প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে নয় দফা দাবি জানিয়েছে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ। রোববার বিকেলে চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির বাবুনগর মাদরাসায় হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির আল্লামা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর সঙ্গে সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় সভায় এসব দাবি তুলে ধরা হয়।
হেফাজতে ইসলামের দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে ইসলাম ও পবিত্র কুরআনের অবমাননা রোধে আইন প্রণয়ন, কুরআন-সুন্নাহবিরোধী আইন না করা, বিভিন্ন আন্দোলনে হত্যাকাণ্ডের বিচার এবং কওমি মাদরাসার দাওরায়ে হাদিসের স্বীকৃতি কার্যকর করাসহ শিক্ষাব্যবস্থায় বিভিন্ন পরিবর্তন।
হেফাজতে ইসলামের নয় দফা দাবি হলো—
১. মহান আল্লাহ, রাসুলুল্লাহ (সা.), পবিত্র কুরআন ও ইসলাম ধর্মের অবমাননা রোধে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রেখে জাতীয় সংসদে আইন পাস করা।
২. কুরআন-সুন্নাহর সঙ্গে সাংঘর্ষিক কোনো আইন পাস না করা।
৩. ২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিত করা। একই সঙ্গে ২০২১ সালের মোদিবিরোধী আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের বিচার নিশ্চিত করে দেশে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা।
৪. দাওরায়ে হাদিসের মাস্টার্স সমমানের স্বীকৃতি কার্যকর করে কওমি মাদরাসার শিক্ষার্থীদের দেশ-বিদেশে কর্মসংস্থান ও উচ্চশিক্ষার সুযোগ উন্মুক্ত করা। বিশেষ করে ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগের সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে সরকারি মাদরাসার ডিগ্রির পাশাপাশি কওমি মাদরাসার দাওরায়ে হাদিসকে (মাস্টার্স সমমান) শিক্ষাগত যোগ্যতা হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা।
৫. প্রাথমিক থেকে উচ্চমাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত মুসলিম শিক্ষার্থীদের জন্য ইসলাম ধর্ম শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা।

৬. কাদিয়ানি সম্প্রদায়কে অমুসলিম ঘোষণা এবং হিজবুত তাওহিদকে নিষিদ্ধ করা।
৭. পার্বত্য চট্টগ্রাম নিয়ে দেশি-বিদেশি মিশনারিদের ষড়যন্ত্র ও অপতৎপরতা বন্ধ করা।
৮. আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে আলেমদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করা এবং রাষ্ট্র পুনর্গঠনে আলেম-ওলামাকে অংশীদার করা।
৯. বাংলাদেশে তাবলিগ জামাতের কার্যক্রম ও টঙ্গী বিশ্ব ইজতেমা ওলামায়ে কেরামের তত্ত্বাবধানে পরিচালনার ধারা অব্যাহত রাখা। পাশাপাশি ভারতের মাওলানা সাদ কান্ধলভীর বাংলাদেশে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখা এবং টঙ্গী ময়দানে সাদপন্থীদের ইজতেমার অনুমতি না দেওয়া।
মতবিনিময় সভায় হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের পক্ষ থেকে এসব দাবি তুলে ধরা হয়। সংগঠনটির নয় দফা দাবির মধ্যে ধর্মীয় মূল্যবোধ ও ইসলামি বিশ্বাসের সুরক্ষা, কওমি মাদরাসার শিক্ষার্থীদের স্বীকৃতি ও সুযোগ সম্প্রসারণ, বিভিন্ন আন্দোলনে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের বিচার এবং রাষ্ট্র পুনর্গঠনে আলেম-ওলামার অংশগ্রহণের বিষয়গুলো গুরুত্ব পেয়েছে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


