মাহে রমজানে হওয়ায় মাগরিবের আজান পড়তেই অমর একুশে বইমেলার ব্যস্ততা যেন এক নতুন আবহে ঢুকে পড়ে। সারা দিন বইয়ের স্টলে ঘুরে বেড়ানো পাঠক, লেখক, প্রকাশক আর বিক্রয়কর্মীরা তখন বইয়ের মাঝেই বসে পড়েন ইফতারে। কেউ লেকের ধারে, কেউ ঘাসের ওপর, কেউ আবার নিজের স্টলের ভেতর—সব মিলিয়ে বই আর মানুষের মিলনে তৈরি হয় এক অনন্য ইফতারের পরিবেশ।
গতকাল বুধবার সরেজমিনে মেলা প্রাঙ্গণে ঘুরে দেখা যায়, দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা দর্শনার্থীরা মেলা প্রাঙ্গণেই ইফতার করছেন। কেউ সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের স্বাধীনতা স্তম্ভ ঘিরে থাকা লেকের ধারে, কেউ ফুড কর্নারে, আবার কেউ বন্ধু-পরিজন নিয়ে ঘাসের ওপর গোল হয়ে বসে ইফতার করছেন। কোথাও বইয়ের প্যাকেট পাশে রেখেই চলছে ইফতার, কোথাও আবার নতুন কেনা বই নিয়েই গল্পের আড্ডা।
উত্তরা থেকে আসা রাইয়ান আবরার শ্রেষ্ঠ, জান্নাতুন নেসা, ইসরাত তাজমেরি তিথি ও নূর আলম প্রধান স্বাধীনতা স্তম্ভের পাশের লেকের ধারে বসেই ইফতার করেন। শ্রেষ্ঠ বলেন, বইমেলায় অনেকবার এসেছি, কিন্তু এবারই প্রথম এখানে বসে ইফতার করলাম। বন্ধুদের সঙ্গে বইয়ের মাঝেই ইফতার—ভালো লাগছে। তারা এদিন কিনেছেন অবচেতন মনের কথা, আমাদের চিঠিযুগ, ইমতিয়াজ শামিমের উপন্যাস সমগ্র, নীলকণ্ঠসহ বেশ কয়েকটি বই।
আব্দুল্লাহপুর থেকে আসা শাহনাজ পারভীন স্বামী ইমতিয়াজ আহমেদ ও সন্তান ইকরা আহমেদকে নিয়ে লেকের পাশে বসেই ইফতার করেন। শাহনাজ বলেন, চারপাশে বইপ্রেমী মানুষের ভিড়, হাতে নতুন বই—সব মিলিয়ে সন্ধ্যাটা উৎসবের মতো লাগছে। তারা কিনেছেন সুলতানার স্বপ্ন, আজ তার মন খারাপ, আমারে ভুইলা যাইয়েন না ও আমি তার নিদারুণ অবহেলা। আর ছোট্ট ইকেরার জন্য নিয়েছেন জ্ঞান বাক্স।
মেলার ভেতরে অনেক প্রকাশক ও বিক্রয়কর্মীকেও দেখা গেছে নিজ নিজ স্টলে বসেই ইফতার করতে। সত্যয়ন প্রকাশনের বিক্রয়কর্মী আতিকুর রহমান আমার দেশকে বলেন, বই বিক্রি খুব একটা ভালো না হলেও সহকর্মীদের সঙ্গে ইফতার করতে ভালো লাগছে।
এবিসি চিলড্রেন প্রকাশনীর প্রকাশক ইব্রাহীম হাসানও স্টলের কর্মীদের সঙ্গে ইফতার করেছেন। তিনি বলেন, আমি চেষ্টা করি মেলা প্রাঙ্গণেই ইফতার করতে। কখনো পাঠক, কখনো লেখকদের সঙ্গে বসে ইফতার করি। এটা আমার কাছে দারুণ অভিজ্ঞতা।
শীলা প্রকাশনীর প্রকাশক বিএম কাউসার স্ত্রী-সন্তান ও বিক্রয়কর্মীদের নিয়ে নিজের স্টলেই ইফতার করেছেন। তিনি বলেন, প্রথমবার বইমেলায় ইফতার করার সুযোগ পেলাম। নতুন অভিজ্ঞতা। তবে ক্রেতা বেশি হলে আনন্দটা আরো বাড়ত।
মাগরিবের আজানের সঙ্গে সঙ্গে মেলার বিভিন্ন প্রান্তে যখন খেজুর মুখে তুলে নিচ্ছেন মানুষ, তখন বই নিয়েই চলছে গল্প আর আড্ডা। অমর একুশে বইমেলায় এই ইফতার যেন বইয়ের পাতার মতোই মানুষে মানুষে সম্পর্কের নতুন অধ্যায় খুলে দেয়।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


তেলের সংকটে ঈদে লঞ্চ চলাচল বিঘ্নিত হওয়ার শঙ্কা