প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদে নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে চাকরিপ্রত্যাশীরা রাজধানীর নীলক্ষেত মোড় অবরোধ করেন।
শনিবার বেলা ১১টার দিকে পরীক্ষা শুরুর আগমুহূর্তে পরীক্ষাটি স্থগিত করা হয়।
পরীক্ষা দিতে আসা চাকরিপ্রত্যাশীরা জানান, হঠাৎ করেই স্থগিতের ঘোষণা আসায় তারা বিক্ষোভ শুরু করেন এবং নীলক্ষেত মোড়ে অবরোধ করেন।
রাজধানীর ইডেন মহিলা কলেজ কেন্দ্রে পরীক্ষা দিতে আসা এক চাকরিপ্রত্যাশী বলেন, আমরা পরীক্ষা কেন্দ্রে ঢোকার পর দেখি যে, নিয়ম অনুযায়ী পরীক্ষা শুরুর ১৫ মিনিট আগে প্রশ্ন পাওয়ার কথা এবং স্যারদের আসার কথা থাকলেও কেউ আসছিলেন না, আর আমাদের পরীক্ষার সময় শুধু পার হয়ে যাচ্ছিল। এ নিয়ে সবাই আমরা কনফিউজড ও উদ্বিগ্ন ছিলাম। পরবর্তী সময়ে বেলা ১১টায় পরীক্ষা হওয়ার কথা থাকলেও, যখন ১১টার সময়ও পরীক্ষা হচ্ছে না, তখন সবাই আমরা রুম থেকে বের হয়ে আসি। এর কিছুক্ষণ পর স্যাররা এসে জানান যে, পরীক্ষা হবে না।
আরেক চাকরিপ্রত্যাশী বলেন, পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস হয়েছে। আমরা পরীক্ষা দেওয়ার আগে থেকেই ফেসবুকে দেখতেছিলাম বিভিন্ন ধরনের প্রশ্ন, যা যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার প্রশ্ন বলে ঘুরছিল। দিন শেষে দেখলাম যে ওই প্রশ্নটাই ঘুরছিল। হঠাৎ করে পরীক্ষার আগমুহূর্তে বা এক দিন আগেও আমাদের কিছু জানানো হয়নি। তাছাড়া, অনেক শিক্ষার্থী ঢাকার বাইরে থেকে আসার কারণে তাদের দুই থেকে তিন হাজার টাকা খরচ হয়েছে, কেউ হোটেলে বা আত্মীয়ের বাসায় থেকেছেন। এটি ছাত্রসমাজের জন্য একটি বড় ভোগান্তি।
তিনি দাবি জানিয়ে বলেন, অন্যান্য পরীক্ষায় এই ধরনের প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনা সাধারণত দেখা যায় না। কিন্তু যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের পরীক্ষায় বারবার প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনা ঘটছে। এটার বিরুদ্ধে প্রতিকার পাওয়ার জন্যই ছাত্রসমাজ আজ এখানে আন্দোলনে নেমেছে।
উল্লেখ্য, ২৪২টি পদের এ পরীক্ষায় রাজধানীর প্রায় ১০০টি কেন্দ্রে পরীক্ষা হওয়ার কথা ছিল। এতে প্রায় তিন লাখের বেশি পরীক্ষার্থীর অংশগ্রহণের কথা ছিল। তবে পরীক্ষার আগের রাতে সম্ভাব্য প্রশ্নপত্র ফাঁসের গুরুতর অভিযোগ সামনে আসে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


