‘যেভাবে বেড়ে উঠি’ শিরোনামে শহীদ ওসমান হাদি তার ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশ করতে শুরু করেছিলেন আত্মজীবনী সিরিজ। দুটি পর্ব আপলোড করা হয়েছিল। ভিডিও থেকে পর্ব দুটির অনুলিখন করেছেন মাহদি হাসান। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর তৃতীয় দিনের বিশেষ সংখ্যায় ছাপা হয়েছিল আত্মজীবনীর প্রথম পর্ব। পরের অংশগুলো সাহিত্য সাময়িকীতে নিয়মিত ছাপা হবে। আজ ছাপা হলো তৃতীয় পর্ব
নেসারাবাদের দিনগুলো-
নেসারাবাদে ক্লাস ফোরে সর্বপ্রথম ছাত্র সংসদ নির্বাচনের সময় আমি ইউনিটের পরিচালক (ক্লাস পরিচালক) নির্বাচিত হই সরাসরি ভোটে। প্রতি মাসে ছাত্র সংসদের সব ইউনিটের ক্লাস প্রতিনিধিদের নিয়ে ভিপি, প্রো-ভিপি, জিএস ও এজিএসদের একটি সভা হতো। সেখানে যে ক্লাস সব থেকে ভালো পারফর্ম করত, অর্থাৎ যারা ছাত্র সংসদের জন্য সবচেয়ে বেশি চাঁদা তুলতে পেরেছে এবং যাদের সাপ্তাহিক জলসা অনুষ্ঠান সবচেয়ে ভালো হয়েছে, তাদের জন্য পুরস্কারের ব্যবস্থা থাকত। আমার মনে আছে, আমিই সম্ভবত একমাত্র ছাত্র যে ক্লাস ফোর থেকে শুরু করে সবচেয়ে বেশিবার ছাত্র সংসদে ‘শ্রেষ্ঠ পরিচালক’ নির্বাচিত হয়েছি। ঠিকমতো ক্লাস থেকে টাকা তুলে দেওয়া এবং মানসম্মত অনুষ্ঠান আয়োজন করার ক্ষেত্রে আমি সবসময় সজাগ থাকতাম।
আমাদের জলসা অনুষ্ঠানের পর যেটা সবচেয়ে ইউনিক ব্যাপার ছিল—প্রতি বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠানের শেষে সব ক্লাস থেকে একটি করে মিছিল বের হতো। আমাদের ক্যাম্পাসটা অনেক বড়; আপনারা ঝালকাঠিতে গেলে দেখবেন। ক্লাস শেষে যখন মিছিল বের হতো, তখন নির্দিষ্ট কিছু ভালো ভালো স্লোগান দেওয়া হতো। এই মিছিলগুলো আবার মনিটর করা হতোÑকাদের মিছিল সবচেয়ে সুন্দর। বছরজুড়ে মাদরাসার পক্ষ থেকে ‘শ্রেষ্ঠ ক্লাস’-এর একটি পুরস্কার দেওয়া হতো।
এর মধ্যে অনেকগুলো মানদণ্ড থাকত—যেমন কোন ক্লাসের স্টুডেন্টরা শতভাগ ইউনিফর্ম মেইনটেইন করে এসেছে, কাদের জলসা ভালো হয়েছে বা কাদের মিছিল গোছানো ছিল। আমি যখন ক্লাস পরিচালক ছিলাম, তখনকার একটা কথা খুব মনে আছে। টিচাররা কখন ক্লাস অবজার্ভ করতে আসবেন, তা আমরা আগে থেকে জানতাম না; হুট করে চলে আসতেন। আমাদের ড্রেসকোড ছিল সাদা জামা, পায়জামা, টুপি ও সাদা কেডস। ১০০ জন স্টুডেন্টের মধ্যে একজনও যদি রঙিন টুপি পরে আসত, তবে মার্কস কাটা যেত। এটা যাতে কোনোদিন না হয়, সেজন্য আমি অনেকগুলো সাদা টুপি এক্সট্রা কিনে ক্লাসে রাখতাম। এমনকি ১০-১২ জোড়া সাদা কেডস কিনে আমাদের ক্লাসের বড় প্ল্যাটফর্মের নিচে রেখে দিতাম। যখনই শুনতাম টিচাররা চলে আসছেন, কেউ ভুলবশত অন্য জুতো বা টুপি পরে এলে তাড়াতাড়ি তাকে চেঞ্জ করে দিতাম।
আমার মনে আছে, আমি যে বছর যে ক্লাসে উঠতাম, ওই ক্লাসটাই শ্রেষ্ঠ ক্লাসের পুরস্কার পেত। এটা আমাদের জীবনের অন্যতম সেরা গল্প। আর একটা কথা একটু বলে রাখি—সারা বাংলাদেশে এমন কোনো জেলা নেই যেখানে আমার বন্ধু ছিল না (ইন্টার পর্যন্ত, বিশ্ববিদ্যালয়ের কথা বাদই দিলাম)। কারণ আমি যেখানে পড়েছি সেখানে পাঁচ হাজার স্টুডেন্ট ছিল। আমি আলহামদুলিল্লাহ গর্ব করে বলছি না, আল্লাহর শুকরিয়া—আমার ১০ বছরের সিনিয়র এবং ১০ বছরের জুনিয়রদের মধ্যে আমার চেয়ে বেশি সেলিব্রেটেড কোনো স্টুডেন্ট নেসারাবাদে সম্ভবত ছিল না। আমার ১০ বছরের বড় বড় ভাইয়েরাও আমাকে এক নামে চিনতেন।
আমার অনেক জুনিয়র আমাকে চিনতেন। শুধু তা-ই নয়, ওখানকার পুরো গ্রামবাসী আমাকে চিনত। যেহেতু ওখানের মানুষ পর্দা করতেন—খালাম্মারা, আন্টিরা—তারা সরাসরি না দেখলেও আমি যেহেতু সব মাহফিল এবং অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করতাম, তাই আমার কণ্ঠটা সবাই চিনতেন; সবাই বুঝতেন এটা ওসমানের কণ্ঠ। ছাত্র সংসদ যখন প্রতি মাসে হতো, তখন আমি আমার ক্লাসের রিপোর্ট নিয়ে দাঁড়াতাম এবং সবাই খুব মনোযোগ দিয়ে শুনত যে, আমাদের রিপোর্টে কী আছে। যেহেতু আমি শ্রেষ্ঠ পরিচালক নির্বাচিত হতাম, তাই আমাদের ক্লাসের রিপোর্টের প্রতি সবার আলাদা আগ্রহ থাকত।
এর মধ্যে যে গল্পটা খুব মনে পড়ে, তা হলো আমাদের মিছিল। আমরা তিন ভাই-ই আব্বার কাছ থেকে ভালো স্লোগান দেওয়ার ক্ষমতাটা পেয়েছি। যদিও আব্বার মতো অত ভারী এবং দরাজ কণ্ঠ আমরা কেউ পাইনি, তবুও আমাদের কণ্ঠ বেশ জোরালো ছিল। আমরা যখন মিছিল দিতাম, আমাদের টিচারদের জন্য যে ‘টিচার্স লাউঞ্জ’ ছিল, সেখান থেকে শিক্ষকরা বারান্দায় এসে দাঁড়াতেন আমাদের মিছিল দেখার জন্য। আমি সবসময় মিছিলের উল্টো দিকে ঘুরে স্লোগান দিতাম; আমি এত ভালো করে দিতাম যে শিক্ষকরা মুগ্ধ হয়ে আমাদের মিছিল দেখার জন্য অপেক্ষা করতেন।
একটা গল্প খুব মনে পড়ছে; তখন ক্লাস সিক্সে পড়ি। ক্লাস সেভেনের সঙ্গে আমাদের খুব হাড্ডাহাড্ডি লড়াই চলত। লড়াইটা এই জন্য যে, পুরো মাদরাসার যে কয়জন সেরা পারফর্মার ছিল, তাদের অর্ধেকের বেশি ছিল আমাদের ক্লাসে—যেমন আমি নিজে, আমার বন্ধু মাহমুদ, মিসবাহ, শফিক—আমরা সবাই এক ক্লাসেই ছিলাম। এটা ছিল ভীষণ মজার একটা ব্যাপার।
তো একদিন জলসার পরের মিছিল নিয়ে আমরা যাচ্ছিলাম। আমাদের ক্লাসে যারা একটু গায়ের জোরে বড়, তারা সেদিন ছিল না। কিন্তু সেভেনে যারা একটু শক্তিশালী, তারা সবাই ছিল। আমরা যখন তাদের মিছিল ক্রস করছিলাম, তখন তারা আমাদের মিছিলের মধ্যে ঢুকে পড়ে এবং কেউ একজন কলমের ক্যাপ খুলে পেছন থেকে আমার মাথায় জোরে আঘাত করে। আপনারা অনেকেই জানেন, মাথায় হঠাৎ মারলে অনেক সময় সঙ্গে সঙ্গে টের পাওয়া যায় না। আমি তখন মিছিল সামলাতে ব্যস্ত ছিলাম, কারণ মিছিল ভেঙে যাচ্ছিল। এরপর হুটহাট মারামারি লেগে গেল। আমি সবাইকে টেনে সামনে নিয়ে গেলাম মিছিল দিতে দিতে। আমি যেহেতু উল্টো ঘুরে মিছিল দিচ্ছিলাম, পেছন থেকে কেউ আমার অবস্থা দেখতে পাচ্ছিল না। হঠাৎ একজন অন্যদিক থেকে দৌড়ে এসে আমার পিঠে হাত দিল এবং দেখা গেল পুরো মাথা থেকে রক্ত পড়ে আমার সাদা জামার পিঠ লাল হয়ে ভিজে গেছে। আমার সামনে হাত আনার পর রক্ত দেখে বুঝলাম কী হয়েছে। এরপর যা হওয়ার তাই হলো—সবাই প্রিন্সিপাল হুজুরের কাছে গেল। পরে ক্লাস সেভেন আমার পুরো ট্রিটমেন্টের খরচ দিল এবং সব মিটে গেল।
ওরা মাঝেমধ্যে আমাদের ক্লাসের সামনের ফুলের টব ভেঙে ফেলত, যাতে আমরা ফার্স্ট না হই। আমরা তখন কান্নাকাটি করে বিচার দিতাম। কিন্তু আমাদের আটকাতে পারত না, কারণ ওদের শক্তি বেশি থাকলেও পারফরম্যান্সের দিক থেকে আমাদের ক্লাস সবসময় এগিয়ে ছিল। এভাবেই এক সময় দাখিল পরীক্ষা দিয়ে ফেললাম।
নেসারাবাদের গল্পের ফাঁকে আরেকটি অসাধারণ গল্প মনে পড়ল। ক্লাস এইটে যখন পড়ি, তখন মাথায় ঘুরপাক খেল যে একটা মাসিক পত্রিকা বের করব। এর আগে আমরা ক্যাম্পাসে প্রচুর ‘দেয়ালিকা’ বের করতাম এবং অনেক সুন্দর করে দেয়ালিকার মোড়ক উন্মোচন করতাম। আমি যেহেতু পুরো মাদরাসায় পরিচিত ছিলাম এবং প্রিন্সিপাল হুজুর থেকে শুরু করে ডিসি, এসপি বা বিভাগীয় কমিশনাররাও আমাকে প্রোগ্রামের কারণে চিনতেন, তাই সাহস করে পত্রিকা বের করার উদ্যোগ নিলাম। লেখা সংগ্রহ করলাম এবং ক্লাস এইটে বসেই প্রথম একটি প্রিন্টেড মাসিক পত্রিকা বের করলাম—নাম ছিল ‘নবজাগরণ’। আমি সেটির সম্পাদক ছিলাম। আমি তিনটি সংখ্যা বের করতে পেরেছিলাম, যার একটি সংখ্যা এখনো আমার কাছে আছে। সেই ‘নবজাগরণ’-এ কবিতা, গল্প এসব থাকত। দাখিল পর্যন্ত আমাদের এই জার্নিটা ছিল অসাধারণ। এককথায় নেসারাবাদে আমরা এক দুর্দান্ত জীবন কাটিয়েছি।
এর সঙ্গে সেরা পড়াশোনাটা নেসারাবাদে আমি প্রথম দেখলাম যে, আসরের পরে আমাদের কোনোদিন ইংলিশ বিভাগ, আবার কোনোদিন আরবি বিভাগের মাঠে বসে প্রোগ্রাম হতো। আরবি বিভাগের প্রোগ্রামের শেষে রাস্তায় আরবিতে মিছিল হতো, আবার ইংরেজির দিন ইংরেজিতে মিছিল হতো। মানে এরকম চমৎকার অবস্থা ছিল সেখানে।
সংস্কৃতির আঙিনায়
দ্বিতীয় গল্প হলো, নেসারাবাদে ভর্তি হওয়ার পরে... আপনারা জানেন বাংলাদেশে তখন প্রচুর সাংস্কৃতিক চর্চা হতো। সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের অধীনে ‘জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ’ অনুষ্ঠান হতো বছরে একবার অনেক বিরাট করে—একদম উপজেলা, জেলা, বিভাগ এবং সবশেষে জাতীয় পর্যায়ে। ধর্ম মন্ত্রণালয়ের অধীনে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের তরফ থেকে বছরে কয়েকটা প্রোগ্রাম হতো, আবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকেও হতো। যেহেতু আমাদের মাদরাসা ঝালকাঠি সদরে ছিল, তাই আমাদের মাদরাসা থেকে প্রচুর স্টুডেন্ট এই ইভেন্টগুলোয় অংশগ্রহণ করত।
আমি সবসময় উপস্থিত বক্তৃতা, আবৃত্তি, রচনা প্রতিযোগিতা এবং বিতর্ক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করতাম। আমাদের অন্য বন্ধুরা নজরুল সংগীত, রবীন্দ্র সংগীত, কিরাত এবং হামদ-নাতসহ অন্য ইভেন্টগুলোয় অংশ নিত। ঝালকাঠি সদরে যখন প্রতিযোগিতা হতো, স্বাভাবিকভাবেই আমাদের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করত ঝালকাঠি সরকারি হরচন্দ্র বালিকা বিদ্যালয়, সরকারি হাই স্কুলসহ নামকরা সব প্রতিষ্ঠান। এখান থেকে যারা প্রথম হতো, তারা জেলা পর্যায়ে যেত। জেলা পর্যায়ে বাকি উপজেলাগুলো থেকে আসা বিজয়ীদের সঙ্গে প্রতিযোগিতা হতো। এরপর জেলা পর্যায়ে যারা ফার্স্ট হতো, তারা বরিশাল বিভাগে আসত। বিভাগীয় পর্যায়ে যারা ফার্স্ট হতো, তারা জাতীয় পর্যায়ে ঢাকায় আসত।
আমি আমার জীবনে এভাবে উপজেলা, জেলা, বিভাগ এবং জাতীয় পর্যায়ে অনেকবার—আলহামদুলিল্লাহ—বক্তৃতা, উপস্থিত বক্তৃতা, কবিতা, বিতর্ক ও রচনা প্রতিযোগিতায় জাতীয় পর্যায় পর্যন্ত এসেছি এবং প্রথম স্থান অধিকার করেছি। আমি সর্বপ্রথম জাতীয় পর্যায়ে বক্তৃতায় প্রথম হই যখন সম্ভবত ক্লাস এইটে পড়ি। মনে আছে, এটার পুরস্কার নিয়েছিলাম আগারগাঁওয়ে এলজিআরডি মন্ত্রণালয়ের একটি বিরাট অডিটোরিয়ামে। এরপরে আরো অনেকবার জাতীয় পর্যায়ে এসেছি।
তবে আমার উন্নতির পেছনে একটি বড় বিষয় কাজ করেছে—নেসারাবাদে আমরা একটা নির্দিষ্ট গণ্ডির মধ্যে থাকতাম, যেখানে সবাই ছিল মাদরাসার ছাত্র এবং কোনো সহশিক্ষা (কো-এডুকেশন) ছিল না। কিন্তু আমি যখন ঝালকাঠি সদর পর্যায়ে প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে আসতাম, তখন আমাকে সদর গার্লস স্কুলের মেয়েদের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে হতো। হয়তো আমি কখনো ফার্স্ট হচ্ছি, সদর গার্লসের কেউ সেকেন্ড হচ্ছে; অথবা সে ফার্স্ট হচ্ছে, আমি সেকেন্ড হচ্ছি। আবার সরকারি স্কুলের কেউ আসছে। এভাবেই আমাদের গ্রুমিংটা হয়েছে। আমার মনে আছে, ঝালকাঠি জেলা পর্যায়ে যতগুলো পুরস্কার থাকত, তার তিন ভাগের দুই ভাগ পুরস্কার আমাদের মাদরাসা থেকেই নিয়ে আসতাম। আমি নিজে অনেকগুলো নিতাম, আমাদের অন্য বন্ধুরা সংগীতে নিত—সব মিলিয়ে দেখা যেত জেলা পর্যায়ের অধিকাংশ পুরস্কার একটা প্রতিষ্ঠান থেকেই আমরা নিয়ে যেতাম। যখন বিভাগীয় পর্যায়ে আসতাম, তখনো প্রচুর পুরস্কার আমাদের প্রতিষ্ঠানের দখলে থাকত।
এরপর জাতীয় পর্যায়ের কথা—এমনকি আমরা যখন জাতীয় পর্যায়ে আসতাম, তখন আমার সঙ্গে আমাদের কোনো বন্ধু, আবার সিনিয়রদের মধ্যে কোনো বড় ভাই—কেউ হয়তো রচনায়, কেউবা সংগীতে অন্য শাখা থেকে আসতেন। এভাবে আমরা প্রচুর জাতীয় পর্যায়ে এসেছি। আমার আজও মনে আছে, আমরা যখন উপজেলা পর্যায়ের প্রোগ্রামে যেতাম, আমাদের সরকারি তরফে ২০ টাকা ভাড়া দেওয়া হতো। জেলা পর্যায়ের প্রোগ্রামে দেওয়া হতো ৮০ টাকা। এরপর বিভাগীয় পর্যায়ে সম্ভবত ২০০ টাকা দেওয়া হতো—যাতায়াত খরচ হিসেবে, পুরস্কার বাদে। আর জাতীয় পর্যায়ে যখন আসি, তখন মনে হয় সর্বপ্রথম ৮০০ টাকা করে ভাড়া দেওয়া হতো।
যাই হোক, নেসারাবাদের এই পরিবেশ এবং এর বাইরেও প্রচুর প্রতিযোগিতায়—যেমন বিতর্ক, কবিতা ইত্যাদিতে সারা দিন জেলা বা বিভাগীয় পর্যায়ে অংশগ্রহণ করার ফলে জাতীয় অনেক মানুষের সঙ্গে আমার পরিচয় ঘটে। বিশেষ করে যারা বিচারক ছিলেন—কোনো ম্যাডাম হয়তো আবৃত্তির বিচারক ছিলেন বা বক্তৃতার বিচারক ছিলেন—প্রোগ্রাম শেষে তারা আমাকে ডেকে বলতেন, ‘আমার নাম্বার নাও, আমার সঙ্গে যোগাযোগ কোরো।’ আমার মনে আছে, বিভাগীয় পর্যায়ে একবার ফার্স্ট হওয়ার পর আমার ছোট আপু আমার সঙ্গে ছিল। আমাকে না পেয়ে একজন বিচারক আমার বোনকে পেয়ে বলেছিলেন, ‘ওকে খুব ভালো গ্রুমিং করতে হবে, ও ইনশাআল্লাহ বড় হলে ভালো করবে।’ বিচারকরা পরে ডেকে আদর করতেন, আবার তাদের কাছে গিয়ে অনেক কিছু শিখতামও।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

