তাহসিফের মৃত্যু

ছায়া তদন্তে ইতি টানল পিবিআই

ছায়া তদন্তে ইতি টানল পিবিআই
তাহসিফ সাউরি

বিমান বাহিনীর বরখাস্ত ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তাহসিফ সাউরি হত্যা মামলার ছায়া তদন্ত থেকে নিজেদের গুটিয়ে নিয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। তারা বলছে মৃত্যুর রহস্য উদঘাটনে প্রয়োজন ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন। কিন্তু ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে মৃত্যুর কারণ উল্লেখ নাও থাকতে পারে। এতে এই মামলার ভবিষ্যৎ তদন্ত আরো জটিল হয়ে পড়বে। পিবিআইয়ের একাধিক কর্মকর্তা আমার দেশকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পিবিআইয়ের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা আমার দেশকে বলেন, তাহসিফ সাউরির লাশে কোথাও কোনো আঘাতের চিহ্ন ছিল না। তাই এটাকে হত্যাকাণ্ড বলা কঠিন। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে দরকার ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন। অনেক সময় আমরা দেখি ভিসেরা প্রতিবেদনে ‘মৃত্যুর কারণ অজ্ঞাত’ বা ‘মৃত্যুর প্রকৃত কারণ অনিশ্চিত’ লেখা থাকে। তাহসিফ সাউরির মৃত্যুর ক্ষেত্রে এরকম কিছু উল্লেখ থাকলে মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়বে।

বিজ্ঞাপন

নৌপুলিশের একজন কর্মকর্তা জানান, রিমান্ডে থাকা দুই আসামি তাহসিফের জুনিয়র বন্ধু আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপ ও বান্ধবী জেরিকা তাসনিম দিশাকে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। উত্তরার নেস্ট রেস্টুরেন্ট অ্যান্ড বারে মদপানের পর দিশাকে বাসায় পৌঁছে দিয়ে টঙ্গীর মাজার বস্তিতে যান তাহসিফ। ওই সময় দীপ সঙ্গে ছিল। তাহসিফ ও দীপ একই সঙ্গে বস্তিতে প্রবেশ করে। পরে দীপ ইজতেমা মাঠ থেকে বের হওয়ার সড়ক দিয়ে হেলমেট হাতে একা বেরিয়ে আসে। এ সময় তিনি টহল পুলিশের সামনে পড়েন।

তদন্ত কর্মকর্তারা জানান, বস্তিতে প্রবেশ ও দীপের বের হওয়ার ওই কয়েক মিনিটের মধ্যেই হত্যার রহস্য লুকিয়ে আছে। কিন্তু দীপ কোনোভাবেই ওই বিষয়ে মুখ খুলছে না। চতুরতার সঙ্গে এড়িয়ে যাচ্ছে তদন্ত কর্মকর্তাদের প্রশ্ন।

ইজতেমার মাঠে প্রবেশের সড়ক দিয়ে রাত ১টা ২১ মিনিটে দীপকে একা ওই এলাকা থেকে হেঁটে চলে যেতে দেখা যায়, যার প্যান্টে কাদামাখা ছিল। এরপর রাত ১টা ৩৫ মিনিটে তাহসিফের ফোন থেকে তার মায়ের কাছে একটি রহস্যময় ভয়েস মেসেজ আসে যে, ‘আমি বের হয়েছি, আসছি।’ রাত দেড়টার আশপাশে কোনো একসময়ে তাহসিফের মৃত্যু হয় বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তৃতীয় দফায় তিন দিনের রিমান্ডে দীপ

তাহসিফের মৃত্যুর ঘটনায় করা হত্যা মামলায় তার বন্ধু দীপকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তৃতীয় দফায় তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মনিরুল ইসলামের আদালত এ আদেশ দেয়।

এর আগে দ্বিতীয় দফা রিমান্ড শেষে আসামিকে হাজির করে আবারও সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গাজীপুরের টঙ্গী নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক ফিরোজ উদ্দিন। তৃতীয় দফা রিমান্ড আবেদনে উল্লেখ করা হয়, কেন এবং কী কারণে অত্র মামলার ভিকটিমকে হত্যা করা হয়েছে (যেমন—পূর্বশত্রুতা, আর্থিক লেনদেন, নাকি রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত কোন্দল) তা নিশ্চিত হওয়া, এ মামলায় হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত আলামত উদ্ধার করা, মূল পরিকল্পনাকারী ও সহযোগীদের তথ্য সংগ্রহ করা, এই হত্যার পেছনে অন্য কোনো মাস্টারমাইন্ড (মূল পরিকল্পনাকারী) ভাড়াটে খুনি বা সাহায্যকারী জড়িত রয়েছে কি না এবং তাদের পরিচয় ও অবস্থান নিশ্চিত করা, ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী বা সিসিটিভি ফুটেজের তথ্যের সঙ্গে আসামির জবানবন্দি মুখোমুখি জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে মিলিয়ে দেখা এবং অপরাধের ধরন ও প্রক্রিয়া সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করতে আসামিকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন।

গত ৩১ অক্টোবর প্রথম দফায় দীপের চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়। পরবর্তী সময়ে ৩ নভেম্বর দ্বিতীয় দফায় আরো তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়। এছাড়া গত ১ নভেম্বর এই মামলায় আরেক আসামি দিশার চার দিন ও গত ৪ নভেম্বর তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়। বর্তমানে তিনি রিমান্ডে রয়েছেন।

প্রসঙ্গত, ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যায় জুনিয়র বন্ধু দীপের ডাকে বাসা থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হন তাহসিফ। পরদিন ২৮ অক্টোবর বিকালে উত্তরখানের রাজাবাড়ি ঘাটের কাছে তুরাগ নদ থেকে তার লাশ উদ্ধার করে নৌপুলিশ। পরে তাহসিফের বাবা উত্তরখান থানায় অজ্ঞাতদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন। মামলাটি তদন্ত করছে নৌপুলিশ। আর মামলার ছায়া তদন্ত করে পিবিআই।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন