আগামী দুইদিনে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আরো কালবৈশাখী ঝড় ও অতি বৃষ্টির সতর্কবার্তা জারি করেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। এছাড়া অতি ভারী বৃষ্টির কারণে এসব এলাকার কোথাও কোথাও অস্থায়ীভাবে জলাবদ্ধতাসহ চট্টগ্রাম বিভাগের পাহাড়ি এলাকার কোথাও কোথাও ভূমিধস হতে পারে।
অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ এ কে এম নাজমুল হক স্বাক্ষরিত কালবৈশাখী ঝড়ের একটি সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, আজ শনিবার দুপুর একটা থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের উপর দিয়ে বিদ্যুৎ চমকানোসহ পশ্চিম বা উত্তরপশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৬০ থেকে ৮০ কিলোমিটার বেগে কালবৈশাখী ঝড় বয়ে যেতে পারে।
পৃথক সতর্কবার্তায় সংস্থাটি জানায়, দেশের অভ্যন্তরে বজ্রমেঘ তৈরি অব্যাহত থাকায় শনিবার দুপুর ১টা থেকে পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টায় ঢাকা, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ হতে পারে। এ কারণে এসব এলাকার কোথাও কোথাও অস্থায়ীভাবে জলাবদ্ধতাসহ চট্টগ্রাম বিভাগের পাহাড়ি এলাকার কোথাও কোথাও ভূমিধস হতে পারে।
এদিকে, সহকারী আবহাওয়াবিদ আফরোজা সুলতানা স্বাক্ষরিত পৃথক সতর্কবার্তায় বলা হয়, দেশের নদীবন্দর সমূহকে বারবার এক নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। তবে সমুদ্র বন্দরসমূহ থেকে সতর্কবার্তা তুলে নেওয়া হয়েছে।
হঠাৎ ঝুমবৃষ্টিতে কারওয়ানবাজারে হাঁটু পানি
আজ শনিবার ভোর থেকেই আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকলেও দিনের প্রথমার্ধে রাজধানীতে কোনো বৃষ্টি হয়নি। তবে দুপুর গড়াতেই কালো মেঘে ছেয়ে যায়। কিছুক্ষণ না যেতেই শুরু হয় ঝুম বৃষ্টি এবং মেঘাচ্ছন্ন হয়ে চারদিকে ‘সন্ধ্যা’র মতো অন্ধকার নেমে আসে। আড়াইটার দিকে শুরু হয় ঝুম বৃষ্টি; প্রায় এক ঘণ্টার বৃষ্টিতে নগরীর বিভিন্ন স্থানে পানি জমে যায়। বিকাল ৩টার দিকে কারওয়ানবাজারে হাঁটু পানি ভেঙে সাধারণ মানুষকে চলাচল করতে দেখা গেছে। এসময় বিপুল সংখ্যক পথচারীকে মেট্টোস্টেশনের নীচে আটকে থাকতে দেখা গেছে। এভাবে বৃষ্টিতে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় রাস্তায় পানি জমায় অনেকে পড়েন চরম ভোগান্তিতে। আবহাওয়া দপ্তর বলছে, শনিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত রাজধানীতে বৃষ্টি হয়েছে ২৮ মিলিমিটার।
সংস্থাটি জানিয়েছে, আগামী কয়েক দিন দেশের সব বিভাগে অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারি থেকে অতি ভারি বর্ষণ হতে পারে।
শনিবার সন্ধ্যায় পূর্বাভাসে বলা হয়, পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় রোববার সন্ধ্যা পর্যন্ত ময়মনসিংহ, ঢাকা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রংপুর, রাজশাহী ও খুলনা বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা কিংবা ঝড়ো হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ হালকা থেকে মাঝারী ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সাথে ময়মনসিংহ, ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারী ধরনের ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ হতে পারে। এদিন সারাদেশে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।
এছাড়া বর্ধিত আগামী ৫ দিনের আবহাওয়া পরিস্থিতি বর্ণনায় বৃষ্টিপাতে প্রবণতা কমে তাপমাত্রা বাড়ার কথা জানিয়েছে সংস্থাটি। তবে আগামী ৬ মে পর্যন্ত দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারি থেকে অতি ভারি বর্ষণ হতে পারে। এরপর ৭ মে থেকে প্রবণতা কমে তাপমাত্রা বাড়বে।
শনিবার সারাদেশের মধ্যে বেশি বৃষ্টিপাত হয় মৌলভী বাজারের শ্রীমঙ্গলে, ১৬২ মিলিমিটার। এদিন রংপুর বিভাগের জেলাগুলোতে ভারী বৃষ্টি হয়েছে বেশি। এদিন রাজধানীতে বৃষ্টি হয়েছে ২৮ মিলিমিটার।
আবহাওয়াবিদ ড. ওমর ফারুক আমার দেশকে বলেন, আগামী ৬ মে পর্যন্ত দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারি থেকে অতি ভারি বর্ষণ হতে পারে। এরপর ৭ মে থেকে প্রবণতা কমে তাপমাত্রা বাড়বে।
এমপি
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

