সারাদেশে ১১৪টি ভেন্যুতে পুলিশ সদস্যদের নির্বাচনি প্রশিক্ষণ শুরু

সারাদেশে ১১৪টি ভেন্যুতে পুলিশ সদস্যদের নির্বাচনি প্রশিক্ষণ শুরু

আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দায়িত্ব পালনের জন্য সারাদেশে ১১৪টি প্রশিক্ষণ ভেন্যুতে ৩৮ হাজার ৮৪৭ জন পুলিশ সদস্যের দুই দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ শুরু হয়েছে। বুধবার প্রথম ব্যাচে ৪ হাজার ৯৬৫ জন পুলিশ সদস্য প্রশিক্ষণে অংশ নিচ্ছেন। এর আগে নির্বাচনি প্রশিক্ষণ নেননি, এমন পুলিশ সদস্যদের এ প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।

বুধবার সকালে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের হল অব ইন্টিগ্রিটিতে হেডকোয়ার্টার্স ভেন্যুর প্রশিক্ষণ আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেন ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির। এ সময় ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বিজ্ঞাপন

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে পুলিশ সদস্যদের দায়িত্ব পেশাদারিত্বের সঙ্গে পালনের লক্ষ্যে ‘দক্ষতা ও সক্ষমতা বৃদ্ধি সংক্রান্ত প্রশিক্ষণ’ দেওয়া হচ্ছে। ইতঃপূর্বে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে ১ লাখ ৫২ হাজার ১৭৫ জন পুলিশ সদস্যকে নির্বাচনি প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। তাদের আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন উপলক্ষে এক দিনের রিফ্রেশার প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। নির্বাচনি প্রশিক্ষণ শেষে এ রিফ্রেশার প্রশিক্ষণ শুরু হবে।

এদিকে একই দিন রাজধানীর মিরপুরে পুলিশ স্টাফ কলেজ বাংলাদেশে সাইবার অপরাধ মামলা তদন্তসংক্রান্ত ট্রেনিং অব ট্রেইনার্স (টিওটি) কোর্সের উদ্বোধন করেন আইজিপি আলী হোসেন ফকির।

পুলিশ স্টাফ কলেজ বাংলাদেশের রেক্টর (অতিরিক্ত আইজি) কাজী মো. ফজলুল করিমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন সিআইডি প্রধান (অতিরিক্ত আইজি) ব্যারিস্টার মোহাম্মদ মোশাররফ হোছাইন। স্বাগত বক্তব্য দেন ডিআইজি (ট্রেনিং) মো. একরামুল হাবিব। অতিরিক্ত ডিআইজি (ট্রেনিং-২) ড. মোছা. শেহেলা পারভীন সাইবার অপরাধ তদন্ত প্রশিক্ষণ রোডম্যাপ এবং বাস্তবায়ন কৌশল উপস্থাপন করেন। এ সময় পুলিশ স্টাফ কলেজ বাংলাদেশের অনুষদ সদস্য ও রিসোর্স পার্সনরা উপস্থিত ছিলেন।

আইজিপি বলেন, বর্তমান তথ্যপ্রযুক্তির যুগে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ডিপফেক, এনক্রিপটেড যোগাযোগ ব্যবস্থা, ক্লাউড কম্পিউটিংসহ নতুন নতুন প্রযুক্তি একদিকে সম্ভাবনার নতুন দ্বার উন্মোচন করেছে, অন্যদিকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জন্য তৈরি করেছে নতুন চ্যালেঞ্জ। অপরাধীরা প্রযুক্তির অপব্যবহার করে সাইবারভিত্তিক প্রতারণা, অনলাইন আর্থিক অপরাধ, তথ্য চুরি, হ্যাকিং, অনলাইনে হয়রানি ও ডিজিটাল চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অপরাধ ঘটাচ্ছে। ক্রমবর্ধমান সাইবার অপরাধ মোকাবিলায় পুলিশিংয়ের ধরনে পরিবর্তন আনা এখন সময়ের দাবি।

সভাপতির বক্তব্যে কাজী মো. ফজলুল করিম বলেন, বাংলাদেশ পুলিশের এপেক্স ট্রেনিং ইনস্টিটিউট হিসেবে পুলিশ স্টাফ কলেজ বাংলাদেশ নানামুখী প্রশিক্ষণের মাধ্যমে পুলিশ কর্মকর্তাদের দক্ষতা ও সক্ষমতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে। এ প্রশিক্ষণ সাইবার অপরাধ মোকাবিলায় পুলিশ কর্মকর্তাদের দক্ষতা ও পেশাগত উৎকর্ষ সাধনে সহায়ক ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের ট্রেনিং শাখার উদ্যোগে পুলিশ স্টাফ কলেজ বাংলাদেশ দশ দিনের এ প্রশিক্ষণ কোর্সের আয়োজন করেছে। পর্যায়ক্রমে টিওটি কোর্সে অংশগ্রহণকারী ৩৩২ জন পুলিশ কর্মকর্তা মাঠপর্যায়ে সাইবার অপরাধ মামলা তদন্তকারীদের প্রশিক্ষণ দেবেন।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন