ ও ঢাকায় মুসলিম সমাজ

১৩১৯ বঙ্গাব্দে লিখিত ‘ঢাকার ইতিহাস’ গ্রন্থে যতীন্দ্রমোহন রায় ঢাকা জেলার ভৌগোলিক সীমারেখা নির্ধারণ করে বলেছেন, ‘ঢাকা জেলা সাধারণত তিনটি প্রাকৃতিক বিভাগে বিভক্ত। ধলেশ্বরী ও বুড়িগঙ্গা নদী উত্তর-পশ্চিম হইতে দক্ষিণ-পূর্ব দিকে প্রবাহিত হইয়া এই জেলাকে দুই ভাগে বিভক্ত করিয়াছে। জেলার উত্তরাংশ পুনরায় লাক্ষ্যা নদী দ্বারা পশ্চিম এবং পূর্ব এই দুই ভাগে বিভক্ত হইয়াছে। মেঘনাদ ও লাক্ষ্যা নদ নদীর মধ্যবর্তী স্থান পূর্ব ঢাকা; লাক্ষ্যা ও ধলেশ্বরী নদীর মধ্যবর্তী স্থান পশ্চিম ঢাকা; এবং ধলেশ্বরী ও পদ্মা নদীর মধ্যবর্তী স্থান দক্ষিণ ঢাকা বলিয়া চিহ্নিত করা যাইতে পারে।’ (ঢাকার ইতিহাস, খণ্ড: ১, পৃষ্ঠা: ২)

যতীন্দ্রমোহন রায়ের বক্তব্য বিশ্লেষণ ও নদীর অবস্থান চিহ্নিত করে বোঝা যায়, তিনি লক্ষ্যা ও ধলেশ্বরী নদীর মধ্যবর্তী যে স্থানকে পশ্চিম ঢাকা বলেছেন, সেটাই আধুনিক ঢাকা শহর। একেএম শাহনাওয়াজও কাছাকাছি মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘ঢাকা নগরীকে পশ্চিমে বুড়িগঙ্গা ও পূর্বে শীতলক্ষ্যা নদীর মধ্যবর্তী ভূখণ্ড হিসাবে চিহ্নিত করা যায়।’ (সাম্প্রতিক প্রত্ন-গবেষণায় বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য পুনর্গঠনের প্রস্তাবনা, পৃষ্ঠা: ৪০)

বখতিয়ার খলজির বাংলা অধিকার এবং তার পূর্ববর্তী যুগে ইতিহাসের পাতায় ঢাকা শহরের উল্লেখ না থাকলেও বৃহত্তর ঢাকা জেলার প্রধান ও সমৃদ্ধ দুটি নগরের আলোচনা পাওয়া যায়। একটি সেন রাজাদের রাজধানী বিক্রমপুর, অন্যটি স্বাধীন বাংলা সালতানাতের প্রধান শাসনকেন্দ্র সোনারগাঁও।

বখতিয়ার খলজীর নদিয়া বিজয়ের পূর্বে সোনারগাঁও ছিল সেন রাজাদের অধিকৃত অঞ্চল। নদিয়া পতনের পর লক্ষ্মণ সেন পূর্ববঙ্গে চলে আসেন এবং বিক্রমপুরের শাসনভার গ্রহণ করেন। সোনারগাঁও তখন বিক্রমপুরের একটি গুরুত্বপূর্ণ শহর। ‘তবকাতে নাসিরী’তে সোনারগাঁওয়ের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। মুসলিম শাসন প্রতিষ্ঠার পর এক শতাব্দী পর্যন্ত সোনারগাঁও থেকে কোনো মুদ্রা জারির প্রমাণ নেই। মুহাম্মদ বিন তুঘলকের (১৩২৫-১৩৫১ খ্রি.) রাজত্বকালে সোনারগাঁও সর্বপ্রথম মুসলিম-শাসনকেন্দ্রে পরিণত হয়। (Mint Towns of Medieval Bengal, M. Mir Jahan, পৃষ্ঠা: ২২৪-২২৯)

মোগল-পূর্ব যুগে সালতানাতে বাংলায় ঢাকার রাজনৈতিক গুরুত্ব তেমন লক্ষ করা যায় না। তবে সামাজিক-সাংস্কৃতিক ইতিহাস অনুসন্ধানে ‘ঢাকার শহর হয়ে ওঠা’র ইঙ্গিত পাওয়া যায়।

সুলতান নাসিরুদ্দিন মাহমুদ শাহের সময় খোদাই করা একটি শিলালিপি থেকে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যায়, ঢাকা তখন ‘ইকলিম মুবারকাবাদে’র অন্তর্গত ছিল। (Corpus of the Arabic and Persian Inscription of Bengal, Abdul Karim, পৃষ্ঠা: ১৩৫-১৩৬)। স্বাধীন বাংলা সালতানাতের প্রতিষ্ঠাতা ফখরুদ্দিন মুবারক শাহের সময় থেকে ইকলিম মুবারকাবাদ নামটি ব্যবহৃত হয়ে আসছে। তার নাম অনুসারেই এই ইকলিমের নামকরণ করা হয়েছিল। পূর্ব বাংলার একটি বড় পরগনা ছিল মুবারকাবাদ। (Bibliography of the Muslim Inscriptions of Bengal, Ahmad Hasan Dani, পৃষ্ঠা: ১১০)। স্বাধীন বাংলা সালতানাতের শিলালিপিতে দুটো ইকলিমের নাম পাওয়া যায়। একটি ইকলিম মুয়াজ্জমাবাদ, যা বর্তমান সোনারগাঁওয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। অন্যটি ইকলিম মুবারকাবাদ, যার অন্তর্ভুক্ত ছিল বর্তমান ঢাকা শহর। (Corpus of the Arabic and Persian Inscription of Bengal, Abdul Karim, পৃষ্ঠা: ১৩৬)

ইকলিম মুয়াজ্জমাবাদ দক্ষিণ-পশ্চিমে সোনারগাঁও থেকে শুরু করে পূর্ব ও উত্তর-পূর্বে সিলেট পর্যন্ত প্রলম্বিত ছিল। ইকলিম মুয়াজ্জমাবাদের অন্তর্গত সোনারগাঁয়ের অবস্থান ছিল ঢাকার কয়েক মাইল পূর্বে। আর স্টেপলটনের বক্তব্য অনুযায়ী বৃহত্তর বিক্রমপুর ইকলিম মুবারকাবাদের অঙ্গীভূত ছিল। (Corpus of the Arabic and Persian Inscription of Bengal, Abdul Karim, পৃষ্ঠা: ১৩৬)। তাই এই অনুমান করা অসংগত হবে না যে, সুলতানি যুগের শুরু থেকেই ইকলিম মুবারকাবাদের রাজধানী ঘেষা সীমান্ত অঞ্চল হিসেবে বর্তমান ঢাকার একাংশে মুসলিম সমাজ বিকাশের একটি অনুকূল অবস্থা সৃষ্টি হয়েছিল। (সাম্প্রতিক প্রত্ন-গবেষণায় বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য পুনর্গঠনের প্রস্তাবনা, একেএম শাহনেওয়াজ, পৃষ্ঠা: ৪১)

সুলতানি আমলে ঢাকায় মুসলিম সমাজের বিকাশ সম্পর্কে ধারণা পেতে এখানে আমরা দুটি শিলালিপি নিয়ে আলোচনা করব। প্রথম শিলালিপিটি ঢাকার নারিন্দায় অবস্থিত বিবি বখত বিনোত মসজিদের গায়ে এখনো সাঁটা রয়েছে। দ্বিতীয় শিলালিপিটি পাওয়া গিয়েছে বর্তমান কেন্দ্রীয় কারাগারের কিছুটা পশ্চিমে ‘গিরিদিকিল্লা’ নামের মহল্লায় নাসওয়ালাগলি মসজিদের সামনের একটি তোরণের গায়ে। মসজিদ বা তোরণের অস্তিত্ব এখন আর নেই। (Inscriptions of Bengal, খণ্ড: ২, পৃষ্ঠা: ৬২)

বিবি বখত বিনোত মসজিদের শিলালিপির সূত্রে জানা যায়, মসজিদটি ৮৬১ হিজরিতে (১৪৫৬-৫৭ খ্রিষ্টাব্দ) নির্মাণ করা হয়েছিল। সময়ের হিসাবে তখন বাংলার শাসক ছিলেন সুলতান নাসিরুদ্দিন মাহমুদ শাহ। এই শিলালিপির বক্তব্য খুবই সীমিত। লিপিবিন্যাসে বোঝা যায়, ব্যক্তিগত উদ্যোগে মসজিদটি নির্মিত হয়েছিল। ইতিহাস সাক্ষ্য দেয় যে, বিবি বখত বিনোতের পিতার নাম ছিল আরকান আলী। তিনি ছিলেন একজন সওদাগর। তিনি বাণিজ্যের জন্য ঢাকায় আসেন এবং এখানে বসবাস করতে শুরু করেন। নামাজ পড়ার সুবিধার্থে মেয়ের নামে তিনিই মসজিদটি নির্মাণ করেছিলেন। মসজিদের পাশেই আরকান আলী ও বিবি বখত বিনোতের কবর রয়েছে।

এই শিলালিপিতে নির্মাতার নাম ফারসিতে লেখা হয়েছে। নিজেকে তিনি বিশেষিত করেছেন ‘মোসাম্মাৎ বখত বিনত, দুখতারে মারাহমাত গরিব’ বলে। শামসউদ্দিন আহমদ আলোচ্য শিলালিপিটি বিশ্লেষণ করেছেন। শিলালিপিটির বস্তুনিষ্ঠতা নিয়ে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন। তার মতে, এ যুগে মুসলিম সুলতান ও কর্মকর্তারা সাধারণত আরবি ভাষায়, কোনো কোনো ক্ষেত্রে আরবির সঙ্গে ফারসি শব্দের মিশেলে শিলালিপি উৎকীর্ণ করতেন। কিন্তু নারিন্দার এই শিলালিপির ভাষা ফারসি। আর তুলনামূলকভাবে লিপিগুলো অদক্ষ হাতে খোদিত। (Inscriptions of Bengal, খণ্ড: ২, পৃষ্ঠা: ৫৪)। আমাদের মনে হয়, এই যুক্তি দ্বারাই বখত বিনতের ঐতিহাসিকতা সম্বন্ধে নিশ্চিত হওয়া যায়।

প্রথমত, শিলালিপিতে সমকালীন প্রথা অনুযায়ী, সুলতান বা কর্মকর্তার নাম না থাকায় মসজিদটি যে ব্যক্তি-উদ্যোগে নির্মিত হয়েছে, তা নিশ্চিত হওয়া যায়।

দ্বিতীয়ত, সরকারি রীতিতে আরবি শব্দ ব্যবহার না করে লেখার মাধ্যম হিসেবে এ সময়ের সাধারণ মুসলমানদের মুখের ভাষা ফারসিকেই ব্যবহার করা হয়েছে। এর দ্বারা সে কালে ঢাকায় ফারসি ভাষাভাষী মুসলিম সমাজের অস্তিত্বের প্রমাণ মেলে।

তৃতীয়ত, ব্যক্তিগত উদ্যোগে মসজিদ নির্মিত হয়েছিল বলেই সরকারি দক্ষ লিপিকর দ্বারা শিলালিপি খোদিত না হওয়ায় তাতে অদক্ষতার ছাপ দৃশ্যমান হয়েছে। এসব যুক্তিও সে সময়ে ঢাকায় মুসলিম সমাজের অস্তিত্বের সপক্ষে প্রমাণ বহন করে।

নাসওয়ালাগলির শিলালিপি উৎকীর্ণের সময়কাল জুন ১৪৫৯ খ্রিষ্টাব্দ। এই শিলালিপিটিও সুলতান নাসিরুদ্দিন মাহমুদ শাহের সময় উৎকীর্ণ। মসজিদটি সরকারি উদ্যোগে নির্মিত হওয়ায় সে সময়ের সুলতানের নাম শিলালিপিতে উৎকীর্ণ করা হয়েছিদল। নির্মাতা হিসেবে খাজা জাহানের নাম লেখা রয়েছে। আর নির্মাণ অঞ্চল হিসেবে লেখা হয়েছে ইকলিম মুবারকাবাদ। (সাম্প্রতিক প্রত্ন-গবেষণায় বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য পুনর্গঠনের প্রস্তাবনা, একেএম শাহনেওয়াজ, পৃষ্ঠা: ৪৩)

পূর্ব-পশ্চিমে প্রায় সরল একটি রেখায় দুই থেকে আড়াই কিলোমিটারের ব্যবধানে মসজিদ দুটোর অবস্থান। এই ইকলিমের এক প্রান্তের সীমানা পশ্চিম ও দক্ষিণ-পশ্চিমে ঢাকার শেষ পর্যন্ত প্রলম্বিত ছিল। এ থেকে সহজেই অনুমান করা যায়, মসজিদ দুটি ইকলিম মুবারকাবাদের অধিভুক্ত অঞ্চলের ভেতর ছিল। শিলালিপি দুটি দ্বারা বোঝা যায়, সালতানাতে বাংলার রাজধানীর খুব কাছে অবস্থিত ঢাকায় মুসলিম সমাজের বিকাশ ঘটছিল। (Origin and Development of Mughal Dhaka, Abdul Karim, পৃষ্ঠা: ৪০, নোট: ১)

এ পর্যন্ত সুলতানি যুগের প্রতিনিধিত্বকারী যেসব শিলালিপি পাওয়া গেছে, তার সিংহভাগেই মসজিদ নির্মাণের কথা উল্লিখিত হয়েছে। এতে লক্ষ করা যায়, সময়ের বিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে মসজিদ নির্মাণের স্থান ও সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। মুসলমান জনবসতির সঙ্গে মসজিদ স্থাপনের সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ। তাই মসজিদের সংখ্যা বৃদ্ধি মুসলমান সমাজের বিস্তৃতিকেই নির্দেশ করছে। মসজিদে সংস্থাপিত অনেক শিলালিপির ভাষ্যে সমকালীন সমাজচিত্র প্রচ্ছন্নভাবে প্রতিফলিত হয়। আর ব্যবসায়ী আরকান আলির এখানে আগমন ও স্থায়ীভাবে বসবাস এটাই প্রমাণ করে যে, ঢাকায় মুসলিম সমাজ তখন অনেকটাই বিকশিত ছিল এবং বাণিজ্যকেন্দ্র হিসেবেও নদীতীরবর্তী এই অঞ্চলের খ্যাতি ছিল।

পুরো লেখা পড়ুন আমার দেশ অনলাইন সাহিত্য সাময়িকী বিভাগে মুসলিম বিশ্বের ইতিহাস অংশে

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ

এলাকার খবর
Loading...