নারায়ণগঞ্জ-২ আসনের সরকার দলীয় এমপি মো. নজরুল ইসলাম আজাদ বলেছেন, জুলাই যুদ্ধ নিয়ে অনেক কথা হচ্ছে। আমিও একজন জুলাই যোদ্ধা। এই জুলাই আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে রাজপথে ছিলাম। কিন্তু জুলাই আন্দোলন ছিল একটি গণতান্ত্রিক আন্দোলনের অংশ, যে আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন জননেতা তারেক রহমান। এটি ১৭ বছরের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের শেষ পর্ব। কিন্তু আমরা সেটি স্বীকার করছি না। খেলার প্রথম রাউন্ড, দ্বিতীয় রাউন্ড, কোয়ার্টার ফাইনাল, সেমিফাইনাল না খেলে সরাসরি ফাইনাল খেলে জিতে গেলাম, বিষয়টি কিন্তু তা নয়। আমাদের মনে রাখতে হবে, জুলাই যুদ্ধ ১৭ বছরের গণতান্ত্রিক আন্দোলনেরই একটি অংশ, যার নেতৃত্ব দিয়েছেন তারেক রহমান।
রোববার জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
চাঁদপুর-৩ আসনের এমপি শেখ ফরিদ আহম্মেদ বলেন, ঘোষিত নির্বাচনি ইশতেহার অনুযায়ী ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ডসহ জনবান্ধব কর্মসূচিগুলোর উদ্যোগ গ্রহণ করায় কেন বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদের গাত্রদাহ হয়, তা আমার বোধগম্য নয়। যদিও গাত্রদহ শব্দটি এক্সপাঞ্জ করেন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল।
নওগাঁ-১ আসনের সদস্য মো. মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, সাপাহার সুস্বাদু আমের জন্য বিখ্যাত। সাপাহারকে এখন আমের রাজধানী বলা হয়। আপনি এবং সকল সদস্যবৃন্দ এই সুস্বাদু আমের স্বাদ গ্রহণ করতে পারেন। আমের স্বাদ এমন যে, একবার খেলে আবার খেতে চাইবেন। আমচাষীদের উন্নতির জন্য আম সংরক্ষণের হিমাগার, গবেষণাগার ও আমভিত্তিক শিল্পকারখানা স্থাপনের দাবি জানাচ্ছি।
সুনামগঞ্জ-৫ আসনের বিএনপি দলীয় কলিম উদ্দিন আহমদ বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে, ইতোমধ্যেই ফ্যামিলি কার্ডের ব্যবস্থা করে সারা বাংলাদেশের মহিলাদের দেওয়া শুরু করেছে। পর্যায়ক্রমে তা সারা বাংলাদেশের মানুষের কাছে পৌঁছে যাবে। লক্ষ্য করবেন, আমাদের অসহায় মহিলারা ফ্যামিলি কার্ডের প্রতি অত্যন্ত আকৃষ্ট এবং তারা এ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হতে চান। আমি মনে করিয়ে দিতে চাই, ফ্যামিলি কার্ড নিয়ে যারা আগে বিদ্রুপ করেছিলেন, তারা এখন নিশ্চয়ই লুকিয়ে লুকিয়ে লজ্জা পান।
রাষ্ট্রপতি প্রয়াত জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতা ঘোষণার কথা উল্লেখ করে নোয়াখালী ৫ আসনের সংসদ সদস্য ফখরুল ইসলাম বলেন, জিয়াউর রহমান যিনি স্বাধীনতার ঘোষণা করেছিলেন। যিনি ঘোষণা না করলে এবং সরাসরি মুক্তিযুদ্ধে অংশ না নিলে বাংলাদেশ হতো না, আমরা স্বাধীন হতাম না।
নির্বাচনি এলাকার হাসপাতালের চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, সদর অঞ্চলের দুইটি ইউনিয়নে একটি হাসপাতাল আছে, নাম আধুনিক হাসপাতাল। কিন্তু সেখানে রোগী নিয়ে গিয়ে দেখি, ইমার্জেন্সিতে ইসিজি মেশিন নেই, ডায়াবেটিস চেক করার মেশিন নেই। আধুনিক হাসপাতাল না লিখে, ‘আধুনিক গরু’ লিখে দিলে ভালো হতো। এমন অবস্থা বিরাজ করছে। সেখানে মানুষের যাওয়ার মতো কোনো পরিবেশ নেই।
আওয়ামী লীগ আমলের শেয়ার কেলেঙ্কারির কথা উল্লেখ করে ফখরুল ইসলাম বলেন, সিন্ডিকেট ভুয়া আইপিও, ভুয়া প্লেসমেন্ট, জালিয়াতি, বিতর্কিত ফোরস ক্লোজারের মাধ্যমে শেয়ারবাজার থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা লুটে নেয়। অনেকে সবকিছু হারিয়ে আত্মহত্যা করে। আমি অর্থমন্ত্রীর মাধ্যমে সেখানে বিশেষ অভিযান চালানোর অনুরোধ করছি। ব্যাংকে মানুষের আস্থা ফেরাতে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়ারও অনুরোধ করছি।
নির্বাচনি এলাকার হাসপাতালের চিত্র তুলে ধরে সুনামগঞ্জ-২ আসনের বিএনপি দলীয় সংসত সদস্য নাছির চৌধুরী বলেন, ডাক্তার নেই, চিকিৎসকের অভাব, নার্স নেই। মারাত্মকভাবে চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে আমাদের দেশের মানুষ, আমাদের এলাকার মানুষ। তাই বলতে হয়, ডাক্তার দিন, স্বাস্থ্যমন্ত্রী সাহেবকে বলতে হয়, দয়া করে নার্সের ব্যবস্থা করুন, অপারেশনের ব্যবস্থা করুন। এটা আমাদের মৌলিক অধিকার।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

