ধর্মদ্রোহীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ সমাপ্ত হওয়ার পর খলিফা আবু বকর (রা.) খিলাফত রাষ্ট্রের সীমান্তবর্তী অঞ্চলগুলোয় অভিযান পরিচালনা এবং রাষ্ট্রের পরিসর সম্প্রসারণের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। এ উদ্দেশ্যে তিনি দুটি ফ্রন্ট—ইরাক ও বৃহত্তর শাম অভিমুখে সৈন্য পাঠানোর পরিকল্পনা গ্রহণ করেন। অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি তৎকালীন বিশ্বের দুই পরাশক্তিÑরোম সাম্রাজ্য ও পারস্য সাম্রাজ্যের বিরুদ্ধে সংগ্রাম শুরু করেন।
ইরাক ফ্রন্টে মুসলিম বাহিনীর প্রধান সেনাপতি ছিলেন আল্লাহর তরবারি খালিদ ইবনে ওয়ালিদ (রা.)। তিনি ছিলেন অত্যন্ত কুশলী, নির্ভীক এবং জনবান্ধব একজন সেনানায়ক। ইরাকে অভিযানের ক্ষেত্রে হীরা দখল করা তার প্রাথমিক লক্ষ্য ছিল; তবে এর পাশাপাশি পারসিকদের সঙ্গে সংঘটিত বিভিন্ন যুদ্ধে বিজয় অর্জন করাও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ ছিল। ইরাক ফ্রন্টে পারসিকদের বিরুদ্ধে মুসলিম বাহিনী যেসব যুদ্ধ লড়েছিল, তার মধ্যে ওয়ালাজার যুদ্ধ অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ যুদ্ধের মধ্যে গণ্য করা হয়।
ওয়ালাজা ছিল প্রাচীন মেসোপটেমিয়ার অন্তর্গত একটি বিস্তৃত সমভূমি, যার অবস্থান বর্তমান ইরাকের ভূখণ্ডে। এই সমতল প্রান্তরেই সংঘটিত হয়েছিল ইতিহাসখ্যাত ওয়ালাজার যুদ্ধ। যুদ্ধটি অনেকটাই অসম ছিল; শক্তি ও সংখ্যার বিচারে পারসিক বাহিনী মুসলিমদের তুলনায় অনেক বেশি ক্ষমতাধর ছিল। পারসিক সেনাপতি আনদারজাগার বিপুল বাহিনী—যার সংখ্যা লক্ষাধিক বলে উল্লেখ করা হয়—যুদ্ধক্ষেত্রে উপস্থিত হয়েছিল। অন্যদিকে মুসলিম বাহিনীর সংখ্যা ছিল ২০ হাজারেরও কম। তবু প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও আল্লাহর অনুগ্রহ, দৃঢ় ঈমান এবং সেনাপতি খালিদ ইবনে ওয়ালিদের অসাধারণ কৌশল ও নেতৃত্বের ফলে শেষ পর্যন্ত মুসলিম বাহিনী বিজয় অর্জন করে।
যুদ্ধ শেষে খালিদ (রা.) আরব দেশে বেশি সময় না থেকে এসব দেশে বেশি অবস্থান করা এবং ইসলামের বিজয়াভিযানকে গতিশীল করার বিষয়ে সৈনিকদের উৎসাহিত করেন। তিনি বলেন, ‘এসব দেশে যে বিপুল খাদ্যসম্ভার আছে, তা কি আপনারা দেখছেন না? আল্লাহর কসম! যদি আল্লাহর পথে জিহাদ করা এবং মানুষকে ইসলামের দিকে আহ্বান করা আমাদের ওপর আবশ্যক দায়িত্ব না হতো এবং যদি আমাদের লক্ষ্য শুধু জীবিকা ও দুনিয়াবি স্বাচ্ছন্দ্য অর্জনেই সীমাবদ্ধ থাকত, তবে নিঃসন্দেহে এই উর্বর ও সমৃদ্ধ জনপদের জন্য সংগ্রাম করাই হতো বুদ্ধিমানের কাজ—যাতে আমরা এর প্রাচুর্য ও সম্পদের অধিকতর অধিকারী হতে পারি। আর যারা আপনাদের এই পথ থেকে মুখ ফিরিয়ে অলসতা বেছে নেত, ক্ষুধা ও অভাবের কষ্টের দায় তাদের ওপরই বর্তাত।’
এরপর সেনাপতি খালিদ (রা.) যুদ্ধলব্ধ সম্পত্তি সৈনিকদের মধ্যে বণ্টন করে দেন এবং নির্দিষ্ট পরিমাণে সম্পদ খলিফার কাছে মদিনায় পাঠিয়ে দেন।
(আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া, খণ্ড : ৭, পৃষ্ঠা : ৬৭)
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

