ক্ষমতার জন্য নয়, রাজনীতি হতে হবে জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য: মঈন খান

ক্ষমতার জন্য নয়, রাজনীতি হতে হবে জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য: মঈন খান

রাজনীতি শুধু ক্ষমতা অর্জনের জন্য নয়, বরং জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা ও মানুষের কল্যাণ নিশ্চিত করার জন্য হতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান। তিনি বলেন, তৃণমূল পর্যায়ে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা এবং জনপ্রতিনিধিদের জবাবদিহি নিশ্চিত করার মাধ্যমেই গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে হবে।

শুক্রবার রাজধানীর গুলশানে নিজের বাসভবনের অফিসকক্ষে ‘জাতীয় শিক্ষক দিবস ২০২৬’ উপলক্ষে দ্য মিলেনিয়াম ইউনিভার্সিটির শিক্ষকদের সঙ্গে এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সভায় বিভিন্ন এনজিওর প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন। এ সময় খান ফাউন্ডেশনের নতুন ওয়েবসাইটের উদ্বোধন করা হয়।

বিজ্ঞাপন

স্থানীয় সরকার মন্ত্রী বলেন, জনগণের প্রতিনিধি হতে পারা অত্যন্ত সৌভাগ্যের বিষয়। নির্বাচনে বিপুল অর্থ ব্যয় করে বা আপ্যায়নের মাধ্যমে ভোট চাওয়ার প্রবণতা পরিবর্তন করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, প্রায় ৩৫ বছর ধরে আমি একই আদর্শে রাজনীতি করার চেষ্টা করছি। মানুষের কাছে নিজের গ্রহণযোগ্যতা অর্জনকেই সবসময় গুরুত্ব দিয়েছি। নির্বাচনে জয়ী হতে অর্থ ব্যয়ের অসুস্থ প্রতিযোগিতা বন্ধ হতে হবে। জনগণের সেবা করার আদর্শ ছাড়া রাজনীতি সঠিক পথে পরিচালিত হতে পারে না।

স্থানীয় সরকারব্যবস্থাকে গণতন্ত্রের মূল ভিত্তি উল্লেখ করে মন্ত্রী আরও বলেন, তৃণমূল পর্যায়ে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে না পারলে জাতীয় পর্যায়ে তা কার্যকর করা সম্ভব নয়। স্থানয়ী সরকার প্রতিষ্ঠানের সংস্কার, সেবার মান নিশ্চিত করা এবং পাঁচটি স্তরে নির্বাচন আয়োজন তাঁর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। মানুষ যেন নির্ভয়ে নিজের পছন্দমতো ভোট দিতে পারেন, তা নিশ্চিত করা হবে।

স্থানীয় সরকার নির্বাচন নির্দলীয় ভিত্তিতে আয়োজনের পক্ষে মত দিয়ে মঈন খান বলেন, এতে স্থানীয় পর্যায়ে দলীয় বিভাজন ও হিংসা-বিদ্বেষ কমবে। নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকলেও দেশের সার্বিক উন্নয়ন ও মানুষের কল্যাণে সবাইকে দলীয় স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

সমাজ গঠনে এনজিওগুলোর ভূমিকা তুলে ধরে ড. আবদুল মঈন খান বলেন, দারিদ্র্য বিমোচন ও মানুষের জীবনমান উন্নয়নে বাংলাদেশের এনজিওগুলোর অবদান গুরুত্বপূর্ণ। স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান ও এনজিওগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়িয়ে উন্নয়ন কার্যক্রম আরও কার্যকর করার তাগিদ দেন তিনি।

অনুষ্ঠানে দ্য মিলেনিয়াম ইউনিভার্সিটির বোর্ড অব ট্রাস্টিজ ও খান ফাউন্ডেশনের চেয়ারপারসন অ্যাডভোকেট রোখসানা খন্দকার বলেন, এনজিও পরিচালনায় দাতাদের ওপর সম্পূর্ণ নির্ভরশীল না হয়ে নিজস্ব সক্ষমতা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের স্বাধীনতা বজায় রাখা প্রয়োজন। বৈদেশিক অর্থায়ন কমে যাওয়ার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় স্থানীয় সম্পদের ব্যবহার ও সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর তিনি জোর দেন।

আলোচনা সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন দ্য মিলেনিয়াম ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক ড. অভিনয় চন্দ্র সাহা, খান ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক মাহমুদা খাতুন, বিভিন্ন এনজিওর প্রতিনিধি, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক এবং খান ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তারা।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন