৫ হাজার ৪৯৩ জন চিকিৎসক নিয়োগের সিদ্ধান্ত

৫ হাজার ৪৯৩ জন চিকিৎসক নিয়োগের সিদ্ধান্ত

রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়নে পাবলিক সার্ভিস কমিশনের (পিএসসি) মাধ্যমে ৩ হাজার ৪৯৩ চিকিৎসক নিয়োগের সঙ্গে অতিরিক্ত আরও ২ হাজার চিকিৎসক নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। ওমান ও কাতার থেকে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আনা হলেও নতুন করে সৌদি আরব থেকে এলএনজি আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে উপদেষ্টা পরিষদের সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সভা শেষে বেইলি রোডের ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে বিষয়টি জানান পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন এবং পানিসম্পদ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। এসময় উপস্থিত ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম, উপপ্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার, অপূর্ব জাহাঙ্গীর, সহকারী প্রেস সচিব সুচিস্মিতা তিথি।

বিজ্ঞাপন

পিএসসির মাধ্যমে ৩ হাজার ৪৯৩ জন চিকিৎসক নিয়োগ প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে জানিয়ে সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, অতিরিক্ত হিসেবে আরও ২ হাজার চিকিৎসক নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এটার মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে গ্রামগঞ্জের মানুষেরা চিকিৎসা পায় না, তাদের জন্য পর্যাপ্ত চিকিৎসক যাতে নিশ্চিত করা যায়, এ জন্য সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

ওমান ও কাতার থেকে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আনা হলেও নতুন করে সরকার সৌদি আরব থেকে এলএনজি আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। তিনি বলেন, কয়েকদিন আগে জ্বালানি উপদেষ্টা (ফাওজুল কবির খান) সৌদি আরবে গিয়েছিলেন, সেখানে এরামকো (এলএনজি কোম্পানি) সঙ্গে কথা হয়েছে। তারা বাজারে যে দামে দেয়, তারচেয়ে কম দামে বাংলাদেশকে এলএনজি সরবারাহে সম্মত হয়েছে।

৮ আগস্ট উপদেষ্টা পরিষদ দায়িত্ব নেওয়ার পর ১৩৫ সিদ্ধান্তের মধ্যে ৯২টি সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হয়েছে জানিয়ে পরিবেশ উপদেষ্টা বলেন, সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের হার হচ্ছে ৬৮ দশমিক ১৬। যেটা বেশ ভালো।

বিপুল সংখ্যক প্রতিষ্ঠানের নাম বিশেষ পরিবারের নামে নামকরণ করা হয়েছিল জানিয়ে সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, আমরা দুটো প্রতিষ্ঠানের নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছি। বঙ্গবন্ধু বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ফেলোশিপ ট্রাস্ট আইন (সংশোধন) অধ্যাদেশ এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নভোথিয়েটার আইন থেকে বঙ্গবন্ধুর নাম বাদ দেওয়া হয়েছে।

মব জাস্টিস ও মোরাল পুলিশিং’য়ের সুযোগ দেশে নেই বলে জানিয়ে সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, সরকারের এটার বিরুদ্ধে সবসময় শক্ত অবস্থানে আছে। যেহেতু এখনো আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আগের অবস্থায় এখনো আমরা ফেরত আনতে পারিনি, আসেনি। সেক্ষেত্রে কোন কোন জায়গায় মব জাস্টিস এবং মোরাল পুলিশিংয়ের ঘটনা ঘটেছে। সরকারে অবস্থান স্পষ্ট এটার সুযোগ নেই। মোহাম্মদপুরের ঘটনা নিয়ে অনেক কথাবার্তা হয়েছে, এটার ব্যাপারে উভয় পক্ষ পুলিশের সামনে আপসনামায় স্বাক্ষর করেছে, তাই ওটাকে চূড়ান্ত বলে বিবেচনা করতে গণ্য করতে হচ্ছে। নারীর প্রতি সহিংসতা সরকার সমর্থন করে না।

একপ্রশ্নের জবাবে সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, মোহাম্মদপুরের ঘটনায় উভয়পক্ষই মনে করছে কথা কাটাকাটির একটপর্যায়ে ঘটেছে। এটাকে তারা অপরাধ হিসেবে নিচ্ছে না। উভয়পক্ষ মীমাংসা করে নিয়েছেন। আর এগুতো চাচ্ছে না।

মব জাস্টিসের সমাধান হচ্ছে না কেন এমন প্রশ্নে সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, এটা বন্ধে ব্যাপক প্রচারণা ও সচেতনতা তৈরি করতে হবে। অতীতে দলীয় সরকারের সময়েও মবজাস্টিস ও মোরাল পুলিশিংয়ের ঘটনা ঘটত। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যখন পূর্ণ উদ্যমে নেমে যাবে তখন এ সমস্যাটার মাত্রাটা কমে আসবে। কেউ মবজাস্টিসের মুখোমুখি হলে সরকার তার পাশে দাঁড়াবে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উত্তরণের সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতি আরও নিয়ন্ত্রণে আসবে।

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার পদত্যাগের দাবি প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা মহোদয় তার পদেই থাকছেন।

রেজওয়ানা

দেশে চাঁদাবাজি বন্ধে সরকারের উদ্যোগের বিষয়ে জানতে চাইলে সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, সরকার চাঁদাবাজি বন্ধে পদক্ষেপ নিবে এবং নিচ্ছে। কোন দল বা ব্যক্তি চাঁদাবাজি করল তা দেখবে না। কোন বিশেষ দলের প্রতি ইঙ্গিত করলে, সে প্রশ্ন তাদেরই করা যেতে পারে। কিন্তু সরকারের অবস্থান হচ্ছে চাঁদাবাজিসহ অন্য যেকোন অপরাধের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করছে।

এখনো আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসেনি, এক্ষেত্রে নির্বাচনী যেভাবে তৈরি হওয়ার দরকার তা হয়নি, তাহলে সরকারের ভাবনা কি এমন প্রশ্নে উপদেষ্টা বলেন, পুলিশ প্রশাসন কাঙিক্ষত মাত্রায় সাহস দেখিয়ে কাজ শুরু করতে পারেনি। কিন্তু তাদের উত্তোরণ হয়েছে। নির্বাচনে বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টা যেটা বলেছেন, তা আমরাও বলেছি, নির্বাচন ডিসেম্বর থেকে জুনের মধ্যে উনি একটা সময় বলেছেন, এ সময়টা কবে চূড়ান্ত হবে ওনার মুখ থেকেই শুনবেন।

নির্বাচন নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর বক্তব্য তাদের নিজস্ব উল্লেখ করে সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, এখানে আমাদের হ্যাঁ বা না বলার সুযোগ নেই কিংবা নিয়ন্ত্রণ করার সুযোগ নেই। প্রধান উপদেষ্টা বলেছেন ডিসেম্বর থেকে জুনের মধ্যে নির্বাচন হবে। উনিতো যখন নির্বাচনের কথা বলেন, তখনতো ডিসেম্বর বাদ দেন না, তা নিয়েই বলেন। ওনার মুখ থেকে নির্বাচনের চূড়ান্ত তারিখটা শোনার জন্য অপেক্ষা করেন। সরকারের প্রাধিকারের মধ্যে সংস্কার, নির্বাচন ও বিচার, তা ছাড়া দ্রব্যমূল্য, আইনশৃঙ্খলা যেকোন সরকারের প্রাধিকারের মধ্যে থাকে। রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে দৃশ্যমান বৈঠক তারিখ ঠিক হলে সবাই জানতে পারবেন। কিন্তু আলাপ-আলোচনা চলছে।

জাতীয় নাগরিক পার্টির গণপরিষদ নির্বাচন এবং বিএনপিসহ অন্য দলের জাতীয় নির্বাচন, এখানে সরকারের অবস্থানের বিষয়ে জানতে চাইলে সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, এখানে সরকারের অবস্থান নেওয়ার সুযোগ নেই। সরকার সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে কথা বলবে। নির্বাচন গণপরিষদ হবে, নাকি সংসদ, নাকি স্থানীয়, নাকি অন্য কিছু হবে এগুলো রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে কথা বলে সরকার ঐকমত্যের ভিত্তিতে করবে। এক একটা রাজনৈতিক দল একেক একেক ধরণের রাজনৈতিক কর্মসূচি দেয়। এটা সরকারের বিষয় না।

জুলাই ঘোষণাপত্রের তেমন অগ্রগতির হয়নি বলে জানিয়েছেন সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। তিনি বলেন, কিছু কিছু রাজনৈতিক দল তাদের মতামত পাঠিয়েছে, কিন্তু সব দল পাঠায়নি।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন