প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমান প্রথমবারের মতো আসন্ন জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনে ভাষণ দেবেন। এতে নির্বাচনি অঙ্গীকার অনুযায়ী সংস্কার কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি জুলাই গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী বাংলাদেশের জনগণের রাজনৈতিক ও সামাজিক অধিকার নিশ্চিতের প্রতিশ্রুতির কথা তুলে ধরবেন তিনি। এছাড়া ১৫ বছরের ফ্যাসিবাদী শাসনের সার্বিক চিত্রও তিনি উপস্থাপন করবেন বিশ্ববাসীর সামনে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আমার দেশকে এ তথ্য জানিয়েছেন।
জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনে বক্তব্য দেওয়ার পাশাপাশি জাতিসংঘ ও বাংলাদেশ সরকার আয়োজিত রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধান, জলবায়ু পরিবর্তন, সমুদ্রের উচ্চতা বৃদ্ধি, পরমাণু নিরস্ত্রীকরণসহ বিভিন্ন ইস্যুতে সাইডলাইন ইভেন্টে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী। এছাড়া ভুটান, পাকিস্তান, থাইল্যান্ড, সৌদি আরব, কুয়েত, কানাডাসহ বিভিন্ন দেশের সরকারপ্রধান ও হেড অব ডেলিগেশনের সঙ্গে সাইডলাইনে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন তিনি। ইউরোপীয় কমিশন, জাতিসংঘ, বিশ্বব্যাংকসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রধানদের সঙ্গেও মতবিনিময় করবেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী। এছাড়া রেওয়াজ অনুযায়ী মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেওয়া নৈশভোজেও অংশ নেবেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আগামী ২১ সেপ্টেম্বর ভোর ৫টা ৫০ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী ও তার সফরসঙ্গীরা ৮১তম জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিতে নিউ ইয়র্কের উদ্দেশে টার্কিশ এযারলাইনসে ঢাকা ছাড়বেন। তার সফরসঙ্গীর সংখ্যা ৩৫-এর নিচে থাকবে। প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গীদের মধ্যে ‘ফার্স্ট স্পাউস’ ডা. জুবাইদা রহমান, অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির ও শামা ওবায়েদ ইসলাম, ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকসহ পররাষ্ট্র ও অন্যান্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা রয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ২২ সেপ্টেম্বর সকালে জাতিসংঘ মহাসচিবের দেওয়া ব্রেকফাস্ট সংবর্ধনায় বিভিন্ন দেশের সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধানদের সঙ্গে অংশ নেবেন । একই দিন সন্ধ্যায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেওয়া নৈশভোজে অংশ নেবেন তিনি। ওই দিনই ভুটানের শেরিং তোবগের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী।
এরপর ২৩ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘ সদর দপ্তরে আয়োজিত ‘গ্লোবাল ইনইকোয়ালিটি ক্রাইসিস’ শীর্ষক হাইলেভেল সেশনে অংশ নেবেন। পরদিন ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে আনুষ্ঠানিকভাবে ভাষণ দেবেন তারেক রহমান। এবারের অধিবেশনটি বাংলাদেশের জন্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। এই অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী যখন প্রথমবারের মতো ভাষণ দেবেন, তখন অধিবেশনের সভাপতির আসনে থাকবেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। প্রধানমন্ত্রী তার ভাষণে জুলাই বিপ্লব-পরবর্তী নতুন বাংলাদেশের ভিশন এবং বিগত ১৫ বছরের ফ্যাসিবাদী দুঃশাসনের চিত্রও তুলে ধরবেন।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এই কর্মকর্তা প্রধানমন্ত্রীর ভাষণের সম্ভাব্য দিক সম্পর্কে আমার দেশকে জানান, প্রধানমন্ত্রী তার ভাষণে জুলাই-পরবর্তী বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে নিজের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরবেন। নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সংস্কার কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি বাংলাদেশের গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার বিষয়ে তার পরিকল্পনার কথা তুলে ধরবেন। জনগণের সামাজিক ও রাজনৈতিক অধিকার নিশ্চিতের প্রতিশ্রুতির কথাও তুলে ধরবেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে রোহিঙ্গা ইস্যুর পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তন এবং তার প্রভাবের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পাবে। এছাড়া প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘসহ অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো কার্যকর করার জন্য জোরালো আহ্বান জানাবেন। কারণ, বৈশ্বিক সংকট বৃদ্ধি পাওয়ার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো দিনদিন দুর্বল হয়ে পড়ছে। বাংলাদেশে নারীর ক্ষমতায়ন ও নারীশিক্ষার অগ্রগতির বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তুলে ধরবেন বলে কর্মকর্তারা জানান।
কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে, সাধারণ অধিবেশনের সাইডলাইনে ভুটানের প্রধানমন্ত্রী ছাড়াও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ, থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী আনুতিন চার্নভিরাকুল, কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি, হাইতির প্রধানমন্ত্রী আলিক্স দিদিয়ে ফিলস-আইমে, কুয়েতের যুবরাজ শেখ সাবা আল খালেদ আল সাবা, সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান, ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডের লেয়েন, জাতিসংঘ মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার তুর্ক, জাতিসংঘ শরণার্থীবিষয়ক হাইকমিশনার বারহাম সালেহি, বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট অজয় বঙ্গ, জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এবং কেপিসি গ্রুপের চেয়ারম্যান ড. কালী প্রদীপ চৌধুরীর সঙ্গে বৈঠক করবেন। প্রধানমন্ত্রীর এসব কর্মসূচিতে শেষ মুহূর্তে কিছু সংযোজন-বিয়োজনও হতে পারে।
প্রধানমন্ত্রীর কর্মসূচিতে ইতোমধ্যে কিছু কাটছাঁট করা হয়েছে। জাতিসংঘ অধিবেশনে যোগদান শেষে তার ক্যালিফোর্নিয়ার সান ফ্রান্সিসকো যাওয়ার যে পরিকল্পনা ছিল, তা বাতিল করা হয়েছে। এছাড়া প্রধানমন্ত্রীকে নিউ ইয়র্কে গণসংবর্ধনা দেওয়ার যে কর্মসূচি ছিল, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে সেটিও বাতিল করা হয়েছে। জাতিসংঘ অধিবেশনে যোগদান শেষে আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর ঢাকার উদ্দেশে রওনা হবেন প্রধানমন্ত্রী।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


